বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২

অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা ৷ অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের নিয়ম কি ? অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের কি ফল ?

 

 

     অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা = একদা ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির শতানীক মুনির নিকট ধর্মকথা শ্রবণ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, হে মহর্ষি প্রবর ৷ আপনার মুখে ইতোপূর্বে জলদানের মাহাত্ম্য শ্রবণ করিয়াছি, অধুনা পুনরায় উহা সবিস্তারে শ্রবণ করিতে বাসনা জন্মিয়াছে অতএব কৃপা পুরঃসর কীর্তন করুন ৷

           শতানীক বলিলেন পুরাকালে কর্কশভাষী ক্রোধী, নিষ্ঠুর,  ধর্ম-কর্ম ত্যাগী এক ব্রাহ্মণ ছিল ৷ একদা এক ব্রাহ্মণ ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে তার দ্বারে গিয়ে কিছু অন্ন আর জল প্রার্থনা করেন ৷ তাতে নিষ্ঠুর সেই ব্রাহ্মণ অত্যন্ত রেগে বললেন যাও যাও এখানে ও সব কিছু হবে না, তুমি এখনি এখান হতে দূর হয়ে যাও৷  আমার ঘরে ও সব কিছু নেই ৷ এই কথা শুনে সেই ক্ষুধার্থ ব্রাহ্মণ চিন্তা করতে লাগলেন তাইতো কি করি, কোথায় যাই ৷

       এমন সময় সেখানে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণের স্ত্রী সুমতি এসে হাজির হল ৷ সুমতি ছিল সতী-সাধ্বী আর ধর্ম পরায়ণা ৷ সে স্বামীকে বলল প্রভু ৷ ক্ষুধা তৃষ্ণার্ত অতিথি আসিয়া যদি তোমার গৃহ হইতে বিমুখ হইয়া প্রস্থান করে, তাহার বিষন্ন মুখ দেখিয়া যদি তোমার প্রাণে বেদনা অনুভূত না হয়, তাহলে এই ধন সম্পদ আর সংসার ধর্মের কি দরকার ? এই বলে সুমতি সেই ক্ষুধা কাতর ব্রাহ্মণকে বলল আপনি এই আসনে বসুন, আমি আপনাকে জল দিচ্ছি ৷ এই কথা বলে সেই সতীনারী ব্রাহ্মণকে পরিষ্কার শীতল জল দিল ৷ সেই দিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া ৷ তিথি মাহাত্ম্যে সেই জলদান অক্ষয় হয়ে গেল ৷ হে ধর্মরাজ বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথিটিই অক্ষয় তৃতীয়া ৷ এই দিন যে কর্মের অনুষ্ঠান করা হয় তাই অক্ষয় হয়ে যাবে ৷ এই তিথিতে জল দান করলে অন্তকালে বিষ্ণুলোকে তার চিরবাস হয় ৷

           এই ঘটনার পর ব্রাহ্মণের কালপূর্ণ হলো ৷ তখন যমদুতেরা এসে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণকে বেঁধে যমরাজের কাছে নিয়ে গেল ৷ তখন তৃষ্ণায় সেই ব্রাহ্মণের কন্ঠতালু শুকিয়ে গেছে ৷ তার উপর যমদুতদের উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে, সেই ব্রাহ্মণ বললো-হে ধর্মরাজ,  আমার প্রতি কি আদেশ হয় ? আমি ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়েছি  ৷

           যমরাজ তখন দুতগণকে বললেন একে তোমরা ত্যাগ কর ৷ এই ব্যক্তি খুব পুণ্যবান ৷ এর পত্নী বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়ায়একজন তৃষ্ণায় কাতর ব্রাহ্মণকে জলদান করেছিল ৷ এই কথা বলে ধর্মরাজ যম সেই ব্রাহ্মণকে বললেন-হে ব্রাহ্মণ তুমি গৃহে ফিরে যাও ৷ তোমার পত্নী বৈশাখের অক্ষয় তৃতীয়াতে জল দান করেছিল বলেই তোমার নরকবাস হলো না ৷ এই তিথীতে যে যা পুণ্য কাজ করে তা অক্ষয় হয়ে থাকে ৷ তখন ব্রাহ্মণ নরক মুক্ত হয়ে পরজন্মে পত্নীসহ জনার্দনের আরাধনা করে ব্রতের অনুষ্ঠান দ্বারা বৈকুণ্ঠে গমন করলেন ৷

           

               ব্রতের নিয়ম = গোটা কতক যব, একটি ভোজ্য, একটি তালপাতার পাখা, একখানি নতুন কাপড়, জলপূর্ণ একটি কলসি, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই ব্রত করিতে হয় ৷ যব দিয়া প্রথমে লক্ষী নারায়নের পূজা করিয়া ব্রাহ্মণকে ভোজ্য, জলপূর্ণ কলসী,  তালপাতার পাখা, গামছা বা নতুন কাপড় দান করিতে হয় ৷ পর পর আট বছর এই ব্রত পালন করিয়া উদযাপন করিবে ৷ উদযাপন বৎসরে প্রত্যেক জিনিস আটটি হিসাবে ব্রাহ্মণকে দান করিয়া সামর্থ মত দক্ষিণা দিবে ৷ ঐদিন যবের ছাতু খাইয়া দিন-রাত্রি কাটাইতে হয় ৷


              ব্রতের দ্রব্য = সিন্দুর, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগব্য, তিল, হরিতকী, ফুল, দূর্বা, তুলসী, বিল্বপত্র, ধুপ, দীপ, ধুনা, আসনাঙ্গুরীয় ২, মধুপর্ক বাটি ২, দধি, মধু, চিনি, ঘৃত, পূজার বস্ত্র ১ , শাড়ি ১ , নৈবেদ্য ২, কুচা নৈবেদ্য ১, সভোজ্য জলপূর্ণ ঘট ১, বস্ত্র ১, পাখা ১, দক্ষিণা সাধ্যমত ৷


            ব্রতের ফল = এই ব্রত আমাদের দেশে চির প্রচলিত ৷ এই ব্রতের ফলে ইহলোকে সর্বপ্রকার সুখের অধিকারী হইয়া মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠে বাস হয় ৷ স্ত্রী পুরুষ উভয়েরই এই ব্রত পালনের অধিকার আছে ৷

                                " শুভ অক্ষয় তৃতীয়া "

বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূর অষ্টোত্তর শতনাম ৷ ইহা পঠনে শ্রবনে কি ফল হয় ?


 

         কর মন গোরাপদ সার ৷  ভাবিয়া দেখহ মন সকলি অসার ৷৷               ধনপুত্র পরিবার সব মায়ারঙ্গ ৷   কি সুখ লাগিয়া বল কর তার সঙ্গ ৷৷          সব ছাড়ি গৌরহরি নামে কর মতি ৷  মহাসুখ পাবে যাবে সকল বিপত্তি ৷৷      কর্ম্মী জ্ঞানী সঙ্গ ছাড়ি সাধু সঙ্গে থাক ৷ কাঁদিয়া সদা গৌর বলে ডাক  ৷৷        সাধুসঙ্গে নিত্য কর গৌরলীলা গান ৷  তাঁর পদদ্বয় হৃদে সদা কর ধ্যান ৷৷      গোরাপদ ছাড়ি আন পদ নাহি ভজ ৷ নৈষ্টিক হইয়া মন গোরাপ্রেমে মজ ৷৷    যেই গোরা সেই কৃষ্ণ দৃঢ় করি জান ৷ এই সে পরমতত্ত্ব ইথে নাহি আন ৷৷       শ্রীগৌরাঙ্গপাদপদ্ম করিয়া স্মরণ ৷ গৌরাঙ্গের অষ্টোত্তর শতনাম             করিলাম রচন ৷৷

  

জয় জয় গৌরহরি শচীর নন্দন ৷ শ্রীচৈতন্য বিশ্বম্ভর পতিত - পাবন ৷৷               জয় মহাপ্রভু গৌরচন্দ্র দয়াময় ৷ অধমতারণ নাথ ভকত আশ্রয় ৷৷             জীবের জীবন গোরা করুণাসাগর ৷ জগন্নাথ মিশ্র সুত গৌরাঙ্গ সুন্দর ৷৷       প্রেমময় প্রেমদাতা জগতের গুরু ৷ শ্রীগৌর গোপালদেব বাঞ্ছাকল্পতরু ৷৷ নিত্যানন্দ ঠাকুরের মহানন্দ দাতা ৷ সর্ব্বাভীষ্ট পূর্ণকারী সর্ব্ব চিত্তজ্ঞাতা ৷৷   শ্রীগদাধরের প্রাণ অখিলের পতি ৷ লক্ষ্মীর সর্ব্বস্ব ধন অগতির গতি  ৷৷      শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ার নাথ নিত্যানন্দময় ৷ সর্ব্ব গুণনিধি সর্ব্ব রসের আলয় ৷৷       জগদানন্দের প্রিয় নবদ্বীপচন্দ্র ৷ অদ্বৈত আরাধ্য কৃষ্ণ পুরুষ স্বতন্ত্র ৷৷         বংশীর বল্লভ নবদ্বীপ সু-নাগর ৷ ভুবন বিজয়ী সর্ব্বজন মুগ্ধকর ৷৷            রসিকেন্দ্র চুড়ামণি রসিক সুঠাম ৷ ভক্তাধীন ভক্তপ্রিয় সর্ব্বানন্দ ধাম ৷৷      স্বরূপের সুখদাতা রূপের জীবন ৷ শ্রীসনাতনের নাথ নিত্য সনাতন ৷৷ শ্রীজীববৎসল প্রভূ ভকতবৎসল ৷ ভট্ট গোসাঞির প্রিয় দুর্ব্বলের বল ৷৷         শ্রীরঘুনাথের নাথ শ্রীবাসের বাস ৷ ভগবান্ ভক্তরূপ অনন্ত প্রকাশ ৷৷             লোকনাথ লোকাশ্রয় ভকতরঞ্জন ৷ শ্রীরঘুনাথ দাসের হৃদয়ের ধন ৷৷          অভিরাম ঠাকুরের সখা সর্বপাতা ৷ চিন্তামনি চিন্তানীয় হরিনাম দাতা ৷        পরমেশ পরাৎপর দুঃখবিমোহন ৷ জগাই মাধাই আদি-পাপীউদ্ধারণ ৷       রসরাজ মূর্ত্তি রামানন্দ বিমোহন ৷ সার্ব্বভৌম পণ্ডিতের গর্ব্ব বিনাশন ৷৷    অমোঘের প্রাণদাতা দুর্জ্জয় দলন ৷ পূর্ণকাম নির্ম্মলাত্মা লজ্জা নিবারণ ৷৷ পরমাত্মা সারাৎসার বৈষ্ণব জীবন ৷ সুখময় সুখদাতা ভুবন-ভাবন ৷৷         বিশ্বরূপ বিশ্বনাথ বিশ্ব বিমোহন ৷ শ্রীগৌরগোবিন্দ ভক্তচিত্ত সুরঞ্জন ৷৷        নয়নের অভিরাম ভাবুক রমণ ৷ ভক্ত-চিত্ত-চোর ভক্তচিত্ত বিনোদন ৷৷            নদীয়া বিহারী হরি রমণী মোহন ৷ দ্বিজকুলচন্দ্র দ্বিজকুল পূজ্যতম ৷৷            সুকবি শ্রীনিধি দক্ষ নয়নরঞ্জন ৷ বারেক আমার হৃদে দেহ শ্রীচরণ ৷৷            ভাবুক সন্ন্যাসী সব জীব নিস্তারক ৷ ভাবুকজনার সুখ দিতে সুনায়ক ৷৷ প্রতাপরুদ্রের অভিলাস পূর্ণকারী ৷ স্বরূপাদি ভক্তের সদা আজ্ঞাকারী ৷৷            পূর্ণ অবতার সার করুণানিদান ৷ পরম উদাস প্রভু মোরে কর ত্রাণ ৷৷             অনন্ত প্রভুর নাম অনন্ত মহিমা ৷ অনন্তাদি বেদে যাঁর দিতে নারে সীমা ৷৷   গৌরাঙ্গ মধুর নাম কর মন সার ৷ যাহা বিনে কলিযুগে গতি নাই আর ৷৷           যেই নাম সেই গোরা জানিহ নিশ্চয় ৷ নামের সহিত প্রভু সতত আছয় ৷৷         গৌর নাম হরিনাম একই যে হয় ৷ ভাগবত বাক্য এই মিথ্যা কভু নয় ৷৷             কর কর ওহে মন নাম সংকীর্তন ৷ পাপ তাপ দূরে যাবে পাবে প্রেমধন ৷৷        গৌর নাম কৃষ্ণ নাম অতি সুমধুর ৷ সদা আস্বাদয়ে যেই সে বড় চতুর ৷৷            শিব আদি যেই নাম সদা করে গান ৷ সে নামে বঞ্চিত হলে কিসে হবে ত্রাণ ৷৷


        এই শত অষ্ট নাম যে করে পঠন ৷ অনায়াসে পায় সেই চৈতন্য চরণ ৷৷  শত অষ্ট নাম যেই করয়ে শ্রবণ ৷ তার প্রতি সদা তুষ্ট শচীর নন্দন ৷৷          শ্রীজাহ্নবী রামপদ করিয়া শরণ ৷ শত অষ্ট নাম গায় এ শচী নন্দন ৷৷


                             " নিতাই গৌর সীতানাথ হরি হরি বল "


বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২

ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সহস্র নাম কি কি ? ইহা শ্রবনে বা পাঠে কি ফল হয় ?


       

          গরুড় পুরানে ভগবান হরিকে রুদ্র কহিলেন, হে প্রভূ জনার্দ্দন — মনুষ্য কোন মন্ত্র জপ করিলে ঘোর সংসার সাগর হইতে মুক্তি পাইতে পারে  ? সেই পরম জপ্য মন্ত্র আমার নিকট কীর্ত্তন করুন ৷ হরি বলিলেন, পরমব্রহ্ম, পরমাত্মা নিত্য, পরমেশ্বর বিষ্ণুকে সহস্র নাম দ্বারা স্তব করিলে মনুষ্য ভব সাগর হইতে পার পাইতে পারে ৷ এই স্তব পাঠে সর্ব্বপাপ বিনষ্ট হয় ৷ পবিত্র ও পরমজপ্য এই সহস্র নাম স্তব বলিতেছি, হে বৃষধ্বজ-তুমি অবহিত চিত্তে শ্রবন কর = 

               বাসুদেব, মহাবিষ্ণু, বামন, বাসব, বসু, বালচন্দ্রনিভ, বাল, বলভদ্র, বলাধিপ, বলিবন্ধন- কৃৎবেধা, বরেন্য, বেদবিৎ, কবি, বেদকর্ত্তা, বেদরূপ, বেদ্য, বেদপরিপ্লুত, বেদাঙ্গবেত্তা, বেদেশ, বলাধার, বলার্দ্দন, অবিকার, বরেশ, বরদ, বরুনাধিপ, বীরহা, বৃহৎ, বীর, বন্দিত, পরমেশ্বর, আত্মা, পরমাত্মা, প্রত্যগাত্মা, বিয়ৎ, পর, পদ্মনাভ, পদ্মনিধি, পদ্মহস্ত, গদাধর, পরম, পরভূত, পুরুষোত্তম, ঈশ্বর, পদ্মজঙ্ঘ, পুন্ডরীক, পদ্মমালাধর, প্রিয়, পদ্মাক্ষ, পদ্মগর্ভ, পর্জ্জণ্য, পদ্মসংস্থিত, অপার, পরমার্থ, পরাৎপর, প্রভূ, পন্ডিত, পন্ডিতপবিত্র, পাপমর্দ্দক, শুদ্ধ, প্রকাশরূপ, পবিত্র, পরিরক্ষক, পিপাসাবর্জ্জিত, পাদ্য, পুরুষ, প্রকৃতি, প্রধান, পৃথিবীপদ্ম, পদ্মনাভপ্রিয়প্রদ, সর্ব্বেশ, সর্ব্বগ, সর্ব্ব, সর্ব্ববিদ, সর্ব্বদ, পর, সর্ব্বজগদ্ধাম, সর্ব্বদর্শী, সর্ব্বভৃৎ, সর্ব্বানুগ্রহকৃৎ, দেব, সর্ব্বভূতরিদিস্থিত, সর্ব্বপ, সর্ব্বপূজ্য, সর্ব্বদেবনমস্কৃত, সর্ব্বজগন্মুল, সকল, নিস্কল, অনল, সর্ব্বগোপ্তা, সর্ব্বনিষ্ঠ, সর্ব্বকারনকারন, সর্ব্বধ্যেয়, সর্ব্বমিত্র, সর্ব্বদেবস্বরূপধ্বক, সর্ব্বাধ্যক্ষ, সুরাধ্যক্ষ, সুরাসুরনমস্কৃত, দুষ্টঘাতক, অসুরান্তক, সত্যপাল,সন্নাভ, সিদ্ধেশ, সিদ্ধবন্দিত, সিদ্ধসাধ্য, সিদ্ধসিদ্ধ, সিদ্ধসিদ্ধরিদীশ্বর,জগচ্ছরন্য, শ্রেয়, ক্ষেম, শুভকৃৎ, শোভন, সৌম্য, সত্য, সত্যপরাক্রম, সত্যস্থ, সত্যসঙ্কল্প, সত্যবিৎ, সত্যদ, ধর্ম্ম, ধর্ম্মী, কর্ম্মী, সর্ব্বকর্ম্মবিবজ্জিত, কর্ম্মকর্ত্তা, কর্ম্ম, ক্রিয়া, কার্য্য, শ্রীপতি, নৃপতি, শ্রীমান, সর্ব্বপতিবর্জ্জিত, দেবপতি, বৃষ্ণিপতি, হিরন্যগর্ভপতি, ত্রিপুরান্তপতি, পশুপতি,বসুপতি, ইন্দ্রপতি, বরুনপতি, বনস্পতিপতি, অনিলপতি, অনলপতি, যমপতি, কুবেরপতি, নক্ষত্রপতি, ওষধিপতি, বৃক্ষপতি, নাগপতি, অর্কপতি, দক্ষপতি, সুকৃতপতি, নৃপপতি, গন্ধর্ব্বপতি, অনুপতি, উত্তম, পর্ব্বতপতি, নদীপতি, দেবপতি, শ্রেষ্ঠ, কপিলপতি, লতাপতি, বীরুধপতি, মুনিপতি, সূর্য্যপতি, চন্দ্রপতি, শুক্রপতি, গ্রহপতি, রাক্ষসপতি, কিন্নরপতি, দ্বিজপতি, সরিৎপতি, সমুদ্রপতি, সরোবরপতি, ভূতপতি, বেতালপতি, কুষ্মান্ডপতি, পক্ষিপতি, পশুপতি, মহাত্মা, মঙ্গল, মেয়, মন্দর, মন্দরেশ্বর, মেরু, মাতা, প্রমান, মাধব, মনোবর্জ্জিত, মালাধর, মহাদেব, মহাদেবপুজিত, মহাশান্ত, মহাভাগ, মধুসুদন, মহাবীর্য্য, মহাপ্রাণ, মার্কন্ডেয়প্রবন্দিত, মায়াদ, মায়াবন্দ, মায়াবিবর্জ্জিত, মুনিস্তুত, মুনি, মৈত্র, মহানাস, মহাহনু, মহাবাহু, মহাদন্ত, মরনবিবর্জ্জিত, মহাবক্র, মহাত্মা, মহাকায়, মহোদর, মহাপাদ, মহাগ্রীব, মহামানী, মহামনাঃ, মহামতি, মহাকীর্ত্তি, মহারূপ, মহাসুর, মধু, মাধব, মহাদেব, মহেশ্বর, মখেজ্য, মখরূপী, মাননীয়, মখেশ্বর, মহাবাত, মহাভাগ, মহেশ, অতীতমানুষ, মানব, মনু, মানব প্রিয়ঙ্কর, মৃগ, মৃগপূজ্য, মৃগপতি, বুধপতি, বৃহস্পতিপতি, শনৈশ্চরপতি, রাহুপতি, কেতুপতি, লক্ষন, লক্ষ্মণ, লম্বোষ্ঠ, ললিত, নানালঙ্কারসংযুক্ত, নানাচন্দন- চর্চ্চিত, নানারসোজ্জলদ্বক্ত্র, নানাপুস্পোপশোভিত, রাম, রমাপতি, সভার্য্য, পরমেশ্বর, রত্নদ, রত্নহর্ত্তা, রূপী, রূপবিবর্জ্জিত, মহারূপ, উগ্ররূপ, সৌম্যরূপ, নীলমেঘনিভ, শুদ্ধ, কালমেঘনিভ, ধুম্রবর্ণ, পীতবর্ণ, নানারূপ, অবর্ণক, বিরূপ, রূপদ, শুক্লবর্ণ, সর্ব্ববর্ণ, মহাযোগী, যজ্ঞ, যজ্ঞকৃৎ, সুবর্ণো, বর্ণবান, সুবর্ণাস্য, সুবর্ণা, বয়ব, সর্ব্ববর্ণ, সুবর্ণ, স্বর্ণমেখল, সুবর্ণপ্রদাতা, সুবর্ণাংশ, সুবর্ণপ্রিয়, সুবার্নাঢ্য, সুপর্ণা, মহাপর্ণ, সুপর্ণকারণ, বৈনতেয়, আদিত্য, আদি, আদিকর, শিব, মহৎকারণ, পুরাণকারন, বুদ্ধিকারণ, মনঃকারণ, চিত্তকারণ, অহঙ্কারকারণ, ভূতকারণ, বিভাবসুকারণ, আকাশকারণ, পৃথিবী- কারণ, অন্তকারণ, প্রকৃতিকারণ, দেহকারণ, চক্ষুঃকারণ, শ্রোত্রকারণ, ত্বককারণ, জিহ্বাকারণ, ঘ্রাণকারণ, হস্তদ্বয়কারণ, পাদদ্বয়কারণ, বাক্য - কারণ, পায়ুকারণ, ইন্দ্রকারণ, কুবেরকারণ, যম- কারণ, ঈশানকারণ, যক্ষকারণ, রাক্ষসকারণ, ভূষণকারণ, ধর্ম্মকারণ, জন্তুকারণ, বসুকারণ, পরমকারণ, মনুকারণ, পক্ষিকারণ, মুনিকারন, শ্রেষ্ঠকারণ, যোগীকারণ, সিদ্ধগনকারণ, যক্ষগন- কারণ, কিন্নরগনকারণ, গন্ধর্ব্বগণকারণ, নদকারণ, সমুদ্রকারণ, বৃক্ষগনকারণ, বীরুধ- কারণ, লোককারণ, পাতালকারণ, দেবকারণ, সর্পগনকারণ, মঙ্গলকারণ, পশুগনকারণ, সর্ব্ব- কারণ, দেহাত্মা, ইন্দ্রিয়াত্মা, আত্মাবুদ্ধি, মন-আত্মা, অহঙ্কারাত্মা, চেতআত্মা, জাগ্রদাত্মা, স্বপ্নাত্মা, মহাত্মা, পরাত্মা, প্রাধানাত্মা, পরমাত্মা, আকা- শাত্মা, জলাত্মা, পৃথিব্যাত্মা, পরমাত্মা, রসাত্মা, গন্ধাত্মা, পরমাত্মা, রূপাত্মা, পরাত্মা, শব্দাত্মা, বাগাত্মা, স্পর্শাত্মা, পুরুষাত্মা, শ্রোত্রাত্মা, ত্বগাত্মা, জিহ্বাত্মা, ঘ্রাণত্মা, হস্তাত্মা, পাদাত্মা, উপস্থাত্মা, পায্বাত্মা, ইন্দ্রাত্মা, ব্রহ্মাত্মা, রুদ্রাত্মা, মনআত্মা, দক্ষাত্মা, সত্যাত্মা, ঈশাত্মা, পরমাত্মা, রৌদ্রাত্মা, মোক্ষবিদ, যতি, যত্নবান, যত্ন, চর্ম্মী, খড়্গী, অনুরান্তক, হ্রীপ্রবর্ত্তনশীল, যতিহিতরত, যতিরূপী, যোগী, যোগিধ্যেয়, হরি, শিতি, সংবিৎ, মেধা, কাল, উস্মা, বর্ষা, মতি, সংবৎসর, মোক্ষকর, মোহ- প্রধ্বংসক, দুষ্টমোহকর্ত্তা, মান্ডব্য, বড়বামুখ, সম্বর্ত্তক, কালকর্ত্তা, গৌতম, ভৃগু, অঙ্গিরাঃ, অত্রি, বসিষ্ঠ, পুলহ, পুলস্ত্য, কুৎস, যাজ্ঞবল্ক্য, দেবল, ব্যাস, পরাশর, শর্ম্মদ, গাঙ্গেয়, ঋষিকেশ, বৃহচ্ছ্রবা, কেশব, ক্লেশহন্তা, সুকর্ণ, কর্ণ বর্জিত, নারায়ণ, মহাভাগ, প্রানপতি, অপানপতি, ব্যানপতি, উদানপতি, সমানপতি, শব্দপতি, স্পর্শপতি, রূপপতি, ক্ষপতি, আদ্য, খড়্গপানি, হলায়ধ, চক্রপানি, কুন্ডলী, শ্রীবৎসাঙ্ক, প্রকৃতি, কৌস্তুভগ্রীব, পীতাম্বরধর, সুমুখ, দুর্ম্মুখ, মুখবিবর্জ্জিত, অনন্ত, অনন্তরূপ, সুনখ, সুরসুন্দর, সুকলাপ, বিভু, জিষ্ণু, ভ্রাজিষ্ণু, ইষুধী, হিরন্যকশিপুহন্তা, হিরন্যাক্ষ বিমর্দ্দক, পুতনানিহন্তা, ভাস্বরান্তবিনাশন, কেশিদলন, মুষ্টিক বিমদ্দক, কংসদানবভেত্তা, চানুরপ্রমর্দ্দক, অরিষ্টনিহন্তা, অক্রুরপ্রিয়, অক্রুর, ক্রুররূপ, অক্রুরপ্রিয়বন্দিত, ভগহা, ভগবান, ভানু, ভাগবত, উদ্ধব, উদ্ধবেশ, উদ্ধবচিন্তিত, চক্রধৃক, চঞ্চল, চলাচলবিবজ্জিত, অহঙ্কার, মতি, চিত্ত, গগন, পৃথিবী, জল, বায়ু, চক্ষুঃ, শ্রোত্র, জিহ্বা, ঘ্রান, বাক, পাণি, পাদ, জঘন, পায়ু, উপস্থ, শঙ্কর, খর্ব্ব, খান্তিদ, ক্ষান্তিকৃৎ, নর, ভক্তপ্রিয়, ভর্ত্তা, ভক্তিমান, ভক্তিবর্দ্ধন, ভক্তস্তুত, ভক্তপর,কীর্ত্তিদ, কীর্ত্তিবর্দ্ধন, কীর্ত্তি, দীপ্তি, ক্ষমঃ, কান্তি, ভক্তি, দয়া, দান, দাতা, কর্ত্তা, দেবদেবপ্রিয়, শুচি, শুচিমান, সুখদ, মোক্ষ, কাম, অর্থ, সহস্রপাৎ, সহস্রশীর্ষা, বৈদ্য, মোক্ষদ্বার, প্রজাদ্বার, সহস্রান্ত, সহস্রকর, শুক্র, সুকিরীটী, সুগ্রীব, কৌস্তভ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ, হয়গ্রীব, শূকর, মৎস্য, পরশুরাম, প্রহ্লাদ, বলি, শরণ্য, নিত্য, বুদ্ধ, মুক্ত, শরীরভৃৎ, খরদূষণহন্তা, রাবনপ্রমর্দ্দন, সীতাপতি, বর্দ্ধিষ্ণু, ভরত, কুম্ভনিহন্তা, ইন্দ্রজিন্নিহন্তা, কুম্ভকর্ণ- প্রমর্দ্দন, নরান্তকান্তক, দেবান্তকবিনাশন, দুষ্টাসুরনিহন্তা, শম্বরারি, নরকনিহন্তা, ত্রিশীর্ষবিনাশন, যমলা- র্জ্জুনভেত্তা, তপোহিতকর, বাদিত্র, বাদ্য, বুদ্ধ, বরপ্রদ, সার, সাবপ্রিয়, সৌর, কালহন্তা, নিকৃন্তন, অগস্তি, দেবল, নারদ, নারদপ্রিয়, প্রান, অপান, ব্যান, রজঃ, সত্ত্ব, তমঃ, শরৎ, উদান, সমান, ভেষজ, ভিষক, কূটস্থ, স্বচ্ছরূপ, , সর্ব্বদেহ- বিবর্জ্জিত, চক্ষুরিন্দ্রিয়হীন, বাগিন্দ্রিয়বিহীন, পাদদ্বয়বিবর্জ্জিত, পায়ুবিহীন, উপস্থবিহীন, মহাতপোবিবর্জ্জিত, প্রবোধবিহীন, বুদ্ধিবিবর্জ্জিত, চেতোবিহীন, প্রাণবিবর্জ্জিত, অপানবিহীন, ব্যান-বিবর্জ্জিত, উদানবিহীন, সমানবিবর্জ্জিত, আকাশ- বিহীন, বায়ুপরিবর্জ্জিত, অগ্নিবিহীন, উদক-  বিবর্জ্জিত, পৃথিবীবিহীন, শব্দবিবর্জ্জিত, স্পর্শ- বিহীন, সর্ব্বরূপবিবর্জ্জিত, রাগবিগত, অঘপরি- বর্জ্জিত, শোকরহিত, বচোবর্জ্জিত, রজোবর্জ্জিত, ষড়বিকাররহিত, কামবর্জ্জিত, ক্রোধপরিবর্জ্জিত, লোভবিগত, দম্ভবিবর্জ্জিত, সুসূক্ষ্ম, স্থুলাৎস্থুলতর, বিশারদ, বলাধ্যক্ষ, সর্ব্বক্ষোভক, সর্ব্বাধ্যক্ষ, অর্ভক, প্রকৃতিক্ষোভক,মহৎক্ষোভক, ভূতক্ষোভক, বুদ্ধিক্ষোভক, ইন্দ্রিয়ক্ষোভক, বিষয়ক্ষোভক, ব্রহ্ম- ক্ষোভক, রুদ্রক্ষোভক, চক্ষুরাদ্যগম্য, শ্রোত্রাগম্য, ত্বগগম্য, কূর্ম্ম, জিহ্বাগ্রাহ্য, ঘ্রাণেন্দ্রিয়াগম্য, বাগ- গ্রাহ্য, হস্তদ্বয়াগম্য, পাদাগম্য, মনোহগ্রাহ্য, বুদ্ধ্য- গ্রাহ্য, হরি, অহংবুদ্ধিগ্রাহ্য, চেতোগ্রাহ্য, শঙ্খপাণি, অব্যয়, গদাপাণি, শার্ঙ্গপাণি, কৃষ্ণ, জ্ঞানমুর্ত্তি, পরন্তপ, তপস্বী, জ্ঞানগম্য, জ্ঞানী, জ্ঞানবিদ, জ্ঞেয়, জ্ঞেয়হীন, জ্ঞপ্তি, চৈতন্যরূপধৃক, ভাব, ভাব্য, ভবকর, ভাবন, ভবনাশন, গোবিন্দ, গোপতি,  গোপ, সর্ব্বগোপীসুখপ্রদ, গোপাল, গোমতি, গোধর, উপেন্দ্র, নৃসিংহ, শৌরি, জনার্দ্দন, আরণের, বৃহদ্ভানু, বৃহদ্দীপ্ত, দামোদর, ত্রিকাল, কালজ্ঞ, কালবর্জ্জিত, ত্রিসন্ধ্যা, দ্বাপর, ত্রেতা, প্রজাদ্বার, ত্রিবিক্রম, বিক্রম, দন্ডহস্ত, একদন্ডী, ত্রিদন্ডধৃক, সাম, ভেদ, উপায়, সামরূপী, সামগ, সামবেদ, অথর্ব্ব, সুকৃত, সুখরূপধৃক, অথর্ব্ববেদবিদ, অথর্ব্বাচার্য্য, ঋগ্রুপী, ঋগ্বেদ, ঋগ্বেদ প্রতিষ্ঠিত, যজুর্ব্বেত্তা, যজুর্ব্বেদ, যজুর্ব্বেদবিদ, একপাৎ, বহুপাৎ, সুপাৎ, সহস্রপাৎ,চতুস্পাৎ, দ্বিপাৎ, স্মৃতি, ন্যায়, যম, যমী, , সন্ন্যাসী, সন্ন্যাস, চতুরাশ্রম, ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ, ভিক্ষুক, ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র, বর্ণ, শীলদ, শীলসম্পন্ন, দুঃশীল পরিবর্জ্জিত, মোক্ষ, অধ্যাত্ম- সমাবিষ্ট, স্তুতি, স্তোতা, পূজক, পূজ্য, বাক্ কারণ, বাচ্য, বাচক, বেত্তা, ব্যাকরণ, বাক্য, বাক্যবিৎ, বাক্যগম্য, তীর্থবাসী, তীর্থ, তীথী, তীর্থবিৎ, তীর্থাদিভূত, সাংখ্য, নিরুক্ত, অধিদৈবত, প্রনব, প্রণবেশ, প্রনব প্রবন্দিত, প্রনবলক্ষ্য, গায়ত্রী, গদাধর, শালগ্রামনিবাসী, শালগ্রাম, জলশায়ী, যোগশায়ী, শেষশায়ী, কুশেশয়, মহীভর্ত্তা, কার্যকারন, পৃথিবীধর, প্রজাপতি, শাশ্বত, কাম্য, কাময়িতা, বিরাট্ , পুষা, সম্রাট, স্বর্গ, পথস্থ, সারথি, রথ, ধনী, ধনপ্রদ, ধন্য, যাদবহিতেরত, অর্জ্জুনপ্রিয়, অজ্জুন, ভীমপরাক্রম, দুর্ব্বিসহ, সর্ব্বশাস্রবিশারদ, সারস্বত, মহাভীস্ম, পারিজাতহর, অমৃতপ্রদাতা, ক্ষীরোদ, ক্ষীর, ইন্দ্রাত্মজ, ইন্দ্রাত্মজ-গোপ্তা, গোবর্দ্ধনধর, কংসনাশন, হস্তিপ, হস্তিনাশন, শিপিবিষ্ট, প্রসন্ন, সর্ব্বলোকার্ত্তিনাশন, মুদ্রা, মুদ্রাকর, সর্ব্বমুদ্রাবিবর্জ্জিত, দেহী, দেহস্থিত, দেহনিয়ামক, শ্রোতা, শ্রোত্রনিয়ন্তা, শ্রোতব্য, শ্রবন, ত্বক স্থিত, স্পর্শয়িতা, স্পৃশ্য, স্পর্শন, চক্ষুঃস্থ, রূপদ্রষ্টা, চক্ষুনিয়ন্তা, দৃশ্য, জিহ্বাস্থ, রসজ্ঞ, নিয়ামক, ঘ্রানস্থ, ঘ্রাণকৃৎ, জ্ঞাতা, ঘ্রাণেন্দ্রিয়নিয়ামক, বাকস্থ, বক্তা, বক্তব্য, বচন, বাঙ্ নিয়ামক, প্রাণিস্থ, শিল্পকৃৎ, শিল্পহস্তদ্বয়নিয়ামক, পদব্য, গন্তা, গন্তব্য, গমন, পাদদ্বয়- নিয়ন্তা, পাদ্যভাক, বিসর্গকৃত, বিসর্গনিয়ন্তা, উপস্থস্থ, সুন, উপস্থনিয়ন্তা, আনন্দকর, শত্রুঘ্ন, কার্ত্তবীর্য্য, দত্তাত্রেয়, অলর্কহিত, কার্ত্তবীর্য্যনিকৃন্তন, কাল- নেমি, মহানেমি, মেঘ, মেঘপতি, অন্নপ্রদ, অন্নরূপী, অন্নাদ, অন্নপ্রবর্ত্তক, ধূমকৃৎ, ধূমরূপ, দেবকীপুত্র, উত্তম, দেবকীনন্দন, নন্দ, রোহিনীপ্রিয়, বসুদেব- প্রিয়, বসুদেবসুত, দুন্দুভি, হংসরূপ, হাসরূপ, পুস্পহাস, অট্টহাস, অট্রহাসপ্রিয়, সর্ব্বাধ্যক্ষ, ক্ষর, অক্ষর, অচ্যুত, সত্যেশ, সত্যাপ্রিয়, বর, রুক্ষ্মিণীপতি, রুক্ষ্মিণীবল্লভ, গোপীবল্লভ, পুণ্যশ্লোক, বিশ্রুত, বৃষাকপি, যম, গুহ্য, মঙ্গল, বুধ, রাহু, কেতু, গ্রহ, গ্রাহ, গজেন্দ্রমুখমেলক, গ্রাহবিনিহন্তা, গ্রামণী, রক্ষক, কিন্নর, সিদ্ধ, ছন্দঃ, স্বচ্ছন্দ, বিশ্বরূপ, বিশালাক্ষ, দৈত্যসুদন, অনন্তরূপ, ভূতস্থ, দেবদানবসংস্থিত, সুষুপ্তিস্থ, সুষুপ্তি, স্থান, স্থানান্ত, জগৎস্থ, জাগর্ত্তা, স্থান, জাগরিত, স্বপ্নস্থ, স্বপ্নবিৎ, স্বপ্ন, স্থানস্থ, সুস্থ, জাগ্রৎস্বপ্নসুষুপ্তিবিহীন, চতুর্থক, বিজ্ঞান, চৈত্ররূপ, জীব, জীবয়িতা, ভূবণাধিপতি, ভূবননিয়ামক, পাতালবাসী, পাতাল, সর্ব্বজ্বরবিনাশন, পরমানন্দরূপী, ধর্ম্মপ্রবর্ত্তক, সুলভ, দুর্লভ, প্রানায়ামপর. প্রত্যাহার, ধারক, প্রত্যাহারকর, প্রভা, কান্তি, অর্চ্চিঃ, শুদ্ধ, স্ফটিকসন্নিভ, অগ্রাহ্য, গৌর, সর্ব্ব, শুচি, অতিষ্টুত, বষট্ কার, বষট, বৌষট, স্বধা, স্বাহা, রতি, পক্তা, নন্দয়িতা, ভোক্তা, বোদ্ধা, ভাবয়িতা, জ্ঞানাত্মা, উহাত্মা, ভূমা, সর্ব্বেশ্বরেশ্বর, নদী, নন্দী, নন্দীশ, ভারত, তরুনাশন, চিদ্রুপ, শ্রীপতি, চক্রবর্ত্তি-রাজা, সর্ব্বদেবেশ, দ্বারকাসংস্থিত, পুস্কর, পুস্করাধ্যক্ষ, পুস্করদ্বীপ, ভরত, জনক, জণ্য, সর্ব্বাকারবিবর্জ্জিত, নিরাকার, নির্নিমিত্ত, নিরাতঙ্ক, নিরাশ্রয় ৷৷

             হে বৃষধ্বজ ! তোমার নিকট দেবদেব, জগদীশ্বর বিষ্ণুর সর্ব্ব- পাপবিনাশন সহস্রনাম, কীর্ত্তিত হইল ৷ এই সহস্রনাম পাঠ করিলে , ব্রাহ্মন বিষ্ণুত্ব, ক্ষত্রিয় জয়, বৈশ্য ধন এবং শুদ্র সুখ লাভ করে  ও বিষ্ণুভক্তি সমন্বিত হয় ৷৷ 

                             " জয় বিষ্ণু "

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২

রাধা কুন্ড ও শ্যাম কুন্ডের আবির্ভাব বা উৎপত্তি কিভাবে ? এই দুই কুন্ডে স্নান করলে কি ফল হয় বা এদের মাহাত্ম্য কি ?


 

             বৃষরূপি অরিষ্টাসুর বধের পরে ভগবান শ্রীশ্যামসুন্দর যখন গোপাঙ্গনাগনের সঙ্গে মিলিত হলেন তখন তাঁরা রহস্যপূর্ব্বক বললেন তোমার সঙ্গে আজ আমরা মিলিতে ইচ্ছা করি না ৷

       শ্রীকৃষ্ণ বললেন— হে গোপাঙ্গনাগণ ৷ কেন তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হইতে ইচ্ছা কর না ?

         শ্রীরাধা ঠাকুরাণী বললেন— হে দামোদর ৷ হে পুতনা ঘাতন ৷ তুমি বৃষাসুর বধ করিয়াছ এই হেতু ৷

         কৃষ্ণ বললেন— সে তো মহা অসুর ৷

         রাধারানী বললেন— অসুর হলেও বৃষের আকৃতী  যেমন বৃত্রাসুর অসুর হলেও তার বধে ইন্দ্রের ব্রাহ্মন হত্যা পাপ হয়েছিল ৷ তাইজন্য তোমার গো-হত্যা পাপ হয়েছে ৷

    কৃষ্ণ বললেন-- এখন এই পাপ থেকে উদ্ধারের উপায় কি করব ?

    রাধা বললেন-- ত্রিভূবনের সর্বতীর্থে স্নান করলে পাপ যাবে ৷

    কৃষ্ণ বললেন-- তাহলে আমি তীর্থ স্নান করতে চললাম ৷

     রাধা বললেন-- আমাদের সামনে স্নান করতে হবে ৷

      কৃষ্ণ তখন দক্ষিন চরণের পদাঘাতে এক কুন্ড খনন করলেন এবং সমস্ত তীর্থগণকে তথায় অহবান করলেন, প্রভূর স্মরণ মাত্র সমস্ত তীর্থ আগমন করলেন ৷ তথা স্ব স্ব নাম উচ্চারণ পূর্ব্বক ঐ কুন্ডে প্রবেশ করতে লাগলেন ৷ কৃষ্ণ তখন গোপাঙ্গনাগণকে তাহা সাক্ষাত ভাবে দেখালেন ৷ 

         অনন্তর শ্রীকৃষ্ণ সেই কুন্ডজলে স্নান করবার পর গোপাঙ্গনাগণকে বললেন— হে ব্রজদেবীগণ ! তোমরাও এই পবিত্র তীর্থ জলে স্নান কর ৷ শ্রীকৃষ্ণের এরূপ নর্মালাপ শুনে গোপীগণ বললেন তোমার দেহস্থিত গো হত্যা পাপ উহাতে প্রবেশ করেছে অতএব ঐ জল আমরা স্পর্শ করব না ৷ আমরা স্বয়ং কুন্ড খনন করে তাতে স্নান করব ৷

    অতঃপর শ্রীরাসেশ্বরী শ্রীরাধা ঠাকুরানী সখীগণ সঙ্গে বিবিধ মন্ত্রনা করবার পর স্বয়ং শ্রীচরণ আঘাতে এক কুন্ড নির্মাণ করলেন এবং ঐ কুন্ড স্বর্গ গঙ্গা মন্দাকিনীর জল দ্বারা পূর্ণ করতে মনস্থ করলেন ৷ শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের মনোভাব বুঝে বললেন- হে ব্রজদেবীগণ ৷ আমার কুন্ডের পবিত্র জলে ঐ কুন্ড পূর্ণ কর ৷ গোপীগণ বললেন— না না না তোমার কুন্ডের জল আমরা স্পর্শ করব না ৷ উহাতে গোহত্যা পাপ রয়েছে ৷ শ্রীরাধা ঠাকুরানী বলেন-- আমার ত শতকোটি গোপী আছে, স্বর্গ-গঙ্গা থেকে এক এক কলসী জল এনে এ কুন্ড পূর্ণ করব, তথাপি তোমার কুন্ডজল স্পর্শ করব না ৷ এতে আমাদের যশ পৃথিবীতে ঘোষিত হবে ৷ 

     শ্রীরাসেশ্বরীর এ উক্তি শ্রবণে শ্রীকৃষ্ণ তৎকালে তীর্থগণকে ইঙ্গিত করলেন ৷ প্রভূর সে ইঙ্গিতে তীর্থগণ আপন আপন দেবী মূর্ত্তি প্রকট করলেন এবং সকলেই বিনীতভাবে করজোড়ে শ্রীরাসেশ্বরীর স্তব করতে লাগলেন— 

       হে কৃষ্ণপ্রেয়সী মুখ্যা ! হে শ্রীরাস রাসেশ্বরী ! তোমার মহামহিমা ব্রহ্মা, শিব ও নারদাদি বুঝতে পারে না ৷ হে দেবি ! তোমার শ্রীচরণ ধূলি আমাদের শিরোভূষণ হউক ৷ আমাদের প্রার্থনা নিত্যকাল তোমার শ্রীচরণতলে স্থান পাই ৷ হে শ্রীরাধে ! তোমার শ্রীচরণ আঘাতে নির্ম্মিত পবিত্র কুন্ডে আমরা স্থান লাভ করিতে পারি, এ আশারূপী তরু পল্লবীত হউক ৷

        তীর্থগণের এরূপ কাতর প্রার্থনায়, শ্রীরাধা ঠাকুরাণী তাদের সে বাসনা পূর্ণ করলেন, তৎক্ষনাৎ তীর্থগণ শ্যামকুন্ডের তীরভূমি ভেদ করে রাধাকুন্ডে প্রবেশ করলেন ৷

       অতঃপর শ্রীকৃষ্ণ বললেন— হে রাসেশ্বরী ! আমার কুন্ড হতে তোমার কুন্ডের মহিমা অধিক ৷ তুমি যেমন আমার প্রিয় তেমনি তোমার কুন্ডও আমার পরম প্রিয় ৷ আমি তোমা হতে তোমার কুন্ডকে ভেদ দর্শন করি না ৷ তোমার নামে এ কুন্ড 'শ্রীরাধাকুন্ড' নামে চিরকাল খ্যাতি লাভ করবে ৷ 

        ভগবান নিত্য শ্রীরাধাকুন্ড ও শ্যামকুন্ডের মনোহর তটভূমিতে বিহার করে থাকেন ৷

        কুন্ড মাহাত্ম্য =  আদি বরাহ পুরাণে কথিত হয়েছে - রাজসূয় ও অশ্বমেধাদি মহা মহা যজ্ঞ সকল অনুষ্ঠানে যে ফল পাওয়া যায়, তদপেক্ষা শতগুণ ফল অরিষ্টকুন্ড বা শ্যামকুন্ড ও শ্রীরাধাকুন্ড স্নানে লাভ হয়ে থাকে ৷ ইহাতে কোন সন্দেহ নাই ৷ 

        পদ্মপুরাণে বর্নিত আছে -- শ্রীহরির প্রিয় রাধাকুন্ড, রমণীয় শ্রীগোবর্দ্দন পর্ব্বতের মধ্যে বিরাজিত ৷ কার্ত্তিক মাসের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে শ্রীরাধাকুন্ডে স্নান করলে , লোক রাধাকুন্ড বিহারী শ্রীহরির প্রিয় ভক্ত হতে পারে ৷ কারন তাহাতে শ্রীহরির অত্যন্ত তোষণ হয় ৷ রাধা যেরূপ শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়, শ্রীরাধা কুন্ডও তদ্রূপ প্রিয় ৷ কেননা সকল গোপীগণ মধ্যে একা রাধাই শ্রীহরির অতিপ্রিয় ৷ কার্তিক মাসে শ্রীরাধাকুন্ডে স্নান করে জনার্দ্দনকে পূজা করা কর্ত্তব্য ৷ জনার্দ্দন উত্থান একাদশীতে পূজিত হলে যেরূপ প্রীত হন, এ দিনের পূজাতেও সেরূপ প্রীত হন ৷ 


                       ৷৷   " জয় রাধে জয় কৃষ্ণ "

                  " জয় রাধা কুন্ড জয় শ্যাম কুন্ড " ৷৷

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...