রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শিবরাত্রি ব্রত কথা ও শিবরাত্রির মাহাত্ম্য কি ?



          

           শিবরাত্রি ব্রত কথা -- বৈষ্ণব সম্বন্ধে শিবরাত্রি ব্রতের কোন প্রয়োজন নাই সত্য, তথাপি শ্রীহরির প্রীত্যর্থে সদত এই ব্রতানুষ্ঠান বৈষ্ণবগনেরও কর্ত্তব্য ৷ ফাল্গুনী কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী তিথীতেই এই ব্রত করিবে ৷ পদ্মপুরানে লিখিত আছে , কি সূর্য উপাসক, কি বৈষ্ণব, কি অন্য দেবোপাসক, যে কেহ হউন না শিবরাত্রি বিমুখ হইলে তৎকৃত পূজা ফলবতী হয় না ৷ এই ব্রতে অবহেলা করিলে কি দোষ ঘটে তাহা মুনিদের প্রতি শ্রীহরি বলিয়াছেন৷ -- হরি পরায়ন ব্যাক্তির বৈকুন্ঠ গতি হয় সত্যি কিন্তু শিবদেষী না হইলে ঐ বিষ্ণুধাম প্রাপ্তি হয় ৷ শিবের নিন্দা করিয়া আমার অর্চ্চনা করিলে ও দশ হাজার সংখ্য নরকে গমন করিতে হয় ৷ হরি বলিয়াছেন আমার ভক্ত শিব দ্বেষী বা শিব ভক্ত আমার দ্বেষী হইলে চন্দ্র সূর্য স্থিতিকাল পর্যন্ত নরকে পচতে হয় ৷ আরও বলিয়াছেন যিনি শিব তিনিই আমি এবং যে আমি সেই শিব ৷ আকাশ ও বায়ুর মত আমাদেরও অভেদ বুঝিবে ৷

      শিবরাত্রি ব্রত কাল নির্নয় ও ব্রতবিধি --- মাঘ ও ফাল্গুন মাসের মধ্যবর্ত্তী কৃষ্ণা চতুর্দ্দশীই শিবরাত্রি বলিয়া প্রথিত ৷ এই তিথি নিখিল যজ্ঞ অপেক্ষা প্রধান ৷ ধরাতলে স্থাবর বা চরে যত শিবলিঙ্গ আছে , এই চতুর্দ্দশী তিথির নিশা- যোগে দেবদেব মহাদেব সেই সমুদয়ে অধিষ্ঠিত হন ৷ এইজন্য ঐ চতুর্দ্দশী তিথিকে শিবরাত্রি বলা হয় ৷ পূর্বদিন সংযম থাকিয়া চতুর্দ্দশী দিন উপবাস করিতে হয় ৷ তবে ত্রয়োদশী বিদ্ধা চতুর্দ্দশী অবশ্যই পরিত্যাগ করিবে ৷যদিও পরের দিন অমাবস্যাযোগ হয় তবুও অমাবস্যা সংযুক্ত চতুর্দ্দশী ব্রত পালনই কর্তব্য ৷ শিবরাত্রি ব্রতে উপবাস, রাত্রিকালে শিবপূজা ও জাগরন এই তিনটি অনুষ্ঠান করাই কর্তব্য ৷

       ব্রতী ব্যক্তি পবিত্রভাবে সন্ধ্যাকালে শিবমন্দিরে গিয়া আচমন পূর্ব্বক শিবসন্মূখে সঙ্কল্প করিবে, তৎপরে পূজায় প্রবৃত্ত হইতে হয় ৷ পঞ্চাক্ষর (নমঃ শিবায়) মন্ত্রে ক্ষীরাদি দ্বারা ও বিশুদ্ধ বারিধারা দ্বারা মহাদেবকে স্নান করাইবে ৷ বিধানে গন্ধ, পূস্প, বেলপাতা, তিল ইত্যাদি দ্বারা অর্চ্চনা শেষ করিয়া ধূপদীপ অর্পণ পূর্ব্বক শঙ্খে করিয়া অর্ঘ্য প্রদান করিবে ৷ পরে আচার্য্যেকে অর্চ্চনা ও দক্ষিনা অর্পণ করিবে এবং বিধানে জাগরন পূর্ব্বক প্রাতে পারন করিতে হয় ৷

         শিবরাত্রির মাহাত্ম্য ---- লিঙ্গপূজা ও জাগরনাদি করাতে পাপরূপ ব্যাধও পরিত্রাণ পাইয়াছিল ৷ জনৈক চন্ডাল শিবরাত্রি অজ্ঞাত থাকিয়াও অনাদিলিঙ্গের পূজা, উপবাস ও জাগরনফলে নিষ্কলুষ হইয়া শিবের পারিষদ ভক্ত হইয়া ছিলেন ৷ চতুর্দ্দশিতে উপবাসি হইয়া হরপূজা করিয়া নিশাজাগরন করিলে আর পুনর্জ্জন্ম হয় না ৷ বৈষ্ণব হইয়া শিবরাত্রি ব্রত করিলে শিবের কৃপায় শ্রীহরির প্রতি প্রেমভক্তি বর্দ্ধিত হইয়া থাকে ৷ 

                                        " ওঁ নমঃ শিবায় "

মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

তুলসী পাতা খেলে কি হয় ? তুলসী পাতা ভক্ষনের মাহাত্ম্য কি ?

 

   

  যমরাজ যে ব্যক্তির বদনে, মস্তকে ও কর্নে তুলসীদল নিরীক্ষন করেন, তদীয় পাপ মার্জ্জনা করিয়া থাকেন ৷ শতচান্দ্রায়ন না করিলেও ত্রিসন্ধ্যা তুলসীদল ভক্ষন দ্বারা তদপেক্ষা অধিকতর দেহশোধন হয় ৷ তুলদল ভক্ষন করিলে দেহাবসানে পাতকীর ও শুভগতি প্রাপ্তি হয় এবং চন্ডালেরও দেহস্থ পাপ একবারে ভস্মীভূত হইয়া যায় ৷ শুক্ল ও কৃষ্ণবর্ণ গঙ্গা যমুনার জল যেমন নিখিল পাপ দূর করে, তদ্রুপ তুলসীদল ভক্ষন দ্বারাও অখিল কামনা পূর্ণ হয় ৷ প্রবল অগ্নি দ্বারা কাননাদি দাহের ন্যায় তুলসীদল ভক্ষন দ্বারা অখিল পাপ ভস্মীভূত হইয়া থাকে ৷ প্রত্যহ হরিভক্তিতে নিরত থাকিলে  যেরূপ পাপ ধ্বংস হয় তদ্রুপ তুলসীদল ভক্ষন করিলেও অর্জিত সমস্ত পাতক নষ্ট হইয়া থাকে ৷ যাবৎ মানবের বদনে ও শীর্ষে তুলসীদল বিরাজিত না হয়, তাবৎ তদীয় দেহে পাতক বিদ্যমান থাকে ৷ অমৃত হইতে সমুদ্ভুতা ধাত্রী, হরিপ্রিয়া তুলসী, এই উভয়কে স্মরন, কীর্তন, চিন্তন ও ভক্ষন করিলে উহারা নিখিল কামদায়িনী হইয়া থাকেন ৷ ভগববান যমকে বলিয়াছেন যে ব্যক্তি কোন কালে কিছুমাত্র পুণ্যসঞ্চয় করে নাই, অথচ নিখিল মহাপাপে লিপ্ত, তুলসীপত্র ভক্ষন করিলে তাহারও মুক্তি লাভ হয় ৷ ব্যাধ স্বীয় দেহে তুলসীদল ভক্ষন করিয়া প্রান পরিহারান্তে নি:সন্দেহ মদীয় লোকে গমন করিয়াছে ৷  পবিত্রা দ্বাদশী তিথীতে উপবাসী থাকিয়া পারনদিনে তুলসীদল ভক্ষন করিলে অষ্টসংখ্য অশ্বমেধানুষ্ঠানের ফল হইয়া থাকে এবং তুলসীর পতিত দল ও বিগলিত সলিল পবিত্র করে আর তুলসীমূলগত মৃত্তিকা ভালতটে লগ্ন হইলে নিখিল পাপ বিদূরিত হইয়া যায় ৷ তুলসীদলের মাহাত্ম্য এবংবিধ হইলেও বৈষ্ণবেরা শ্রী হরিকে প্রদান না করিয়া উহা কদাচ গ্রহন করিবেন না ৷  

                                  "জয় বৃন্দাজী"

বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

গুরুদেবের মাহাত্ম্য কি ও গুরুর পদাশ্রয় বর্নন

 

     

       ভগবান বলিয়াছেন, প্রথমত: গুরুদেবের অর্চ্চনা করিয়া পরে আমার পূজা করিলে সিদ্ধি  লাভ হয়, অন্যথা পূজা ফলবতী হয় না ৷ নারদও বলিয়াছেন যে, গুরুদেবের সমীপে বিদ্যমান থাকিতে যে ব্যক্তি প্রথমে অপরের পূজা করে, সে দূর্গতি প্রাপ্ত হয় এবং তদীয় পূজাও কোন ফল লাভ হয় না ৷ ভগবানের প্রতি যাহার পরমা ভক্তি আছে এবং ভগবানের প্রতি যেরূপ, গুরুদেবের প্রতিও যাহার সেইরূপ ভক্তি, সেই মহাত্মাই পঞ্চম পুরুষার্থ কৃষ্ণপ্রেম বোধগম্য করিতে পারেন ৷ তাই গুরুর পদাশ্রয় বর্ননে বলছে---

       আশ্রয় করিয়া বন্দি শ্রীগুরুর চরন

            যাহা হইতে মিলে ভাই কৃষ্ণ প্রেমধন ৷

       জীবের নিস্তার লাগি নন্দসুত হরি

                ভূবনে প্রকাশ হন গুরু রূপ ধরি ৷

      মহিমায় গুরু কৃষ্ণ এককরি জান

                গুরু আজ্ঞা হ্নদে ধরি সত্য করি মান ৷

      সত্যজ্ঞানে গুরুবাক্যে যাহার বিশ্বাস 

               অবশ্য তাহার হয় বৃন্দাবনে বাস ৷ 

      গুরু বলি স্বীকার করে যদি পরিত্যাগ করে

          সে অধম অনন্ত নরক ভোগ যে করে ৷

     গুরুদেব মূর্খ হউক হউক বা বিদ্বান

          শিষ্য তাতে ভাবিবেক যেন জনার্দ্দন ৷

    গুরুদেব করে যদি বেশ্যায় গমন 

           তথাপি জানিবে তারে পতিতপাবন ৷

      গুরুকে মনুষ্য জ্ঞান না কর কখন

             গুরু নিন্দা কভূ কর্নে না কর শ্রবন ৷

     গুরু নিন্দুকের মুখ কভু না হেরিবে

             যথা হয় গুরু নিন্দা তথা না যাইবে ৷

     গুরু মাতা গুরু পিতা গুরু হন পতি

            গুরু বিনে এ সংসারে নাহি আর গতি ৷

     কৃষ্ণ রুষ্ট হলে গুরু রাখিবারে পারে 

             গুরু রুষ্ট হলে কৃষ্ণ রাখিবারে নারে ৷

      গুরু পাদপদ্মে রহে যার নিষ্ঠা ভক্তি 

             জগৎ তারিতে সেই ধরে মহাশক্তি ৷

     হেন গুরুর পাদপদ্ম করহ বন্দনা

             যাহা হৈতে ঘুচে ভাই সকল যন্ত্রনা ৷

       আমার মত পাপী গুরু নাহি এ সংসারে

             তুমি পতিতপাবন গুরু কৃপা কর মোরে ৷

       গুরু পাদপদ্ম নিত্য যে করে বন্দন

              শিরে ধরি বন্দি আমি তাহার চরন ৷৷

                         "জয় গুরুদেব"

     

       

            




শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

হিন্দু বিবাহ কত প্রকারে হয় ? হিন্দু বিবাহ কয় প্রকার কি কি ? ইহাদের ব্যখ্যা কি ?


হিন্দু বিবাহ মতে আট প্রকারের বিবাহ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে ৷ 
যেমন ১: ব্রাহ্ম  ২: দৈব  ৩: আর্য  ৪: প্রাজাপত্য  ৫: আসুর ৬: গান্ধর্ব্ব  
৭: রাক্ষস ৮: পৈশাচ ৷ 

(১) ব্রাহ্ম  - কন্যাকে মূল্যবান বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করিয়া এবং অলংকারাদি
 দ্বারা সন্মানিত করিয়া, বিদ্যা ও সদাচার সম্পন্ন বরকে স্বয়ং আমন্ত্রন করিয়া যে কন্যাদান তাকে ব্রাহ্ম বিবাহ বলে ৷

(২) দৈব -  জ্যোতিষ্টোমাদি যজ্ঞের পর সেই যজ্ঞে কর্ম্মকর্তা পুরোহিতকে সালংকৃতা কন্যাদানকে দৈব বিবাহ বলে ? 

(৩) আর্য - যাগাদি অবশ্য কর্ত্তব্য ধর্ম্মের নিমিত্ত বরের নিকট হইতে গো বলী বর্দ্দ এক যুগ বা দুই যুগই হউক, গ্রহন করিয়া তাহাকে যে বিধিবৎ কন্যাদান - তাহাকে আর্য বিবাহ বলে ৷

(৪) প্রাজাপত্য  - "তোমরা উভয়ে গার্হস্থ্য ধর্ম্মের আচরন কর" এই অনুরোধ করিয়া যথাবিধি অলংকারাদি দ্বারা অর্চ্চনা পূর্ব্বক বরকে যে কন্যা দান, তাকে প্রাজাপত্য বিবাহ বলে ৷

(৫) আসুর -  শাস্ত্র মতে নয়, পরন্ত্ত স্বেচ্ছা মতে কন্যার পিতা ও কন্যাকে ধন দিয়া যে কন্যা গ্রহন তাকে আসুর বিবাহ বলে ৷

(৬) গান্ধর্ব্ব -  কন্যা ও বর উভয়ের পরস্পর অনুরাগ বশত যে মিলন হয় তাহাকে গান্ধর্ব্ব বিবাহ বলে ৷

(৭) রাক্ষস -  কন্যা পক্ষীয় লোক দিগকে হনন করিয়া, ছেদন করিয়া, তাহাদিগকে গৃহ ভেদ করিয়া "হা হতোস্মি" বলিয়া রোরুদ্যমানা কন্যাকে
হরন করিয়া যে বিবাহ তাহাকে রাক্ষস বিবাহ বলে ৷

(৮) পৈশাচ -  নিদ্রায় অভিভূতা, মধ্যপানে বিহ্বলা বা উন্মত্তা স্ত্রীলোকে অভিগমনকে পৈশাচ বিবাহ বলে ৷

**  ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য ও প্রাজাপত্য এই চারি প্রকার বিবাহ সর্ব্ববর্ণ পক্ষে প্রশস্ত এবং ধর্ম্মজনক ৷

** আসুর, গান্ধর্ব্ব ও রাক্ষস বিবাহ কেবল ক্ষত্রিয় পক্ষে প্রশস্ত এবং
ভোগজনক ৷

** পৈশাচ বিবাহ ভোগ জনক এবং সকল বিবাহ হইতে অত্যন্ত অধম ও
নিক্রিষ্ঠ ৷
                                    "হরে কৃষ্ণ" 

মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শ্রীমতি রাধারানীর বিবাহ উদ্যোগ কিভাবে হয়েছিল ? এবং রাধাকৃষ্ণের নামের মহিমার বর লাভ কিভাবে হল ?

 


শ্রীমতী রাধারানীকে বিবাহ যোগ্য সময় মনে করিয়া পিতা বৃষভানু রাজা সকল রাজ্যে রাজ্যে বিবাহ যোগ্য বর অন্বেষন করিতে দূত প্রেরন করিলেন ৷ সমগ্র দেশ দেশান্তর ভ্রমন করিয়া দূত এসে বলল - কোশল দেশ নিবাসি মাল্যক নামে এক গোপরাজ ও তাহার পত্নী জটিলা আছেন ৷ তাদের চার পুত্র মদন, দূর্ম্মদ, দম ও আয়ান ৷ এবং তিন কন্যা যশোদা, কুটিলা ও প্রভাকরী ৷ মাল্যকের পুত্র মদন মিত্রদক্ষ গোপের কন্যা অলম্ভুষাকে, দূর্ম্মদ বসুসেন গোপের কন্যা সুদেবীকে ও দম যামুন গোপের কন্যা গন্ধবতীকে বিবাহ করেন ৷ মাল্যকের কন্যা যশোদাকে ব্রজরাজ নন্দ, কুটিলাকে প্রদ্যুম্ন গোপ ও প্রভাকরীকে হেম নামক গোপের কাছে সম্প্রদান করেন ৷ সেই মাল্যকের কনিস্ঠ পুত্র আয়ানই আপনার কন্যা যোগ্য উত্তম বর ৷ তখন বৃষভানু রাজা পরিবারের সকলকে জানাইয়া বিবাহের আয়োজন করিতে লাগালেন ৷ শ্রীমতি রাধিকা এই কথা শ্রবন করিয়া অতিশয় ভয়, চিন্তিত ও বিষন্ন চিত্তা হইয়া পড়িলেন এবং ভাবতে লাগিলেন আমার প্রানের পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণকে কিভাবে এই বিবাহের কথা বলা যায় ৷ তখন রাধা আপনার সখীগনকে আহবান করিয়া কাত্যায়নী ব্রতের ছলে শ্রীকৃষ্ণ আরাধনার ইচ্ছায় কালিন্দী তীরে উপস্থিত হইলেন ৷ শ্রীরাধিকা পরম নিয়মে অবস্থিতা হইয়া জগতের নাথ শ্রীকৃষ্ণকে পতিভাবে লাভ করিবার নিমিত্ত আরাধনা করিতে লাগিলেন ৷ অত্যন্ত কঠোর আরাধনার ফলে, শ্রীপতি ভগবান কৃষ্ণ তাহার সম্মুখে আবির্ভূত হইলেন ৷ প্রেমগর্ভ সুমধুর রসপূর্ণ গম্ভীর বাক্যে হাসিতে হাসিতে শ্রীহরি শ্রীরাধাকে কহিতে লাগিলেন- হে সুরেশ্বরী তুমি তপস্যার বিরাম কর ৷ উগ্রতপ দ্বারা আমাকে ও ত্রিলোককে তাপযুক্ত করিহ না ৷ আমি তোমার ক্রীত দাসের ন্যায় বাধ্য হইলাম ৷ এখন আমার নিকট বর চাও ৷ অতি বিনয় পূর্বক মানসোপচারে প্রনাম এবং পূজা করিয়া শ্রীমতি শ্রীকৃষ্ণকে কহিলেন - হে ভগবন্ আমি অত্যন্ত ভীত , আমি তোমার দাসী ৷আমার পিতা আয়ান গোপের কাছে আমাকে সম্প্রদান করিতে সম্মত হইয়াছে ৷ আমি তৎপরায়না, তুমি ভিন্ন অন্য ক্ষুদ্র মানবে আমাকে বিবাহ করিতে যোগ্য নয় ৷ অনুগ্রহপূর্ব্বক তুমি আমাকে বিবাহ কর ৷ নচেৎ আমি বৃহৎ শিলা কন্ঠে বর্দ্বন করিয়া অগাধ সমুদ্রে নিপতিত হইয়া প্রান ত্যাগ করিব ৷ এই কথা শুনিয়া শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে আপনার কোলে বসাইয়া স্বীয় পীতাম্বরের অঞ্চল দ্বারা নয়ন যুগল মার্জনা করিয়া সুমধুর বাক্যে আশ্বাস করিলেন ৷ তুমি যে আয়ান কর্ত্তৃক পরিনীতা হইবার ভয় করিতেছ সে আয়ান আমারী অংশ , সে ক্ষুদ্র মানব নহে ৷ শ্রীমতী কহিলেন সে তোমার আত্মজ হয় হউক তথাপি সে আমার পানি গ্রহন করিলে আমি তোমার সাক্ষাতেই প্রানত্যাগ করিব ৷ ভগবান বলিলেন হে রাধে পূর্ব্ব বাক্য কদাচ মিথ্যা হইবে না ৷ তবে তোমার মনের উত্তাপ যে উপায়ে নাশ হয় তাহা আমি বলিতেছি শ্রবন কর ৷ আমার মাতুল আয়ান, তাহার বিবাহ দর্শনার্থে মাতা যশোদার সহিত আমি মাতুল গৃহে গমন করিব, মাতার ক্রোড় হইতে বিবাহের সময় মাতুলের অংকগত হইব ৷ শঠতা দ্বারা আয়ানকে তখন পুরুষত্ব হইতে নপুংসক করিব ৷ যেহেতু আমি আয়ানের কোলে অবস্থান করিব সেহেতু বিবাহের উপকরন তোমা হইতে আমিই গ্রহন করিব ৷ তখন তোমার আমার মনোবাসনা সিদ্ধ হইবে ৷ আমাদের গোপন রহস্য লোকে না জানিয়া তোমাকে আয়ানের পত্নী বলিয়া জানিবে ৷  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে বলিলেন হে রাধে আমি তোমার প্রতি প্রীতিযুক্ত হইয়া আরও একটি বর প্রদান করিতেছি এই যে- আমার নাম চিন্তক জনেরা তোমার রাধানাম পূর্বে সংযুক্ত করিয়া সর্ব্বদা কৃষ্ণনাম স্বরন করিবে ৷ যে সকল জ্ঞানবান ব্যাক্তি অগ্রে রাধানাম পরে কৃষ্ণনাম নিত্য স্বরন করিবে সে পরম মোক্ষ লাভ করিবে ৷ যে ব্যাক্তি ত্রিসন্ধ্যা রাধাকৃষ্ণ যুগল নাম জপ করে সে গোহত্যা, ব্রহ্মহত্যা, স্ত্রীহত্যা, শিশু হত্যা, বিশ্বাস ঘাতকাদি সমস্ত পাপ তাহার বিনাশ হইবে ৷ সুরাপান, শুক্র বিক্রয় কারক, অগম্যা স্ত্রী গমন কর্ত্তা, শূদ্রাদির স্ত্রী সম্ভোগ কৃত ব্রাহ্মন ও স্বর্নাপহারী ব্যক্তি রাধাকৃষ্ণ যুগল নাম উচ্চারনের ফলে পাপে মুক্ত হইয়া পরামুক্তি লাভ করিবে ৷ আর যদিও মোহ প্রযুক্ত বা ব্যাঙ্গোক্তি ক্রমে পরিহাস ছলে কেহ আমার নাম অগ্রে উচ্চারন করত পরে তোমার রাধা নাম স্বরন করে তাহলে সে ভ্রুনহত্যা, ব্রহ্মহত্যা জনিত সমস্ত পাপে পাতকী হইতে হইবে এবং কোটি জন্মকৃত পূন্যরাশি তৎক্ষন মাত্রে বিনস্ট হইবে ৷ এইরূপ মধুরালাপ দ্বারা জনার্দ্দন শ্রীকৃষ্ণ নিজ প্রিয়া রাধাকে বিস্তর আশ্বাস করিয়া প্রেমভাবে স্বীয় পরিধৃত কনক কৌপিনাঞ্চলে তাহার গাত্র মার্জনা করিতে করিতে ক্ষনমাত্রে অন্তর্দ্ধান হইলেন ৷ 
"হরেকৃষ্ণ"

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...