মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শ্রীমতি রাধারানীর বিবাহ উদ্যোগ কিভাবে হয়েছিল ? এবং রাধাকৃষ্ণের নামের মহিমার বর লাভ কিভাবে হল ?

 


শ্রীমতী রাধারানীকে বিবাহ যোগ্য সময় মনে করিয়া পিতা বৃষভানু রাজা সকল রাজ্যে রাজ্যে বিবাহ যোগ্য বর অন্বেষন করিতে দূত প্রেরন করিলেন ৷ সমগ্র দেশ দেশান্তর ভ্রমন করিয়া দূত এসে বলল - কোশল দেশ নিবাসি মাল্যক নামে এক গোপরাজ ও তাহার পত্নী জটিলা আছেন ৷ তাদের চার পুত্র মদন, দূর্ম্মদ, দম ও আয়ান ৷ এবং তিন কন্যা যশোদা, কুটিলা ও প্রভাকরী ৷ মাল্যকের পুত্র মদন মিত্রদক্ষ গোপের কন্যা অলম্ভুষাকে, দূর্ম্মদ বসুসেন গোপের কন্যা সুদেবীকে ও দম যামুন গোপের কন্যা গন্ধবতীকে বিবাহ করেন ৷ মাল্যকের কন্যা যশোদাকে ব্রজরাজ নন্দ, কুটিলাকে প্রদ্যুম্ন গোপ ও প্রভাকরীকে হেম নামক গোপের কাছে সম্প্রদান করেন ৷ সেই মাল্যকের কনিস্ঠ পুত্র আয়ানই আপনার কন্যা যোগ্য উত্তম বর ৷ তখন বৃষভানু রাজা পরিবারের সকলকে জানাইয়া বিবাহের আয়োজন করিতে লাগালেন ৷ শ্রীমতি রাধিকা এই কথা শ্রবন করিয়া অতিশয় ভয়, চিন্তিত ও বিষন্ন চিত্তা হইয়া পড়িলেন এবং ভাবতে লাগিলেন আমার প্রানের পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণকে কিভাবে এই বিবাহের কথা বলা যায় ৷ তখন রাধা আপনার সখীগনকে আহবান করিয়া কাত্যায়নী ব্রতের ছলে শ্রীকৃষ্ণ আরাধনার ইচ্ছায় কালিন্দী তীরে উপস্থিত হইলেন ৷ শ্রীরাধিকা পরম নিয়মে অবস্থিতা হইয়া জগতের নাথ শ্রীকৃষ্ণকে পতিভাবে লাভ করিবার নিমিত্ত আরাধনা করিতে লাগিলেন ৷ অত্যন্ত কঠোর আরাধনার ফলে, শ্রীপতি ভগবান কৃষ্ণ তাহার সম্মুখে আবির্ভূত হইলেন ৷ প্রেমগর্ভ সুমধুর রসপূর্ণ গম্ভীর বাক্যে হাসিতে হাসিতে শ্রীহরি শ্রীরাধাকে কহিতে লাগিলেন- হে সুরেশ্বরী তুমি তপস্যার বিরাম কর ৷ উগ্রতপ দ্বারা আমাকে ও ত্রিলোককে তাপযুক্ত করিহ না ৷ আমি তোমার ক্রীত দাসের ন্যায় বাধ্য হইলাম ৷ এখন আমার নিকট বর চাও ৷ অতি বিনয় পূর্বক মানসোপচারে প্রনাম এবং পূজা করিয়া শ্রীমতি শ্রীকৃষ্ণকে কহিলেন - হে ভগবন্ আমি অত্যন্ত ভীত , আমি তোমার দাসী ৷আমার পিতা আয়ান গোপের কাছে আমাকে সম্প্রদান করিতে সম্মত হইয়াছে ৷ আমি তৎপরায়না, তুমি ভিন্ন অন্য ক্ষুদ্র মানবে আমাকে বিবাহ করিতে যোগ্য নয় ৷ অনুগ্রহপূর্ব্বক তুমি আমাকে বিবাহ কর ৷ নচেৎ আমি বৃহৎ শিলা কন্ঠে বর্দ্বন করিয়া অগাধ সমুদ্রে নিপতিত হইয়া প্রান ত্যাগ করিব ৷ এই কথা শুনিয়া শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে আপনার কোলে বসাইয়া স্বীয় পীতাম্বরের অঞ্চল দ্বারা নয়ন যুগল মার্জনা করিয়া সুমধুর বাক্যে আশ্বাস করিলেন ৷ তুমি যে আয়ান কর্ত্তৃক পরিনীতা হইবার ভয় করিতেছ সে আয়ান আমারী অংশ , সে ক্ষুদ্র মানব নহে ৷ শ্রীমতী কহিলেন সে তোমার আত্মজ হয় হউক তথাপি সে আমার পানি গ্রহন করিলে আমি তোমার সাক্ষাতেই প্রানত্যাগ করিব ৷ ভগবান বলিলেন হে রাধে পূর্ব্ব বাক্য কদাচ মিথ্যা হইবে না ৷ তবে তোমার মনের উত্তাপ যে উপায়ে নাশ হয় তাহা আমি বলিতেছি শ্রবন কর ৷ আমার মাতুল আয়ান, তাহার বিবাহ দর্শনার্থে মাতা যশোদার সহিত আমি মাতুল গৃহে গমন করিব, মাতার ক্রোড় হইতে বিবাহের সময় মাতুলের অংকগত হইব ৷ শঠতা দ্বারা আয়ানকে তখন পুরুষত্ব হইতে নপুংসক করিব ৷ যেহেতু আমি আয়ানের কোলে অবস্থান করিব সেহেতু বিবাহের উপকরন তোমা হইতে আমিই গ্রহন করিব ৷ তখন তোমার আমার মনোবাসনা সিদ্ধ হইবে ৷ আমাদের গোপন রহস্য লোকে না জানিয়া তোমাকে আয়ানের পত্নী বলিয়া জানিবে ৷  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে বলিলেন হে রাধে আমি তোমার প্রতি প্রীতিযুক্ত হইয়া আরও একটি বর প্রদান করিতেছি এই যে- আমার নাম চিন্তক জনেরা তোমার রাধানাম পূর্বে সংযুক্ত করিয়া সর্ব্বদা কৃষ্ণনাম স্বরন করিবে ৷ যে সকল জ্ঞানবান ব্যাক্তি অগ্রে রাধানাম পরে কৃষ্ণনাম নিত্য স্বরন করিবে সে পরম মোক্ষ লাভ করিবে ৷ যে ব্যাক্তি ত্রিসন্ধ্যা রাধাকৃষ্ণ যুগল নাম জপ করে সে গোহত্যা, ব্রহ্মহত্যা, স্ত্রীহত্যা, শিশু হত্যা, বিশ্বাস ঘাতকাদি সমস্ত পাপ তাহার বিনাশ হইবে ৷ সুরাপান, শুক্র বিক্রয় কারক, অগম্যা স্ত্রী গমন কর্ত্তা, শূদ্রাদির স্ত্রী সম্ভোগ কৃত ব্রাহ্মন ও স্বর্নাপহারী ব্যক্তি রাধাকৃষ্ণ যুগল নাম উচ্চারনের ফলে পাপে মুক্ত হইয়া পরামুক্তি লাভ করিবে ৷ আর যদিও মোহ প্রযুক্ত বা ব্যাঙ্গোক্তি ক্রমে পরিহাস ছলে কেহ আমার নাম অগ্রে উচ্চারন করত পরে তোমার রাধা নাম স্বরন করে তাহলে সে ভ্রুনহত্যা, ব্রহ্মহত্যা জনিত সমস্ত পাপে পাতকী হইতে হইবে এবং কোটি জন্মকৃত পূন্যরাশি তৎক্ষন মাত্রে বিনস্ট হইবে ৷ এইরূপ মধুরালাপ দ্বারা জনার্দ্দন শ্রীকৃষ্ণ নিজ প্রিয়া রাধাকে বিস্তর আশ্বাস করিয়া প্রেমভাবে স্বীয় পরিধৃত কনক কৌপিনাঞ্চলে তাহার গাত্র মার্জনা করিতে করিতে ক্ষনমাত্রে অন্তর্দ্ধান হইলেন ৷ 
"হরেকৃষ্ণ"

1 টি মন্তব্য:

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...