একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা, নুপুর, ও বাঁশরী কে অঙ্গের ভূষণ করিলেন ? এই চারিজন কি তপস্যা করিয়া পূর্ণব্রহ্ম নিরঞ্জনে অনায়াসে পাইল ৷
ব্রহ্মা বলিলেন — নারদ এই নিগুঢ় তত্ত্ব ব্যক্ত যোগ্য নয় ৷ তবে ভক্তিযোগে যে প্রভুর সাধক, পুণ্যবান , শুদ্ধমতি, সর্ব্ববিঘ্ন পরাজিত, জিতেন্দ্রিয় হইলে এই তত্ত্ব বলা উচিত ৷ তুমি কৃষ্ণ পরায়ন, জিতেন্দ্রিয়, শুদ্ধমতি, ভক্তিযোগ পূর্ণ ভাবে তোমাতে আছে ৷ সেই কারণে এই তত্ত্ব তোমাকে নিশ্চিত বলবো তবে কদাচিত অন্য জনে ব্যক্ত করিবে না ৷
পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের শক্তি হতে রাই, জন্মিলেন মহাদেবী যার পর নাই ৷ সর্ব্বলক্ষ্মীময়ী দেবী প্রভুর মহিষী, নিজ অংশে সৃজিলা ষোল সহস্ত্র রূপসী ৷ নিত্যসিদ্ধা সেই সব শুনেছ দিয়া মন, সমর্থারতিতে সদা মগ্ন নারায়ন ৷ যুবক রতিতে মগ্ন যুবতীর সনে, গোলক অবধি বিহরয়ে সর্ব্ব- জনে ৷ সকলের শ্রেষ্ঠ রাধা ঈশ্বর প্রেয়সি , ষোল সহস্রেক হল তার নিজ দাসী ৷ সমর্থারতিতে সবে ঈশ্বরে ভজিল, অতিশয় প্রিয় প্রভু প্রেম বাড়াইল ৷
দেখিয়া সকল প্রেম নির্জন বিহার, সূর্য চন্দ্র উথলিল প্রেম পারাবার ৷ রাধা প্রেমে মগ্ন হয়ে নিশা দিন পতি, সেই প্রেম ইচ্ছিয়া ঈশ্বরে করে স্তুতি ৷ সদাই শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গে অঙ্গ মিশাইয়া , থাকিব ইহাই মনে বাসনা করিয়া ৷ ক্ষীরোদ সমুদ্রে গিয়ে তপস্যা করিল , দেবমানে দ্বাদশ বৎসর বয়ে গেল ৷ করিল কঠোর তপ কি কহিব তায় ৷ হেঁট মাথা বাতাহার ঊর্দ্ধ দুই পায় ৷ চন্দ্র সূর্য তপ দেখি যতেক নির্জ্জরা, মহাভয়ে সকলে হইল দিশাহারা ৷ দেববৃন্দ লয়ে ইন্দ্র হংসধ্বজে কয় , রবি শশী ইন্দ্রত্ব লইবে মহাশয় ৷ তপস্যা করয়ে দোঁহে ব্রহ্মান্ডে অদ্ভুত , শুনি তপ ভঙ্গে ব্রহ্মা করিল বহুত ৷ অশেষ প্রকারে শক্তি করে দেবগন , কোনমতে নহিল সে তপস্যা ভঙ্গন ৷ দেখিয়া অদিতি সুত উন্মনা হইল , মহাতপ করি নারায়ণে জানাইল ৷ স্তবকরি বলে প্রভু শুনহ অচ্যুত, চন্দ্র-সূর্য তপস্যায় সবে ভয়যুত ৷ অমরে আশ্বাস দিয়া করিয়া অভয় , রবি শশী নিকটে গেলেন বিশ্বময় ৷ তপস্যা হইল পূর্ণ কহে নারায়ন ৷ অতঃপর বর মাগি লহ দুইজন ৷ শ্রীকৃষ্ণে দেখিয়া দোঁহে করিল প্রণতি , কৃতাঞ্জলি অষ্টাঙ্গ লোটয়ে পড়ি ক্ষিতি ৷
মনের মানস তবে কহে দুইজন , যদি প্রভু করিলেন কৃপাবলোকন ৷ শ্রীমতি যেমন তোমা হৃদিপরে ধরে , সেই মতো প্রেম প্রভু কর দোঁহা- কারে ৷ সতত লইব তব অঙ্গ সমীরন, এই বর কৃপা কর দেব নিরঞ্জন ৷ এতেক শুনিয়া তবে কমলার পতি , প্রসন্ন হইয়া কহে প্রভাকর প্রতি ৷ শুন ভানু তপস্যা করহ সম্ভরণ, এখন আমারে না পাইবে কদাচন ৷ দ্বাপরের সন্ধি যুগে অবতার হব , ব্রজ বৃন্দাবনে বহু বিহার করিব ৷ রাধা আদি এই ষোল সহস্র রমনী, জন্মিবে ব্রজেতে হয়ে গোপের নন্দিনী ৷ তাহা সবা লয়ে যবে বনে বিহরিব, তখন তোমারে আমি কন্ঠেতে ধরিব ৷ বৃন্দাবনে অপ্রকট নবগুঞ্জা হবে, গুঞ্জলতা হয়ে তুমি কুঞ্জ ঘেরি রবে ৷ পদ্মরাগ মণি বর্ণ হইবে তোমার, সেই গুঞ্জা লয়ে আমি বনাইব হার ৷ গুঞ্জামালা হয়ে তুমি হইবে স্ত্রীজাতি, কন্ঠেতে ধরিব তোমা শুন দিনপতি ৷ রাধার কি প্রেম ইচ্ছা করহ তপন, তোমা দেখি লুব্ধ হবে রাধিকার মন ৷ ত্রিভুবনে যতেক আছয়ে বধূচয়, নাগ নর গন্ধর্ব্ব কিন্নর সুরব্যয় ৷ তোমা দেখি সর্বজন মোহিত হইবে, বিপিনে সবার অঙ্গ মদনে জারিবে ৷ এক অংশে সূর্য্য তুমি হইবে উদয়, এক অংশে বৃন্দাবনে হবে গুঞ্জাময় ৷ কৃষ্ণ অবতারে মাত্র করিব ধারণ, তদন্তরে মোর আর নহিবে ভাজন ৷ ব্রজগোপী মনোবাঞ্ছা পুরাব যখন, তোমার মানস পুর্ণ হইবে তখন ৷ শুনি সূর্য্য আনন্দেতে আপনা পাসরে, বর লভি গেল তবে অমর নগরে ৷ এক অংশ গগনেতে করয়ে উদয়, এক অংশ বৃন্দাবনে গুঞ্জালতা হয় ৷ সেই গুঞ্জা লয়ে প্রভু গাঁথিলেন হার, গলেতে ধারণ কৈল ত্রিভুবন সার ৷
চন্দ্রেরে চাহিয়া তবে বলে বিশ্বময়, আর না তপস্যা কর কশ্যপ তনয় ৷ বৃন্দাবনে কাম্যবনে মথুরা মন্ডলে, তথায় যাইয়া জন্ম লহ শিখী কূলে ৷ স্ত্রী অংশ না হবে তুমি পুরুষ হইবে, শিখীপুচ্ছ উপরেতে বিরাজ করিবে ৷ চন্দ্রের আকার হবে সুনির্ম্মল অতি, অধঃ উর্দ্ধ বেষ্টিত যে অরুণ আকৃতি ৷ সূর্য হতে উচ্চপদ দিলাম তোমাকে, সেই পুচ্ছ লয়ে আমি ধরিব মস্তকে ৷ রত্নময় মুকুট যে শোভিবে মস্তকে, তাহার উপরে আমি ধরিব তোমাকে ৷ মস্তকে মোহন চূড়া তব নাম হবে, ত্রিভুবন মোহিত যে অপাঙ্গে হেরিবে ৷ যোগীন্দ্র মুনিন্দ্র যে ফনিন্দ্র ইন্দ্রজিৎ, দেবাসুরে নাগ নরে হইবে মুর্চ্ছিত ৷ স্থাবর জঙ্গম নদ নদী সরোবর, পশুপক্ষী আদি যে হেরিবে পুচ্ছবর ৷ তব রূপে মগ্ন হয়ে যত বধূচয়, সর্ব্বত্যাগী হইবে ত্যজিবে লজ্জা ভয় ৷ ব্রজ মন্ডলেতে কৃষ্ণ অবতার হব, তব পুচ্ছ চূড়া করি মস্তকে ধরিব ৷ কৃষ্ণ অবতারে মাত্র করিব ধারণ, আর অন্য অবতারে করিব বর্জ্জন ৷ একাংশে উদয় চন্দ্র করিবে গগনে, এক অংশে শিখিপুচ্ছ হবে বৃন্দাবনে ৷ শুনিয়া ত সুধাকর আনন্দ হইল, শিখিপুচ্ছ গ্রহকলা তখন জন্মিল ৷ সেইপুচ্ছ লয়ে প্রভু মদনমোহন, মুকুট অগ্রেতে হরি করিল ধারণ ৷ গুঞ্জামালা শিখিপুচ্ছ কহিলাম কথন বাঁশরী নূপুর তত্ত্ব করহ শ্রবণ ৷৷
বংশী ও নূপুরের তত্ত্ব কথা — মুরলী বলিয়া নাম আর যেই বেনু ৷ পূর্বে কহিলাম যাহা শঙ্করের ধনু ৷৷ অষ্টাঙ্গুলি হয় বেনু শোনহ মুনি ৷ দ্বাদশ অঙ্গুলি হয় শোভন মুরলী ৷৷ আছে বাজাই- বার যে সময় নির্ণয় ৷ শুন শুন কহি তাহা নারদ সুজন ৷৷ গোষ্ঠেতে গমন কালে চড়াইতে ধেনু ৷ সখা গণ মধ্যে প্রভু বাজাইল বেনু ৷৷ যশোদা রন্ধনকালে ভক্ষণ সময় ৷ তখন মুরলী ধ্বনি করে রসময় ৷৷ কামিনী মোহিল যবে কামিনী প্রয়াসী ৷ তখন বাজান প্রভু বিনোদিয়া বাঁশি ৷৷ বাঁশী রবে কুলবধু ত্যজে লজ্জা ভয় ৷ অষ্টাদশাঙ্গুলি বাঁশী শুন মহাশয় ৷৷ বেণু মুরলীর সঙ্গ না হয় বাঁশরী ৷ বাঁশী পূর্ব্ব তত্ত্ব শুন কহিব বিস্তারি ৷৷
সমর্থারতিতে রাধা ত্রিভুবন জিনি ৷ যার প্রেমে অধীন হইল চক্রপাণি ৷৷ নিরন্তর গোলকেতে রাধারে লইয়ে ৷ সখী সম্বোধনে থাকে ক্রীড়াযুক্ত হয়ে ৷৷ সদা রাধা তুষ্টি প্রেম আলিঙ্গন দানে ৷ মন মগ্ন থাকে রাধা কৃষ্ণ সুধা পানে ৷৷ রাধার সৌভাগ্য প্রেম দেখি সরস্বতী ৷ বিরহেতে বিষ্ণুপ্রিয়া খেদান্বিত অতি ৷৷ আপনাকে ধিক্ মানি বৈকুণ্ঠ ত্যজিল ৷ ক্ষীর সিন্ধু তীরে গিয়া তপ আরম্ভিল ৷৷ করয়ে কঠোর তপ শুনহে মুনি ৷ দেবমানে শতেক বৎসর মানি ৷৷ তপস্যাতে রত যদি সে বাকবাদিনী ৷ ত্রিভুবনে বাক্যহত হল যত প্রাণী ৷৷ ব্রজ ধ্বজ বায়ব্য বাস্তব বিধি যত ৷ বেদ বিধি পুরাণাদি তাল মান হত ৷৷ সকলে হইল বোবা প্রমাদ ঘটিল ৷ ত্রিভুবনে তপ জপ সব ভঙ্গ হৈল ৷৷ দেখিয়া দৈত্যারি তবে কৈল আগমন ৷ সারদা সম্মুখে দাঁড়াইল সনাতন ৷৷ অনেক প্রকারে তপ ভঙ্গ যে নহিল ৷ পাঞ্চজন্য শঙ্খ নাদ শ্রীবিষ্ণু করিল ৷৷ শঙ্খ রবে সারদার ধ্যান ভঙ্গ হয় ৷ সাক্ষাতে নাথেরে দেখি প্রণাম করয় ৷৷ গদগদ স্বরে তবে বলয়ে বচন ৷ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ কর কামিনী মোহন ৷৷ রাধার প্রেমের প্রেমী কর ভগবান ৷ অধর-অমৃত তব সদা করি পান ৷৷ আর কিছু নাহি চাহি শুন প্রান হরি ৷ ওই করপল্লব যেন সদা দেহে ধরি ৷৷ মানস বুঝিয়া বিষ্ণু বলিলা তখন ৷ কৃষ্ণ অবতারে হব নন্দের নন্দন ৷৷ অপ্রকট ব্রজলীলা ব্রজগোপী সনে ৷ তাতে তোমা বাঁশী করি করিব ধারণে ৷৷ অধর- অমৃত হেতু করিলে মানস ৷ অবিরত পান যে করিবে সুধা রস ৷৷ অগ্রে রস ভোগ তুমি সতত করিবে ৷ তব অবশেষ ভাগ রাধাদি পাইবে ৷৷ তপ ত্যজি এখন নিবস স্বর্গপুরে ৷ বাক্যহীন কন্ঠে গিয়া বৈস জীবাধারে ৷৷ এক অংশে বৈকুন্ঠে থাকিবে নিত্য সুখী ৷ আর অংশে বেনুবৃক্ষ গিয়া হবে বিধুমুখী ৷৷ বৃন্দাবনে যমুনা কুলেতে মধুবনে ৷ বেনুবৃক্ষ হয়ে জন্ম লইবে সেখানে ৷৷ যমুনা বারিতে সদা মূল ধৌত হবে ৷ সেই বৃক্ষ বেড়ি নানা পুষ্প বিকশিবে ৷৷ সৌরভেতে আমোদিত হবে তব তল ৷ ব্রম্মাদি দেবতা বাঞ্ছা করিবে সে স্থল ৷৷ অবতার হব যবে নন্দের ভবনে ৷ গোপাঙ্গনা সহ বিহরিব বৃন্দাবনে ৷৷ তাহে তব পর্ব্ব লয়ে করিব বাঁশরী ৷ সেই বাঁশী স্বরেতে মজিবে যত নারী ৷৷ স্ত্রীজাতি হইবে মোর, তৃপ্ত হবে মন ৷ প্রিয়া তুল্যা করি তোমা করিব ধারণ ৷৷ সদা করে করে তোমা করিব মর্দ্দন ৷ নিরন্তর আমার পাইবে আলিঙ্গন ৷৷ তোমার সুস্বরে হবে ব্রহ্মাদি মোহিত ৷ কাম ঘোরে কাহার না থাকিবে সম্বিত ৷৷ রাধা আদি অঙ্গনা শুনিয়া তব ধ্বনি ৷ উম্মত্তা হইয়া সবে লুটিবে ধরণী ৷৷ কূল শীল লাজ ভয় সকল মজাবে ৷ নিস্কামী যে জন তারে সকামী করিবে ৷৷ শুনিয়া সারদা তবে প্রফুল্ল হইল ৷ বিষ্ণুর চরন ধরি প্রণতি করিল ৷৷ বর লভি বিধুমুখী বৈকুন্ঠে চলিল ৷ দৃষ্টি মাত্র চরাচরে বাক্যস্ফূর্ত্তি হৈল ৷৷ কতদিন পরে দেবী অংশ নিয়োজিল ৷ মধুবনে আসি বেনুবৃক্ষ জনমিল ৷৷ হইল প্রবল বৃক্ষ যমুনার তীরে ৷ নিরন্তর মূল তার ধৌত হয় নীরে ৷৷ বৃন্দাবন বিহারী আনিয়া পর্ব্ব তার ৷ করিলা মোহন বাঁশী সংসারের সার ৷৷ অষ্টাদশ অঙ্গুলি যে বাঁশরী নির্ম্মাণ ৷ সে অন্ডকটাহ ভেদে যাহার নিশান ৷৷ কেবল শ্রীকৃষ্ণরূপে করে ধরে বাঁশী ৷ অন্য অবতারে ইহা নহে অভিলাষী ৷৷ জগতের চিন্তামণি যেই নারায়ণ ৷ যাহার যে বাঞ্ছা পূর্ণ করেন তখন ৷৷ বাঁশী উপাখ্যান করিলে শ্রবণ ৷ নুপুরের কথা এবে শুন দিয়া মন ৷৷
স্বয়ম্ভূব মনুপুত্র চন্দ্রকান্ত মনু ৷ সারদার তপে তার মগ্ন হল তনু ৷৷ সরস্বতী তপ দেখি চিন্তিত হৃদয় ৷ দুগ্ধ সমুদ্রেতে সেই তপস্যা করয় ৷৷ বিষম তাহার তপ হাজার বৎসর ৷ স্বর্গ মর্ত্য পাতাল কাঁপিল চরাচর ৷৷ তপস্যাতে স্থির নহে অনন্তের শির ৷ ঘন ঘন ভূমিকম্প পৃথিবী অস্থির ৷৷ ব্যস্ত হয়ে বসুন্ধরা ব্রহ্মলোকে গেল ৷ বিধিমতে পদ্মাসনে প্রণতি করিল ৷৷ গাভীমূর্ত্তি ধরি তবে সেই ত ধরণী ৷ ব্রহ্মা সহ তপ করে যথা চক্রপাণি ৷৷ পিতামহ পৃথিবীর তপ অনিবার ৷ জানিয়া বিদায় করে সংসারের সার ৷৷ যাহ যাহ আর নাহি করহ স্তবন ৷ অচিরেতে তব ভার করিব মোচন ৷৷ পৃথিবীরে পদ্মাসনে বিদায় করিয়া ৷ চন্দ্রকান্ত মনু কাছে উত্তরিল গিয়া ৷৷ উৎকট তপস্যা করে মনু বংশধর ৷ নহিল নহিবে হেন তপস্যা দুষ্কর ৷৷ বহু যত্ন কৈল প্রভু ধ্যান ভাঙ্গিবারে ৷ তপস্যা না টুটে তার না ভেদে অন্তরে ৷৷ তবে মনে যুক্তি করি ভক্তবৎসল ৷ শঙ্খধ্বনি বেদধ্বনি একত্রে করিল ৷৷ দুই শব্দ বিপুলে ত্রিপুর চমৎকার ৷ শুনি ধ্যান ভঙ্গ হৈল মনুর কুমার ৷৷ সম্মুখে জগৎময়ে দেখিয়া তখন ৷ কৃতাঞ্জলি করি বহু করিল স্তবন ৷৷ প্রসন্ন হইয়া তবে কহে গদাধর ৷ তপস্যা ত্যজিয়া মনোনীত চাহ বর ৷৷ চন্দ্রকান্ত বলে, যদি হৈলে কৃপাবান ৷ পাদপদ্ম যুগলে সতত দেহ স্থান ৷৷ বড় ভক্ত চন্দ্রকান্ত জানি নারায়ন ৷ তপস্যাতে কৈল সেহ পাষণ্ড দলন ৷৷ যুগল চরণ যদি বাঞ্ছা সে করিল ৷ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ তব শ্রীবিষ্ণু বলিল ৷৷ শুন শুন মনু আর না কর স্তবন ৷ মঞ্জীর হইয়া তুমি যাহ বৃন্দাবন ৷৷ যমুনা পুলিনে হ্রদ পদ্ম বিকশিত ৷ স্বর্ণখনি আছে তায় অতি সুশোভিত ৷৷ সেই খনি মধ্যে তুমি অতি গোপনেতে ৷ রতন নুপুর হয়ে রহগে ত্বরিতে ৷৷ কৃষ্ণ অবতারে আমি ভ্রমিব কানুন ৷ তোমা লয়ে পদযুগে করিব ধারণ ৷৷ জলক্রীড়া হেতু মোরা জলে যাব যবে ৷ সেই ক্ষণে তুমি মোর চরণে লাগিবে ৷৷ না চলিতে পদে তুমি আপনি বাজিবে ৷ তোমার ধ্বনিতে ত্রিভুবন মুগ্ধ হবে ৷৷ তোমার সৌভাগ্য সীমা কেহ না জানিবে ৷ ব্রহ্মাদি দেবতা তব অদৃষ্ট বাঞ্ছিবে ৷৷ তব ভাগ্য বাঞ্ছা করি পুরুষ প্রকৃতি ৷ ত্রিভুবনে খেদাগুনে (দুঃখের আগুনে) না পাবে নিষ্কৃতি ৷৷ চূরা গুঞ্জামালা আর বাঁশরী ভূষণে পরস্পর তব ভাগ্য ইচ্ছিবেক মনে ৷৷ এই কহিলাম নুপুরের বিবরণ ৷ সকলের শ্রেষ্ঠ তারে কৈল নারায়ন ৷৷ প্রভুর অভয় পদে রতন নূপুর ৷ প্রেমে পুলকিত হয়ে বাজয়ে মধুর ৷৷ পদামৃত পান করে হইয়া আহ্লাদ ৷ পূর্ণ সরোবরে যেন ফুটে কোকনদ ৷৷ চরণ পঙ্কজে মধু তায় মধুকর ৷ হয়ে মধু পান করে নুপুর প্রখর ৷৷ মধুপানে মত্ত হয়ে চরণ পংকজে ৷ না চলিতে চরণ আপনি সেই বাজে ৷৷ ত্রিভুবন মূর্ছা হয় শুনি তার নাদ ৷ বিরহী জনের হয় অতি পরমাদ ৷৷ গুঞ্জামালা আর যে মোহন বংশীবরে ৷ নূপুরের সৌভাগ্য সতত বাঞ্ছা করে ৷৷ মস্তকে মোহন চূড়া খেদান্বিত অতি ৷ সদা ইচ্ছা করে সেই নুপুরের গতি ৷৷ চরণের নুপুর দর্শন উপক্রমে ৷ মস্তকে থাকিয়া চূড়া সদা হেলে বামে ৷৷ গুঞ্জামালা চূড়াবাঁশী নুপুর কথন ৷ এই কহিলাম অপূর্ব বিবরণ ৷৷ কৃষ্ণ অবতারে মাত্র এ চারি ভূষণ ৷ দেখিয়া মূর্ছিত হল দেবাঙ্গনাগণ ৷৷ শ্রীকৃষ্ণ চরিত্র এই সুধার সাগর ৷ পুরান প্রমাণ কথা শুনে সাধু নর ৷৷
" জয় রাধে কৃষ্ণ "
