গন্ধ = চন্দন, অগুরু, কর্পূর, কস্তূরী, কুঙ্কুম ইত্যাদি সমস্তের নামই গন্ধ ৷ দুই ভাগ কস্তূরী, চার ভাগ চন্দন, তিন ভাগ কুঙ্কুম, এক ভাগ কর্পূর একত্র করলে তাকে গন্ধ বলা যায় ৷ উহা সমস্ত দেবগনের প্রিয় ৷ চন্দন বিশুদ্ধ, চন্দন হইতে অগুরু , অগুরু হইতে কৃষ্ণাগুরু, কৃষ্ণাগুরু হইতে কুঙ্কুম অধিক পবিত্র ৷ যেরূপ শালিতন্ডুলের নৈবেদ্য হরির প্রিতিকর তুলসী চন্দনও সেইরূপ ৷ তুলসী কাষ্ঠ ঘর্ষন পূর্ব্বক যদি শ্রীরামের শিরোদেশে প্রধান করা যায়, কর্পূর, অগুরু, কস্তূরী ও কুঙ্কুমও তৎসদৃশ হয় না ৷ ইহা অগস্তসংহিতায় লিখিত ৷ স্কন্ধ পুরানের মতে,শঙ্খে চন্দন গ্রহনপূর্ব্বক দেবদেব জনার্দ্দনের
দেহে লেপন করিলে পরমাত্মা শতবর্ষ যাবৎ পরম সন্তোষ অনুভব করিয়া থাকেন ৷ সমস্ত দ্রব্য একত্র করত হরির অঙ্গে মর্দ্দন করিলে মূখ্য অশ্বমেধ যজ্ঞফল লাভ হয় ৷ মৃগমদ কস্তূরীযোগে শ্রীমূর্ত্তীর কেশপাশের সৌগন্ধ্য বর্ধন করিলে সর্ব্বকামদ যজ্ঞফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ৷
তুলসীকাষ্ঠ চন্দন =গরুড় পুরানে লিখিত আছে, যিনি কলিকালে মহাবিষ্ণুকে তুলসীকাষ্ঠ চন্দন অর্পন পূর্ব্বক মালতীকূসুম দ্বারা পূজা করেন
তাকে পুনরায় আর সংসারবন্ধনে বন্দীভূত হইতে হয় না ৷ শ্রীহরিকে তুলসী কাষ্ঠের চন্দন প্রদান করিলে সেই চন্দন অর্চ্চকের পূর্ব্বশতজন্মসঞ্চিত
পাতক নিঃশেষে দগ্ধ করিয়া ফেলে ৷ দেহবিসর্জ্জন
কালে যাহার শরীরে তুলসী চন্দন লিপ্ত থাকে, সে ব্যক্তি নিজে হরিসারূপ্য প্রাপ্ত হইয়া হরিকে লাভ করিয়া থাকে ৷ কলিযুগে যে ব্যক্তি ভগবদ্ভক্ত হইয়া নিরন্তর হরিকে তুলসীকাষ্ঠ চন্দন প্রদান না করে, সে কদাচ ভগবানের ভক্ত হইতে পারে না ৷ প্রহ্লাদ সংহিতায় লিখিত আছে, যে ব্যক্তি শ্রীহরিকে তুলসী কাষ্ঠের চন্দন প্রদান করেন, তৎসদৃশ বৈষ্ণব ধরাতলে লোকমধ্যে আর নাই ৷ তুলসীকাষ্ঠ
চন্দন সেবন করিলে, বিশেষতঃ মরন সময়ে দেহে লেপন করিলে, পাপী হইলেও তাহার মুক্তি লাভ হয় ৷ যিনি শ্রাদ্ধকালে পিতৃগনের উদ্দেশে তুলসী কাষ্ঠ চন্দন অর্পন করেন, তদীয় পিতৃকুল শতবর্ষ যাবৎ সন্তুষ্ট থাকেন ৷ বিষ্ণুধর্ম্মোত্তরে লিখিত আছে যে, দেহ তুলসী কাষ্ঠচন্দনে অনুলিপ্ত করত হরির অর্চ্চনা করিলে একদিবসের অর্চ্চনাতেই শতবর্ষকৃত অর্চ্চনার ফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ৷
"হরেকৃষ্ণ"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন