রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২

দীক্ষা কি ? দীক্ষা কাকে বলে ? দীক্ষা নিলে কি হয় ? দীক্ষা গ্রহন না করলে কি হয় ? দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি ? দীক্ষা গ্রহনে আবশ্যকতা কোথায় ? এবং দীক্ষার মাহাত্ম্য কি ?

 

   

        দীক্ষা = যে কার্য পাপ ক্ষয় করিয়া দিব্য জ্ঞান প্রকাশ করে তাহাই দীক্ষা ৷ স্বকর্ণে শ্রী গুরুদেব কর্ত্তৃক ইষ্টমন্ত্র দানের নাম দীক্ষা ৷ শ্রী গুরুদেবের নিকট হতে যথাবিধি মন্ত্রোপদেশ গ্রহন করার নামই দীক্ষা ৷

       প্রকৃত পক্ষে দীক্ষার অর্থ বর্ন বা শব্দ বিশেষ শ্রবন করা নহে ৷ বর্ন বা বর্নগুলি শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্ম বলিয়া পরিকীর্তিত আছে ৷ সেই শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্মই বর্ণ ৷ সেই বর্ণই ভগবানের নাম ৷ নাম ও নামী অভেদ; কিছুই প্রভেদ নাই ৷ এইভাবে যেই নাম বা মন্ত্র গ্রহন করা হয় তাহাই দীক্ষা ৷ যিনি নামে এবং মন্ত্র ও মন্ত্রের অভীষ্ট দেবতাকে এক ভাবেন, তিনিই প্রকৃত দীক্ষিত ৷ দৃঢ় বিশ্বাস বা ভক্তিই মূল ৷" দীক্ষাকালে ভক্তে করে আত্মসমর্পন, সেই কালে কৃষ্ণ তারে করে আত্মসম ৷ "

               আট থেকে বার বৎসরের মধ্যে দীক্ষা গ্রহন করিতে হয় ৷ দীক্ষা গ্রহন করিয়া সাংসারিক জীবনে ও ব্রহ্মচর্য পালন করিয়া জ্ঞান ও ভক্তির দ্বারা গুরুতত্ত্ব কৃষ্ণতত্ত্ব বুঝিতে হইবে ৷ সঠিক পথ ধরিয়া গুরু নির্দেশ বা সৎগুরুর দাসত্ব পালন করিলে সহজেই কৃপা লাভ হয় ৷ গুরুদেবের দাসত্ব পালন না করিলে কিছুই হবে না ৷

              দীক্ষার প্রয়োজনিয়তা = শাস্ত্রে বলে অদীক্ষিত ব্যক্তির অন্ন বিষ্ঠার সমান ; জল মুত্রতূল্য ৷ তাহারা শ্রাদ্ধাদি কার্য যাহা কিছু করে তাহা সমস্তই বৃথা অর্থাৎ নিস্ফল হয় ৷ দীক্ষা গ্রহন না করিলে কোন কার্য করিবার অধিকার জন্মে না ৷ সেইজন্য জপ, তপ, তন্ত্র, মন্ত্র, নিয়ম ব্রত, তীর্থ ভ্রমন, উপবাস, ভগবানের জন্য শারিরিক যে কোন কষ্টই কোন ফল ফলিবে না ৷

                অদীক্ষিত ব্যক্তি যদি মারা যান তাহলে সেই ব্যক্তি পিশাচ যোনিতে জন্ম হইয়া রৌরব নরকে বাস করিতে হবে ৷ যাহারা বিষ্ণু দীক্ষা প্রাপ্ত না হইয়া জনার্দ্দনের পূজা করিবার অধিকারী না হয় তাহারাই পশু বলিয়া অভিহিত হয় ৷

               যে জন গুরুকরন বিনা কেবল শাস্ত্র দেখিয়া মন্ত্র গ্রহন করে এবং আনুমানিক বুদ্ধি কৌশলে ভগবানকে পাইতে চায় ৷ সেই দুরাত্মা সহস্র মন্বন্তরে ও নিস্কৃতি লাভ করিতে পারিবে না ৷

           দীক্ষা মাহাত্ম্য = স্কন্ধপুরানে লিখিত আছে যে,--যাহারা সর্ব্বদুঃখহারিনী হরি দীক্ষা লাভ করিয়াছেন, ভূমন্ডলে সেই সকল পুরুষই তপস্বী; কর্ম্মনিষ্ঠ এবং তাহারাই শ্রেষ্ঠ ৷ তত্ত্ব সাগরে লিখিত আছে যে -- যেমন রস বিধান দ্বারা কাংস্য ও কাঞ্চনতা প্রাপ্ত হয় , অর্থাৎ যথা বিধানে পারদের যোগে কাংস্য ও সুবর্ণতা লাভ করে; সেইরূপ দীক্ষাবিধি দ্বারা নরগনের ও দ্বিজত্ব উৎপন্ন হয় ৷

                           " হরেকৃষ্ণ "

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...