ও একদিন পহুঁ আসি অদ্বৈত মন্দিরে বসি
বলিলেন শচীর কুমারে ৷
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে অদ্বৈত বসিয়া রঙ্গে
মহোৎসবের করিলা বিচার ৷৷
শুনিয়া আনন্দে আসি সীতা ঠাকুরানী হাসি
কহিলেন মধুর বচন রে ৷
তা শুনি আনন্দ মনে মহোৎসবের বিধানে
কহে কিছু শচীর নন্দন রে ৷৷
শোন ঠাকুরানী সীতা বৈষ্ণব আনিয়ে হেথা
আমন্রন করিয়া যতনে ৷
যেবা গায় যে বাজায় আমন্রন করি তায়
পৃথক পৃথক জনে জনে ৷৷
এত বলি গোরা রায় আজ্ঞা দিলা সবাকায়
বৈষ্ণব করহ আমন্রনে ৷
খোল করতাল লৈয়া অগুর চন্দন দিয়া
পূর্নঘট করহ স্হাপন রে ৷৷
আরোপন করি কলা তাহে বান্ধ ফুলমালা
কীর্তন মন্ডলী কুতুহলে ৷
সুমাল্য চন্দন গুয়া ঘৃত মধু দধি দিয়া
খোল মঙ্গল সন্ধ্যাকালে ৷৷
শুনিয়া প্রভুর কথা প্রীতে বিধি কৈল যথা
নানা উপহার গন্ধবাসে রে ৷
সবে হরি হরি বলে খোল মঙ্গল করে
পরমেশ্বর দাস রসে ভাসে রে ৷৷
নানা দ্রব্য আয়োজন করি করে আমন্রন কৃপা করি কর আগমন রে ৷
তোমরা বৈষ্ণবগন মোর এই নিবেদন
দৃস্টি করি কর সমাপন রে ৷৷
করি এত নিবেদন আনিল মহান্তগন
কীর্তনের করি অধিবাস ৷
বৈষ্ণবের আগমন গৃহে নাম সংকীর্তন
কালি হবে কীর্তন বিলাস ৷৷
আগে রম্ভা আরোপন পূর্নঘট স্থাপন
আম্র পল্লব সারি সারি ৷
দ্বিজ বেদধ্বনি পড়ে নারীগন জয় কারে
আর সবে বলে হরি হরি ৷৷
দধি ঘৃত মঙ্গল করি সবে উতরোল
করয়ে আনন্দ পরকাশ ৷
আনিয়া বৈষ্ণবগন দিয়া মালা চন্দন
কীর্তন মঙ্গল অধিবাস ৷৷
সবার আনন্দ মন বৈষ্ণবের আগমন
কালি হবে চৈতন্য কীর্তন রে ৷
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম শ্রী নিত্যানন্দ রাম
গুন গায় বৃন্দাবন দাস রে ৷৷
জয় জয় নবদ্বীপ মাঝ ৷
গৌরাঙ্গ আদেশ পাঞা ঠাকুর অদ্বৈত যাঞা
করে খোল মঙ্গলের সাজ ৷৷
আনিয়া বৈষ্ণব সব হরিবল কলরব
মহোৎসবের করে অধিবাস ৷
আপনে নিতাই ধন দেই মালা চন্দন
করে প্রিয় বৈষ্ণব সম্ভাষ ৷৷
গোবিন্দ মৃদঙ্গ লইয়া বাজায় তাতা থৈয়া থৈয়া
করতালে অদ্বৈত চপল রে ৷
হরিদাস করে গান শ্রীবাস ধরয়ে তান
নাচে গোরা কীর্তন মঙ্গল রে ৷৷
চৌদিকে বৈষ্ণবগন হরিবলে ঘনে ঘন
কালি হবে কীর্তন মহোৎসব রে ৷
আজি খোল মঙ্গলী রাখিয়ে আনন্দ করি
বংশী বলে দেহ জয় রব রে ৷
"হরে কৃষ্ণ"
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন