বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২

অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা ৷ অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের নিয়ম কি ? অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের কি ফল ?

 

 

     অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা = একদা ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির শতানীক মুনির নিকট ধর্মকথা শ্রবণ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, হে মহর্ষি প্রবর ৷ আপনার মুখে ইতোপূর্বে জলদানের মাহাত্ম্য শ্রবণ করিয়াছি, অধুনা পুনরায় উহা সবিস্তারে শ্রবণ করিতে বাসনা জন্মিয়াছে অতএব কৃপা পুরঃসর কীর্তন করুন ৷

           শতানীক বলিলেন পুরাকালে কর্কশভাষী ক্রোধী, নিষ্ঠুর,  ধর্ম-কর্ম ত্যাগী এক ব্রাহ্মণ ছিল ৷ একদা এক ব্রাহ্মণ ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে তার দ্বারে গিয়ে কিছু অন্ন আর জল প্রার্থনা করেন ৷ তাতে নিষ্ঠুর সেই ব্রাহ্মণ অত্যন্ত রেগে বললেন যাও যাও এখানে ও সব কিছু হবে না, তুমি এখনি এখান হতে দূর হয়ে যাও৷  আমার ঘরে ও সব কিছু নেই ৷ এই কথা শুনে সেই ক্ষুধার্থ ব্রাহ্মণ চিন্তা করতে লাগলেন তাইতো কি করি, কোথায় যাই ৷

       এমন সময় সেখানে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণের স্ত্রী সুমতি এসে হাজির হল ৷ সুমতি ছিল সতী-সাধ্বী আর ধর্ম পরায়ণা ৷ সে স্বামীকে বলল প্রভু ৷ ক্ষুধা তৃষ্ণার্ত অতিথি আসিয়া যদি তোমার গৃহ হইতে বিমুখ হইয়া প্রস্থান করে, তাহার বিষন্ন মুখ দেখিয়া যদি তোমার প্রাণে বেদনা অনুভূত না হয়, তাহলে এই ধন সম্পদ আর সংসার ধর্মের কি দরকার ? এই বলে সুমতি সেই ক্ষুধা কাতর ব্রাহ্মণকে বলল আপনি এই আসনে বসুন, আমি আপনাকে জল দিচ্ছি ৷ এই কথা বলে সেই সতীনারী ব্রাহ্মণকে পরিষ্কার শীতল জল দিল ৷ সেই দিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া ৷ তিথি মাহাত্ম্যে সেই জলদান অক্ষয় হয়ে গেল ৷ হে ধর্মরাজ বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথিটিই অক্ষয় তৃতীয়া ৷ এই দিন যে কর্মের অনুষ্ঠান করা হয় তাই অক্ষয় হয়ে যাবে ৷ এই তিথিতে জল দান করলে অন্তকালে বিষ্ণুলোকে তার চিরবাস হয় ৷

           এই ঘটনার পর ব্রাহ্মণের কালপূর্ণ হলো ৷ তখন যমদুতেরা এসে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণকে বেঁধে যমরাজের কাছে নিয়ে গেল ৷ তখন তৃষ্ণায় সেই ব্রাহ্মণের কন্ঠতালু শুকিয়ে গেছে ৷ তার উপর যমদুতদের উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে, সেই ব্রাহ্মণ বললো-হে ধর্মরাজ,  আমার প্রতি কি আদেশ হয় ? আমি ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়েছি  ৷

           যমরাজ তখন দুতগণকে বললেন একে তোমরা ত্যাগ কর ৷ এই ব্যক্তি খুব পুণ্যবান ৷ এর পত্নী বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়ায়একজন তৃষ্ণায় কাতর ব্রাহ্মণকে জলদান করেছিল ৷ এই কথা বলে ধর্মরাজ যম সেই ব্রাহ্মণকে বললেন-হে ব্রাহ্মণ তুমি গৃহে ফিরে যাও ৷ তোমার পত্নী বৈশাখের অক্ষয় তৃতীয়াতে জল দান করেছিল বলেই তোমার নরকবাস হলো না ৷ এই তিথীতে যে যা পুণ্য কাজ করে তা অক্ষয় হয়ে থাকে ৷ তখন ব্রাহ্মণ নরক মুক্ত হয়ে পরজন্মে পত্নীসহ জনার্দনের আরাধনা করে ব্রতের অনুষ্ঠান দ্বারা বৈকুণ্ঠে গমন করলেন ৷

           

               ব্রতের নিয়ম = গোটা কতক যব, একটি ভোজ্য, একটি তালপাতার পাখা, একখানি নতুন কাপড়, জলপূর্ণ একটি কলসি, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই ব্রত করিতে হয় ৷ যব দিয়া প্রথমে লক্ষী নারায়নের পূজা করিয়া ব্রাহ্মণকে ভোজ্য, জলপূর্ণ কলসী,  তালপাতার পাখা, গামছা বা নতুন কাপড় দান করিতে হয় ৷ পর পর আট বছর এই ব্রত পালন করিয়া উদযাপন করিবে ৷ উদযাপন বৎসরে প্রত্যেক জিনিস আটটি হিসাবে ব্রাহ্মণকে দান করিয়া সামর্থ মত দক্ষিণা দিবে ৷ ঐদিন যবের ছাতু খাইয়া দিন-রাত্রি কাটাইতে হয় ৷


              ব্রতের দ্রব্য = সিন্দুর, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগব্য, তিল, হরিতকী, ফুল, দূর্বা, তুলসী, বিল্বপত্র, ধুপ, দীপ, ধুনা, আসনাঙ্গুরীয় ২, মধুপর্ক বাটি ২, দধি, মধু, চিনি, ঘৃত, পূজার বস্ত্র ১ , শাড়ি ১ , নৈবেদ্য ২, কুচা নৈবেদ্য ১, সভোজ্য জলপূর্ণ ঘট ১, বস্ত্র ১, পাখা ১, দক্ষিণা সাধ্যমত ৷


            ব্রতের ফল = এই ব্রত আমাদের দেশে চির প্রচলিত ৷ এই ব্রতের ফলে ইহলোকে সর্বপ্রকার সুখের অধিকারী হইয়া মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠে বাস হয় ৷ স্ত্রী পুরুষ উভয়েরই এই ব্রত পালনের অধিকার আছে ৷

                                " শুভ অক্ষয় তৃতীয়া "

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...