রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

কলিকালের মানুষ অল্পপুন্যফলে কিভাবে উদ্ধার পাবে ? কে বৈষ্ণব ? বৈষ্ণবের লক্ষন কি ? বৈষ্ণবের মাহাত্ম্য কি ? কৃষ্ণকথা শ্রবনে পাপ ও পূন্য কিভাবে হয় ?

 


         পদ্মপুরানে মুনিপুরুষ জৈমিনি সর্ব্বার্থ পারদর্শী সত্যবতীসুত গুরুদেব বেদব্যাসকে দন্ডবৎ প্রনিপাত পূর্ব্বক বলিলেন, গুরুদেব- কলিকালে নরগন অল্পায়ু হইবে ; সুতরাং অল্প পুন্যফলে কিরূপে তাহাদের মোক্ষলাভ হইতে পারিবে, তাহা আমাকে বলুন ? 

           ব্যাসদেব বলিলেন- হে বিপ্র- সাধুসঙ্গ বা বৈষ্ণব সঙ্গ গুনে শাস্ত্রশ্রবণ, তাহা হইতে হরিভক্তি, হরিভক্তি হইতে জ্ঞান ও জ্ঞান হইতে বিষ্ণুভক্তি বা কৃষ্ণভক্তি হইয়া সদ্গতি লাভ ঘটিয়া থাকে ৷

         ভূতলে পাপী জনের নিকট বৈষ্ণবী কথা প্রীতিকর হয় না , জানিবে তাদৃশ্য ব্যক্তি দ্বিজ হইলে ও পাপীগনের মধ্যে প্রধান পাপী ৷ বৈষ্ণব জন কৃষ্ণকথা শুনিয়া আনন্দিত হইয়া থাকেন ; কিন্তু সেই কথা যে ব্যক্তি অসত্য বলিয়া উল্লেখ করে, জানিবে সেই ব্যক্তি ও পাপিগনের মধ্যে প্রধান ৷ যেখানে কৃষ্ণকথা হয় জগন্নাথ কৃষ্ণ কদাচ সেই স্থান পরিত্যাগ করে না , যে নরাধম কৃষ্ণ কথারম্ভে বিঘ্নোৎপাদন করে, শত মন্বন্তরে ও তাহার নরক হইতে নিস্কৃতি লাভ ঘটে না , যাহারা পুরানকথা, কৃষ্ণকথা শুনিয়া নিন্দা বা উপহাস করে, বহুক্লেশকর নরক সকল তাহাদের নিকটস্থ হইয়া থাকে ৷

           যে ব্যক্তি কৃষ্ণ চরিত শুনিবার বাসনা করে, তাহার জন্মান্তরার্জ্জিত পাপ তৎক্ষনাৎ বিনষ্ট হইয়া থাকে ৷ যে নর ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণ চরিত শ্রবন করে, না জানি তাহার সেই শ্রবন ফলে কি অপূর্ব্ব গতিই লাভ হইয়া থাকে ৷ ব্রহ্মহত্যাদি পাপ সুরাপান বা স্তেয়, অকালমরন পাপ , সকলই কৃষ্ণকথা শ্রবনে বিলয় প্রাপ্ত হয় ৷ যে মানব প্রথমে পাপ করিয়া পরে পাপ নিবারক সৎকর্ম্মের অনুস্ঠান করে , অগ্নিদগ্ধ তুলারাশির ন্যায় তাহার সকল পাপই নষ্ট হইয়া যায় ৷ হে বিপ্র! যাহার গৃহে কৃষ্ণচরিতময় গ্রন্থ থাকে, যমকিঙ্করগন তাহার গৃহপ্রান্তে ও আসিতে পারে না ৷

     জৈমিনি কহিলেন গুরু! কাহারা বৈষ্ণব ? বৈষ্ণবের লক্ষন কি ? বৈষ্ণবের মাহাত্ম্যই বা কি - আপনি কীর্ত্তন করুন ৷

          ব্যাস বলিলেন - হে দ্বিজ, যাহাদের হিংসা নাই, দম্ভ নাই, কাম-ক্রোধ বা লোভ - মোহ নাই, জানিবে তাহারাই প্রকৃত বৈষ্ণবজন ৷ যাহারা পিতৃভক্ত, দয়াযুক্ত, সর্ব্বপ্রানীর হিতে রত, মাৎসর্য্যহীন, সত্যভাষী, বিপ্রভক্তিরত, পরদার- বিমুখ ও একাদশীব্রত নিষ্ঠ, সর্ব্বদা হরিনাম গান করেন, তুলসীমালা ধারন করেন, হরিপাদোদকে সিক্ত হন, যাহাদের উভয় কর্ণে ও মস্তকে কখনও কখনও উত্তম তুলসীপত্র পরিদৃষ্ট হয়, যাহারা পাষন্ড সঙ্গ করেন না, ব্রাহ্মনে যাহাদের দ্বেষ নাই, যাহারা তুলসী তরু সেক করেন, হরিপূজা করেন, তুলসী দ্বারা হরির অর্চ্চনা করেন, অতিথি পূজা করেন, কন্যা দান করেন, বিষ্ণু বা কৃষ্ণ বা গৌর লীলা শ্রবন করেন, হরি গৃহ মার্জ্জন করেন,  দীনজনে দয়াপরবশ হন, পরস্ব ও ব্রাহ্মন দ্রব্য বিষবৎ অবলোকন করেন, যাহারা হরিনৈবেদ্য ভক্ষন করেন, যাহারা বেদানুরক্ত, তুলসীবন পালক, কৃষ্ণাষ্টমী, রাধাষ্টমী ইত্যাদি ব্রতেরত, শ্রদ্ধার সহিত শ্রীকৃষ্ণাগ্রে দীপ দান করেন, কখনও পরের নিন্দা করে না-- জানিবে তাহারাই যথার্থ বৈষ্ণব জন ৷

         ব্যাস বলিলেন-হে দ্বিজ ! যে পাপী নর ভক্তি ভরে মস্তকে বৈষ্ণব-পাদোদক ধারন করিয়া সেবন করে তাহার আর তীর্ফস্নান প্রয়োজন হয় না,   অকাল মৃত্যু হয় না, সর্ব্বব্যাধি হইতে  মুক্তিলাভ হয় ৷  যে নর ক্ষনকাল বা ক্ষনার্দ্ধকালও বৈষ্ণব সঙ্গ বা সাধুসঙ্গ করে, তাহার ব্রহ্মহত্যাদি যাবতীয় সকল পাপই নষ্ট হইয়া থাকে ৷ যে কোন কুলেই হউক, একজন মাত্র বৈষ্ণব জন্ম গ্রহন করিলেই সেই কুল পাপযুক্ত থাকিলেও তৎক্ষনাৎ মোক্ষগামী  হইয়া থাকে ৷

          যে সকল নরোত্তম শ্রদ্ধার সহিত উপরোক্ত কথা শ্রবন করে, তাহারা সর্ব্বপাপ হইতে মুক্ত হইয়া শ্রী হরির পরমপদে উপনীত হইয়া থাকে ৷

                          " হরেকৃষ্ণ "

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...