সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২

অধিবাসের পদাবলী কীর্তন ৷ পদাবলী কীর্তন দ্বারা অধিবাস ৷

   


 ও  একদিন পহুঁ আসি  অদ্বৈত মন্দিরে বসি

                      বলিলেন শচীর কুমারে ৷

         নিত্যানন্দ করি সঙ্গে  অদ্বৈত বসিয়া রঙ্গে 

                       মহোৎসবের করিলা বিচার ৷৷

       শুনিয়া আনন্দে আসি   সীতা ঠাকুরানী হাসি 

                        কহিলেন মধুর বচন রে ৷

       তা শুনি আনন্দ মনে   মহোৎসবের বিধানে

                      কহে কিছু শচীর নন্দন রে ৷৷

     শোন ঠাকুরানী সীতা    বৈষ্ণব আনিয়ে হেথা

                      আমন্রন করিয়া যতনে ৷

       যেবা গায় যে বাজায়    আমন্রন করি তায়

                      পৃথক পৃথক জনে জনে ৷৷

        এত বলি গোরা রায়  আজ্ঞা দিলা সবাকায়

                     বৈষ্ণব করহ আমন্রনে ৷

           খোল করতাল লৈয়া    অগুর চন্দন দিয়া

                      পূর্নঘট করহ স্হাপন রে ৷৷

        আরোপন করি কলা  তাহে বান্ধ ফুলমালা

                       কীর্তন মন্ডলী কুতুহলে ৷

            সুমাল্য চন্দন গুয়া    ঘৃত মধু দধি দিয়া

                      খোল মঙ্গল সন্ধ্যাকালে ৷৷

       শুনিয়া প্রভুর কথা প্রীতে বিধি কৈল যথা

                    নানা উপহার গন্ধবাসে রে ৷

             সবে হরি হরি বলে    খোল মঙ্গল করে

                    পরমেশ্বর দাস রসে ভাসে রে ৷৷ 

        

      নানা দ্রব্য আয়োজন   করি করে আমন্রন                        কৃপা করি কর আগমন রে ৷

      তোমরা বৈষ্ণবগন   মোর এই নিবেদন

                 দৃস্টি করি কর সমাপন রে ৷৷

        করি এত নিবেদন   আনিল মহান্তগন

                  কীর্তনের করি অধিবাস ৷

       বৈষ্ণবের আগমন   গৃহে নাম সংকীর্তন

                 কালি হবে কীর্তন বিলাস ৷৷


         আগে রম্ভা আরোপন   পূর্নঘট স্থাপন

                  আম্র পল্লব সারি সারি ৷

         দ্বিজ বেদধ্বনি পড়ে   নারীগন জয় কারে

                  আর সবে বলে হরি হরি ৷৷

         দধি ঘৃত মঙ্গল   করি সবে উতরোল

                  করয়ে আনন্দ পরকাশ ৷

        আনিয়া বৈষ্ণবগন    দিয়া মালা চন্দন

                   কীর্তন মঙ্গল অধিবাস ৷৷

        সবার আনন্দ মন   বৈষ্ণবের আগমন

                  কালি হবে চৈতন্য কীর্তন রে ৷

         শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম   শ্রী নিত্যানন্দ রাম

                 গুন গায় বৃন্দাবন দাস রে ৷৷



                    জয় জয় নবদ্বীপ মাঝ ৷

    গৌরাঙ্গ আদেশ পাঞা   ঠাকুর অদ্বৈত যাঞা

                   করে খোল মঙ্গলের সাজ ৷৷

        আনিয়া বৈষ্ণব সব    হরিবল কলরব

                মহোৎসবের করে অধিবাস ৷

       আপনে নিতাই ধন   দেই মালা চন্দন    

               করে প্রিয় বৈষ্ণব সম্ভাষ ৷৷

    গোবিন্দ মৃদঙ্গ লইয়া বাজায় তাতা থৈয়া থৈয়া

              করতালে অদ্বৈত চপল রে ৷

   হরিদাস করে গান   শ্রীবাস ধরয়ে তান 

             নাচে গোরা কীর্তন মঙ্গল রে ৷৷

    চৌদিকে বৈষ্ণবগন   হরিবলে ঘনে ঘন

         কালি হবে কীর্তন মহোৎসব রে ৷

     আজি খোল মঙ্গলী   রাখিয়ে আনন্দ করি

            বংশী বলে দেহ জয় রব রে ৷

                     "হরে কৃষ্ণ"

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২

বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আবির্ভাব তিথি কখন কবে ?


 বসন্ত পঞ্চমী বড় মধুর তিথি ৷ এই দিনে প্রকৃতি নুতন মাধুরী লইয়া জীবের মনরঞ্জন করে এবং প্রানে অপ্রাকৃত নব নব ভাবের সঞ্চার করিয়া দেয় ৷ এই জন্য এই তিথিকে শ্রীপঞ্চমী বলা হয় ৷ এ হেন মধুময়ী তিথিতে পরম প্রেমমূর্ত্তী শ্রী শ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া জগতে অবতীর্ন হন ৷ এই দিনে সকল বিদ্যার অধিস্ঠাত্রী পরমজ্ঞানস্বরূপিনী দেবী সরস্বতীর পূজা হইয়া থাকে ৷ শ্রীশ্রী সরস্বতী দেবী জীবের অজ্ঞানতমঃ নাশ করিয়া জ্ঞানলোক প্রদান করেন ৷ ইহার কৃপায় জ্ঞানচক্ষুঃ উন্মীলিত হইলে শ্রী ভগবান কি বস্তু , জীব তাহা জানিতে সমর্থ হয়, এবং তাহার পরই জীবের ভক্তি ও প্রেমের উদ্রেক হয়, তখন মানব পঞ্চম পুরুষার্থ প্রেম পাইয়া ধন্য হইয়া যায় ৷ তাই এই তিথী জীবের নিকট পরম শুভ তিথি এই দিনের স্মরনে পর্যন্ত প্রানে অপার ১১আনন্দের সঞ্চার হয় ৷                              ১৪১৭ শকে অর্থাৎ ১৪৯৫ খ্রীস্টাব্দে দেবী জন্ম গ্রহন করেন ৷ ইহার পিতার নাম সনাতন মিশ্র, মাতার নাম মহামায়া ৷ দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া যখন ভুমিষ্ঠ হন তখন শ্রী গৌরাঙ্গের বয়স ১০ বৎসর ৷ হরিবল  হরেকৃষ্ণ  ৷

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...