হিন্দু ধর্ম মতে দোল উৎসব বা হোলি উৎসবের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য আছে ৷ ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে দোল উৎসবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধারানী সহ গোপীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন ৷ আবার কলির করুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভূ এই পুন্য তিথিতেই নবদ্বীপে অবতীর্ন হইয়াছিলেন ৷
পুরান কথা -- পুরান অনুসারে দৈত্যরাজ হিরন্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ভগবান হরির পরম ভক্ত ছিল ৷ তাই হরি বিদ্বেষী হিরন্যকশিপু তার পুত্রকে মারার জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় হিরন্যকশিপু তার বোন হোলিকার কাছে প্রহ্লাদকে মারার দ্বায়িত্ব দিলেন ৷ হোলিকার একটা গুন ছিল সে আগুনে প্রবেশ করলেও তার শরীর পুড়ে না ৷ তাই প্রহ্লাদকে হত্যা করার জন্য অহংকার করে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলেন ৷ প্রহ্লাদ ভগবান হরিকে স্বরন করার ফলে প্রহ্লাদ বেচে গেলেন কিন্তু হোলিকা দগ্ধ হয়ে মারা যান ৷ সেই দিন ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে হোলিকা নামের অশুভের বিনাশ হওয়াতে হোলি উৎসব পালন করা হয় ৷ এই দোল পূর্নিমা তিথি হইতে রাধাকৃষ্ণকে দক্ষিন মুখ করিয়া দোলা দ্বারা দোলন করিতে হয় ৷ গরুড় পুরান অনুযায়ী কলিকালে দক্ষিন মুখী করিয়া রাধা সহ জনার্দ্দনকে পূজা করত একমাস দোলন করাইতে হয় ৷ সেই দোলন বা সেই উৎসব দর্শন করিলে সহস্র সহস্র পাপ হইতে মুক্তি লাভ হয় ৷ শত কর্ম্ম বিসর্জন করিয়াও দোল দিনে উৎসব করা কর্ত্তব্য ৷ দোলারূঢ় রাধাকৃষ্ণকে দর্শন করিলে তাহারা সুরগন কর্ত্তৃক পুজিত হইয়া বৈকুন্ঠ ধামে হরি সহ বিহার করেন ৷ ব্রতীজন প্রাতঃক্রিয়া সমাধা করিয়া নিত্যপূজা করনান্তে দোল উৎসব করিবে ৷ দোল যাত্রার্থ বিশেষ প্রকারে নৈবেদ্য প্রভৃতি প্রদান পূর্ব্বক বৈষ্ণবগনের সন্মান করত নৃত্যগীতাদি করাইতে হয় ৷ নিরাজন পূর্ব্বক হরি গাত্রোপরি বিচিত্র গন্ধানুলেপ- চুর্ন সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রক্ষেপ করিবে ৷ এইরূপে প্রার্থনা, নমস্কার নিরাজন করিয়া প্রসাদ বিতরন করিবে ৷ সক্ষম হইলে একমাস এই উৎসব করিবে ৷
" হরেকৃষ্ণ "
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন