রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২

দীক্ষা কি ? দীক্ষা কাকে বলে ? দীক্ষা নিলে কি হয় ? দীক্ষা গ্রহন না করলে কি হয় ? দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি ? দীক্ষা গ্রহনে আবশ্যকতা কোথায় ? এবং দীক্ষার মাহাত্ম্য কি ?

 

   

        দীক্ষা = যে কার্য পাপ ক্ষয় করিয়া দিব্য জ্ঞান প্রকাশ করে তাহাই দীক্ষা ৷ স্বকর্ণে শ্রী গুরুদেব কর্ত্তৃক ইষ্টমন্ত্র দানের নাম দীক্ষা ৷ শ্রী গুরুদেবের নিকট হতে যথাবিধি মন্ত্রোপদেশ গ্রহন করার নামই দীক্ষা ৷

       প্রকৃত পক্ষে দীক্ষার অর্থ বর্ন বা শব্দ বিশেষ শ্রবন করা নহে ৷ বর্ন বা বর্নগুলি শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্ম বলিয়া পরিকীর্তিত আছে ৷ সেই শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্মই বর্ণ ৷ সেই বর্ণই ভগবানের নাম ৷ নাম ও নামী অভেদ; কিছুই প্রভেদ নাই ৷ এইভাবে যেই নাম বা মন্ত্র গ্রহন করা হয় তাহাই দীক্ষা ৷ যিনি নামে এবং মন্ত্র ও মন্ত্রের অভীষ্ট দেবতাকে এক ভাবেন, তিনিই প্রকৃত দীক্ষিত ৷ দৃঢ় বিশ্বাস বা ভক্তিই মূল ৷" দীক্ষাকালে ভক্তে করে আত্মসমর্পন, সেই কালে কৃষ্ণ তারে করে আত্মসম ৷ "

               আট থেকে বার বৎসরের মধ্যে দীক্ষা গ্রহন করিতে হয় ৷ দীক্ষা গ্রহন করিয়া সাংসারিক জীবনে ও ব্রহ্মচর্য পালন করিয়া জ্ঞান ও ভক্তির দ্বারা গুরুতত্ত্ব কৃষ্ণতত্ত্ব বুঝিতে হইবে ৷ সঠিক পথ ধরিয়া গুরু নির্দেশ বা সৎগুরুর দাসত্ব পালন করিলে সহজেই কৃপা লাভ হয় ৷ গুরুদেবের দাসত্ব পালন না করিলে কিছুই হবে না ৷

              দীক্ষার প্রয়োজনিয়তা = শাস্ত্রে বলে অদীক্ষিত ব্যক্তির অন্ন বিষ্ঠার সমান ; জল মুত্রতূল্য ৷ তাহারা শ্রাদ্ধাদি কার্য যাহা কিছু করে তাহা সমস্তই বৃথা অর্থাৎ নিস্ফল হয় ৷ দীক্ষা গ্রহন না করিলে কোন কার্য করিবার অধিকার জন্মে না ৷ সেইজন্য জপ, তপ, তন্ত্র, মন্ত্র, নিয়ম ব্রত, তীর্থ ভ্রমন, উপবাস, ভগবানের জন্য শারিরিক যে কোন কষ্টই কোন ফল ফলিবে না ৷

                অদীক্ষিত ব্যক্তি যদি মারা যান তাহলে সেই ব্যক্তি পিশাচ যোনিতে জন্ম হইয়া রৌরব নরকে বাস করিতে হবে ৷ যাহারা বিষ্ণু দীক্ষা প্রাপ্ত না হইয়া জনার্দ্দনের পূজা করিবার অধিকারী না হয় তাহারাই পশু বলিয়া অভিহিত হয় ৷

               যে জন গুরুকরন বিনা কেবল শাস্ত্র দেখিয়া মন্ত্র গ্রহন করে এবং আনুমানিক বুদ্ধি কৌশলে ভগবানকে পাইতে চায় ৷ সেই দুরাত্মা সহস্র মন্বন্তরে ও নিস্কৃতি লাভ করিতে পারিবে না ৷

           দীক্ষা মাহাত্ম্য = স্কন্ধপুরানে লিখিত আছে যে,--যাহারা সর্ব্বদুঃখহারিনী হরি দীক্ষা লাভ করিয়াছেন, ভূমন্ডলে সেই সকল পুরুষই তপস্বী; কর্ম্মনিষ্ঠ এবং তাহারাই শ্রেষ্ঠ ৷ তত্ত্ব সাগরে লিখিত আছে যে -- যেমন রস বিধান দ্বারা কাংস্য ও কাঞ্চনতা প্রাপ্ত হয় , অর্থাৎ যথা বিধানে পারদের যোগে কাংস্য ও সুবর্ণতা লাভ করে; সেইরূপ দীক্ষাবিধি দ্বারা নরগনের ও দ্বিজত্ব উৎপন্ন হয় ৷

                           " হরেকৃষ্ণ "

রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

কলিকালের মানুষ অল্পপুন্যফলে কিভাবে উদ্ধার পাবে ? কে বৈষ্ণব ? বৈষ্ণবের লক্ষন কি ? বৈষ্ণবের মাহাত্ম্য কি ? কৃষ্ণকথা শ্রবনে পাপ ও পূন্য কিভাবে হয় ?

 


         পদ্মপুরানে মুনিপুরুষ জৈমিনি সর্ব্বার্থ পারদর্শী সত্যবতীসুত গুরুদেব বেদব্যাসকে দন্ডবৎ প্রনিপাত পূর্ব্বক বলিলেন, গুরুদেব- কলিকালে নরগন অল্পায়ু হইবে ; সুতরাং অল্প পুন্যফলে কিরূপে তাহাদের মোক্ষলাভ হইতে পারিবে, তাহা আমাকে বলুন ? 

           ব্যাসদেব বলিলেন- হে বিপ্র- সাধুসঙ্গ বা বৈষ্ণব সঙ্গ গুনে শাস্ত্রশ্রবণ, তাহা হইতে হরিভক্তি, হরিভক্তি হইতে জ্ঞান ও জ্ঞান হইতে বিষ্ণুভক্তি বা কৃষ্ণভক্তি হইয়া সদ্গতি লাভ ঘটিয়া থাকে ৷

         ভূতলে পাপী জনের নিকট বৈষ্ণবী কথা প্রীতিকর হয় না , জানিবে তাদৃশ্য ব্যক্তি দ্বিজ হইলে ও পাপীগনের মধ্যে প্রধান পাপী ৷ বৈষ্ণব জন কৃষ্ণকথা শুনিয়া আনন্দিত হইয়া থাকেন ; কিন্তু সেই কথা যে ব্যক্তি অসত্য বলিয়া উল্লেখ করে, জানিবে সেই ব্যক্তি ও পাপিগনের মধ্যে প্রধান ৷ যেখানে কৃষ্ণকথা হয় জগন্নাথ কৃষ্ণ কদাচ সেই স্থান পরিত্যাগ করে না , যে নরাধম কৃষ্ণ কথারম্ভে বিঘ্নোৎপাদন করে, শত মন্বন্তরে ও তাহার নরক হইতে নিস্কৃতি লাভ ঘটে না , যাহারা পুরানকথা, কৃষ্ণকথা শুনিয়া নিন্দা বা উপহাস করে, বহুক্লেশকর নরক সকল তাহাদের নিকটস্থ হইয়া থাকে ৷

           যে ব্যক্তি কৃষ্ণ চরিত শুনিবার বাসনা করে, তাহার জন্মান্তরার্জ্জিত পাপ তৎক্ষনাৎ বিনষ্ট হইয়া থাকে ৷ যে নর ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণ চরিত শ্রবন করে, না জানি তাহার সেই শ্রবন ফলে কি অপূর্ব্ব গতিই লাভ হইয়া থাকে ৷ ব্রহ্মহত্যাদি পাপ সুরাপান বা স্তেয়, অকালমরন পাপ , সকলই কৃষ্ণকথা শ্রবনে বিলয় প্রাপ্ত হয় ৷ যে মানব প্রথমে পাপ করিয়া পরে পাপ নিবারক সৎকর্ম্মের অনুস্ঠান করে , অগ্নিদগ্ধ তুলারাশির ন্যায় তাহার সকল পাপই নষ্ট হইয়া যায় ৷ হে বিপ্র! যাহার গৃহে কৃষ্ণচরিতময় গ্রন্থ থাকে, যমকিঙ্করগন তাহার গৃহপ্রান্তে ও আসিতে পারে না ৷

     জৈমিনি কহিলেন গুরু! কাহারা বৈষ্ণব ? বৈষ্ণবের লক্ষন কি ? বৈষ্ণবের মাহাত্ম্যই বা কি - আপনি কীর্ত্তন করুন ৷

          ব্যাস বলিলেন - হে দ্বিজ, যাহাদের হিংসা নাই, দম্ভ নাই, কাম-ক্রোধ বা লোভ - মোহ নাই, জানিবে তাহারাই প্রকৃত বৈষ্ণবজন ৷ যাহারা পিতৃভক্ত, দয়াযুক্ত, সর্ব্বপ্রানীর হিতে রত, মাৎসর্য্যহীন, সত্যভাষী, বিপ্রভক্তিরত, পরদার- বিমুখ ও একাদশীব্রত নিষ্ঠ, সর্ব্বদা হরিনাম গান করেন, তুলসীমালা ধারন করেন, হরিপাদোদকে সিক্ত হন, যাহাদের উভয় কর্ণে ও মস্তকে কখনও কখনও উত্তম তুলসীপত্র পরিদৃষ্ট হয়, যাহারা পাষন্ড সঙ্গ করেন না, ব্রাহ্মনে যাহাদের দ্বেষ নাই, যাহারা তুলসী তরু সেক করেন, হরিপূজা করেন, তুলসী দ্বারা হরির অর্চ্চনা করেন, অতিথি পূজা করেন, কন্যা দান করেন, বিষ্ণু বা কৃষ্ণ বা গৌর লীলা শ্রবন করেন, হরি গৃহ মার্জ্জন করেন,  দীনজনে দয়াপরবশ হন, পরস্ব ও ব্রাহ্মন দ্রব্য বিষবৎ অবলোকন করেন, যাহারা হরিনৈবেদ্য ভক্ষন করেন, যাহারা বেদানুরক্ত, তুলসীবন পালক, কৃষ্ণাষ্টমী, রাধাষ্টমী ইত্যাদি ব্রতেরত, শ্রদ্ধার সহিত শ্রীকৃষ্ণাগ্রে দীপ দান করেন, কখনও পরের নিন্দা করে না-- জানিবে তাহারাই যথার্থ বৈষ্ণব জন ৷

         ব্যাস বলিলেন-হে দ্বিজ ! যে পাপী নর ভক্তি ভরে মস্তকে বৈষ্ণব-পাদোদক ধারন করিয়া সেবন করে তাহার আর তীর্ফস্নান প্রয়োজন হয় না,   অকাল মৃত্যু হয় না, সর্ব্বব্যাধি হইতে  মুক্তিলাভ হয় ৷  যে নর ক্ষনকাল বা ক্ষনার্দ্ধকালও বৈষ্ণব সঙ্গ বা সাধুসঙ্গ করে, তাহার ব্রহ্মহত্যাদি যাবতীয় সকল পাপই নষ্ট হইয়া থাকে ৷ যে কোন কুলেই হউক, একজন মাত্র বৈষ্ণব জন্ম গ্রহন করিলেই সেই কুল পাপযুক্ত থাকিলেও তৎক্ষনাৎ মোক্ষগামী  হইয়া থাকে ৷

          যে সকল নরোত্তম শ্রদ্ধার সহিত উপরোক্ত কথা শ্রবন করে, তাহারা সর্ব্বপাপ হইতে মুক্ত হইয়া শ্রী হরির পরমপদে উপনীত হইয়া থাকে ৷

                          " হরেকৃষ্ণ "

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২

কোন কোন ফুল কৃষ্ণ সেবার উপযোগী ? কোন পুস্প প্রদানে কি ফল হয় ?

 

 

       যাহার চরন কমল দ্বয়ে পুস্প প্রদান মাত্রই কুমনা ব্যক্তি ও সুমতি প্রাপ্ত হয়, সেই শ্রীচৈতন্য দেবকে ভজনা করি ৷   

       বনজাত, নগরজাত কিংবা নিজ বাগিচা জাত, অপর্য্যুষিত(যাহা বাসি নহে), অচ্ছিন্ন, সিক্ত, কীটাদিবর্জ্জিত এবং পবিত্র পুস্প দ্বারা শ্রীহরির পূজা করিবে ৷                                       

         যে সকল পুস্পের বর্ণ, রস ও গন্ধ আছে, সেই সকল পুস্পই সুপ্রশস্ত ৷

       দেশভেদে ও কালভেদে যে নানা প্রকার পুস্প জন্মে তাহা সুন্দর গন্ধ ও বর্ণ থাকিলেই নিবেদন করিবে ৷

      হে ধার্ম্মিকগণ-- রক্তবর্ণ পুস্প ও শ্মশানজাত, অকালজাত ও গন্ধহীন পুস্প কখনই নিবেদন করিবে না ৷

     চম্পক ভিন্ন অন্য পুস্পের কলিকা দ্বারা বিষ্ণুর পূজা করিবে না ৷ শুস্কপত্র, পুস্প বা ফল দ্বারা ও বিষ্ণু পূজা করিবে না ৷

       পদ্ম, উৎপল, তুলসী, বকপুস্প, বকুল পুস্প, বিল্বপত্র ও গঙ্গাজল বাসি হইলে দোষ হয় না ৷

       স্বেত বা রক্ত করবীর পুস্প, আকন্দ(অর্ক), ধুতূরা(ধুস্তুর), ঝাঁটি, শ্বেত অপরাজিতা পুস্প বিষ্ণুকে নিবেদন করিবে না ৷

         যে সকল পুস্পের পাপড়ী শীর্ণ বা পরস্পর সংলগ্ন, যে সকল পুস্প অপবিত্র, যে সকল পুস্প প্রস্ফুটিত হয় নাই, যে সকল পুস্প দুর্গন্ধ বিশিষ্ট বা তীক্ষ্ণগন্ধি বা অম্লগন্ধি সে সমস্ত পুস্প বর্জ্জন করিবে ৷

        শাখাদি ভগ্ন করিয়া, বৃক্ষ উৎপাটন করিয়া ও বৃক্ষে আরোহন করিয়া যে পুস্প আহরন করা হয় !সে সমস্ত অসুরের গ্রহন যোগ্য ৷ অশুচি সংস্পৃষ্ট, অধৌত, আঘ্রাত, অধোবস্ত্রে স্থাপিত ও ক্রীত পুস্প পরিত্যাগ করিবে ৷

         মধ্যাহ্ন কালে স্নান করিয়া যে পুস্প চয়ন করা হইবে তদ্দ্বারা বিষ্ণুপূজা, দেবপূজা, পিতৃগন পূজা, ঋষি পূজা করিবে না ৷   উহা কেউ গ্রহন করে না ৷

        পুস্প মধ্যে মালতীই প্রধান ৷ মালতী পুস্প দ্বারা যে গরুড়ধ্বজ হরির অর্চ্চনা করেন তিনি জন্ম, দুঃখ, জরা ও ব্যাধি হইতে বিমুক্ত হইয়া সেই দুর্ল্লভ স্থান প্রাপ্ত হন ৷

              যে সকল ব্যক্তি বর্ষা ঋতুতে দেবদেব নীরদবরনকে কদম্ব পুস্প দ্বারা পূজা করেন, তাহাদিগেরই জন্ম সার্থক ৷

          মল্লিকা, মালতী, জাতী, যুথী, কেতকী, অশোক, চম্পক, পুন্নাগ, নাগ, বকুল, কদম্ব, পদ্ম ও উৎপল জাতীয় পুস্প দ্বারা ভক্তি সহকারে প্রত্যহ হরির উপাসনা করিলে মানব নিস্পাপ হইয়া হরিকে লাভ করিতে পারে ৷  

               ( হরিভক্তি বিলাস গ্রন্থ হইতে সংগৃহীত )

                            " হরেকৃষ্ণ "

                                          

মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২

দোল বা হোলি উৎসব কেন করা হয় ? হোলির উৎপত্তি কোথায় ? দোল উৎসবের বিধি কি ?

 


         হিন্দু ধর্ম মতে দোল উৎসব বা হোলি উৎসবের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য আছে ৷ ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে দোল উৎসবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধারানী সহ গোপীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন ৷ আবার কলির করুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভূ এই পুন্য তিথিতেই নবদ্বীপে অবতীর্ন হইয়াছিলেন ৷

          পুরান কথা -- পুরান অনুসারে দৈত্যরাজ হিরন্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ভগবান হরির পরম ভক্ত ছিল ৷ তাই হরি বিদ্বেষী হিরন্যকশিপু তার পুত্রকে মারার জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় হিরন্যকশিপু তার বোন হোলিকার কাছে প্রহ্লাদকে মারার দ্বায়িত্ব দিলেন ৷ হোলিকার একটা গুন ছিল সে আগুনে প্রবেশ করলেও তার শরীর পুড়ে না ৷ তাই প্রহ্লাদকে হত্যা করার জন্য অহংকার করে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলেন ৷ প্রহ্লাদ ভগবান হরিকে স্বরন করার ফলে প্রহ্লাদ বেচে গেলেন কিন্তু হোলিকা দগ্ধ হয়ে মারা যান ৷ সেই দিন ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে হোলিকা নামের অশুভের বিনাশ  হওয়াতে হোলি উৎসব পালন করা হয় ৷                                                              এই দোল পূর্নিমা তিথি হইতে রাধাকৃষ্ণকে দক্ষিন মুখ করিয়া দোলা দ্বারা দোলন করিতে হয় ৷ গরুড় পুরান অনুযায়ী কলিকালে দক্ষিন মুখী করিয়া রাধা সহ জনার্দ্দনকে পূজা করত একমাস দোলন করাইতে হয় ৷                                                       সেই দোলন বা সেই উৎসব দর্শন করিলে সহস্র সহস্র পাপ হইতে মুক্তি লাভ হয় ৷ শত কর্ম্ম বিসর্জন করিয়াও দোল দিনে উৎসব করা কর্ত্তব্য ৷ দোলারূঢ় রাধাকৃষ্ণকে দর্শন করিলে তাহারা সুরগন কর্ত্তৃক পুজিত হইয়া বৈকুন্ঠ ধামে হরি সহ বিহার করেন ৷                                                                  ব্রতীজন প্রাতঃক্রিয়া সমাধা করিয়া নিত্যপূজা করনান্তে দোল উৎসব করিবে ৷ দোল  যাত্রার্থ বিশেষ প্রকারে নৈবেদ্য প্রভৃতি প্রদান পূর্ব্বক বৈষ্ণবগনের সন্মান করত নৃত্যগীতাদি করাইতে হয় ৷ নিরাজন পূর্ব্বক হরি গাত্রোপরি বিচিত্র গন্ধানুলেপ- চুর্ন সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রক্ষেপ করিবে ৷ এইরূপে প্রার্থনা, নমস্কার নিরাজন করিয়া প্রসাদ বিতরন করিবে ৷ সক্ষম হইলে একমাস এই উৎসব করিবে ৷

                          " হরেকৃষ্ণ "                           

সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২

রাম নবমী কবে কখন কিভাবে পালন করতে হয় ? এবং এর মাহাত্ম্য কি ?

 


      চৈত্রের শুক্লা নবমী তিথিতে একমাত্র পরমব্রহ্ম রঘুকুল ধুরন্ধর রাম আবির্ভূত হইয়াছিলেন ৷ সেই দিনকেই বলা হয় রামনবমী ৷ সুতরাং তদ্দিনে উপবাস ব্রতাদির অনুষ্ঠান কর্ত্তব্য ৷ঐ তিথি পুনর্ব্বসুযুক্ত হইলে নিখিল কামফল প্রদাত্রী হইয়া থাকেন ৷ মধ্যাহ্ন সময়ে পুনর্ব্বসুর যোগ হইলে, ঐ তিথি মহা পূণ্যস্বরূপা হন ৷ হরিপরায়ন ব্যক্তিরা অষ্টমী বিদ্ধা নবমী বর্জ্জন পূর্ব্বক শুদ্ধা নবমীতে উপবাসী থাকিয়া দশমীতে পারনা করিবেন ৷

    রাম নবমীর মাহাত্ম্য -- শ্রীরামনবমী কোটি সূর্য্য- গ্রহন অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ৷ শ্রীরাম নবমী দিবসে ভক্তি সহকারে রামের উদ্দেশে যে কোন কর্ম্ম করা যায় তাই ভববন্ধন ছেদনের হেতু হয় ৷ অতদ্রিত হইয়া রামনবমীতে উপবাসী থাকিলে সেই ব্যক্তিকে আর জননী জঠরে প্রবেশ করতে হয় না এবং তিনি নিঃসন্দেহে রঘুনাথের প্রিয়পাত্র হন ৷ সুতরাং রাম নবমী ব্রতানুষ্ঠান পূর্ব্বক নিখিল পাতক হইতে বিমুক্ত হইয়া সনাতন ব্রহ্ম রঘুবরকে লাভ করা সকল ব্যক্তির পক্ষেই উচিত ৷ ভক্তি সহকারে রামনবমী ব্রতে উপবাসী থাকিলেই কৃতকৃত্য হইয়া নিখিল পাতক হইতে পরিত্রান পাইতে পারে ৷


                       " জয় শ্রীরাম "

                     " জয় সীতারাম "


শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০২২

ভগবানকে অগুর, চন্দন, কর্পূর ও তুলসী কাষ্ট ইত্যাদি গন্ধ লেপন করার নিয়ম কি ? এবং কোন গন্ধ লেপন করলে কি ফল হয় ?


       গন্ধ = চন্দন, অগুরু, কর্পূর, কস্তূরী, কুঙ্কুম ইত্যাদি সমস্তের নামই গন্ধ ৷ দুই ভাগ কস্তূরী, চার ভাগ চন্দন, তিন ভাগ কুঙ্কুম, এক ভাগ কর্পূর একত্র করলে তাকে গন্ধ বলা যায় ৷ উহা সমস্ত দেবগনের প্রিয় ৷ চন্দন বিশুদ্ধ, চন্দন হইতে অগুরু , অগুরু হইতে কৃষ্ণাগুরু, কৃষ্ণাগুরু হইতে কুঙ্কুম অধিক পবিত্র ৷ যেরূপ শালিতন্ডুলের নৈবেদ্য হরির প্রিতিকর তুলসী চন্দনও সেইরূপ ৷ তুলসী কাষ্ঠ ঘর্ষন পূর্ব্বক যদি শ্রীরামের শিরোদেশে প্রধান করা যায়, কর্পূর, অগুরু, কস্তূরী ও কুঙ্কুমও তৎসদৃশ হয় না ৷ ইহা অগস্তসংহিতায় লিখিত ৷ স্কন্ধ পুরানের মতে,শঙ্খে চন্দন গ্রহনপূর্ব্বক দেবদেব জনার্দ্দনের
দেহে লেপন করিলে পরমাত্মা শতবর্ষ যাবৎ পরম সন্তোষ অনুভব করিয়া থাকেন ৷ সমস্ত দ্রব্য একত্র করত হরির অঙ্গে মর্দ্দন করিলে মূখ্য অশ্বমেধ যজ্ঞফল লাভ হয় ৷ মৃগমদ কস্তূরীযোগে শ্রীমূর্ত্তীর কেশপাশের সৌগন্ধ্য  বর্ধন করিলে সর্ব্বকামদ যজ্ঞফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ৷ 
           তুলসীকাষ্ঠ চন্দন =গরুড় পুরানে লিখিত আছে,  যিনি কলিকালে মহাবিষ্ণুকে তুলসীকাষ্ঠ চন্দন অর্পন পূর্ব্বক মালতীকূসুম দ্বারা পূজা করেন
তাকে পুনরায় আর সংসারবন্ধনে বন্দীভূত হইতে হয় না ৷ শ্রীহরিকে তুলসী কাষ্ঠের চন্দন প্রদান করিলে সেই চন্দন অর্চ্চকের পূর্ব্বশতজন্মসঞ্চিত
পাতক নিঃশেষে দগ্ধ করিয়া ফেলে ৷ দেহবিসর্জ্জন
কালে যাহার শরীরে তুলসী চন্দন লিপ্ত থাকে, সে ব্যক্তি নিজে হরিসারূপ্য প্রাপ্ত হইয়া হরিকে লাভ করিয়া থাকে ৷ কলিযুগে যে ব্যক্তি ভগবদ্ভক্ত হইয়া নিরন্তর হরিকে তুলসীকাষ্ঠ চন্দন প্রদান না করে, সে কদাচ ভগবানের ভক্ত হইতে পারে না ৷ প্রহ্লাদ  সংহিতায় লিখিত আছে, যে ব্যক্তি শ্রীহরিকে  তুলসী কাষ্ঠের চন্দন প্রদান করেন, তৎসদৃশ বৈষ্ণব ধরাতলে লোকমধ্যে আর নাই ৷ তুলসীকাষ্ঠ 
চন্দন সেবন করিলে, বিশেষতঃ মরন সময়ে দেহে লেপন করিলে, পাপী হইলেও তাহার মুক্তি লাভ হয় ৷ যিনি শ্রাদ্ধকালে পিতৃগনের উদ্দেশে তুলসী কাষ্ঠ চন্দন অর্পন করেন, তদীয় পিতৃকুল শতবর্ষ যাবৎ সন্তুষ্ট থাকেন ৷ বিষ্ণুধর্ম্মোত্তরে লিখিত আছে যে, দেহ তুলসী কাষ্ঠচন্দনে অনুলিপ্ত করত হরির অর্চ্চনা করিলে একদিবসের অর্চ্চনাতেই শতবর্ষকৃত অর্চ্চনার ফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ৷ 
 
                           "হরেকৃষ্ণ"

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...