মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

 

    

       একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  নুপুর, ও বাঁশরী কে অঙ্গের ভূষণ করিলেন ? এই চারিজন কি তপস্যা করিয়া পূর্ণব্রহ্ম নিরঞ্জনে অনায়াসে পাইল ৷

           ব্রহ্মা বলিলেন — নারদ এই নিগুঢ় তত্ত্ব ব্যক্ত যোগ্য নয় ৷ তবে ভক্তিযোগে যে প্রভুর সাধক,  পুণ্যবান , শুদ্ধমতি, সর্ব্ববিঘ্ন পরাজিত, জিতেন্দ্রিয় হইলে এই তত্ত্ব বলা উচিত ৷ তুমি কৃষ্ণ পরায়ন,  জিতেন্দ্রিয়, শুদ্ধমতি,  ভক্তিযোগ পূর্ণ ভাবে তোমাতে আছে ৷ সেই কারণে এই তত্ত্ব তোমাকে নিশ্চিত বলবো তবে কদাচিত অন্য জনে ব্যক্ত করিবে না ৷

              পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের শক্তি হতে রাই, জন্মিলেন মহাদেবী যার পর নাই ৷ সর্ব্বলক্ষ্মীময়ী দেবী প্রভুর মহিষী,  নিজ অংশে সৃজিলা ষোল সহস্ত্র রূপসী ৷ নিত্যসিদ্ধা সেই সব শুনেছ দিয়া মন, সমর্থারতিতে সদা মগ্ন নারায়ন ৷ যুবক রতিতে মগ্ন যুবতীর সনে, গোলক অবধি বিহরয়ে সর্ব্ব- জনে ৷ সকলের শ্রেষ্ঠ রাধা ঈশ্বর প্রেয়সি , ষোল সহস্রেক হল তার নিজ দাসী ৷ সমর্থারতিতে সবে ঈশ্বরে ভজিল,  অতিশয় প্রিয় প্রভু প্রেম বাড়াইল ৷ 

        দেখিয়া সকল প্রেম নির্জন বিহার,  সূর্য চন্দ্র উথলিল প্রেম পারাবার ৷  রাধা প্রেমে মগ্ন হয়ে নিশা দিন পতি,  সেই প্রেম ইচ্ছিয়া ঈশ্বরে করে স্তুতি ৷ সদাই শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গে অঙ্গ মিশাইয়া , থাকিব ইহাই মনে বাসনা করিয়া ৷ ক্ষীরোদ সমুদ্রে গিয়ে তপস্যা করিল , দেবমানে দ্বাদশ বৎসর বয়ে গেল ৷ করিল কঠোর তপ কি কহিব তায় ৷ হেঁট মাথা বাতাহার ঊর্দ্ধ দুই পায় ৷ চন্দ্র সূর্য তপ দেখি যতেক নির্জ্জরা, মহাভয়ে সকলে হইল দিশাহারা ৷ দেববৃন্দ লয়ে ইন্দ্র হংসধ্বজে কয় , রবি শশী ইন্দ্রত্ব লইবে মহাশয় ৷ তপস্যা করয়ে দোঁহে ব্রহ্মান্ডে অদ্ভুত , শুনি তপ ভঙ্গে ব্রহ্মা করিল বহুত ৷ অশেষ প্রকারে শক্তি করে দেবগন , কোনমতে নহিল সে তপস্যা ভঙ্গন ৷ দেখিয়া অদিতি সুত উন্মনা হইল , মহাতপ করি নারায়ণে জানাইল ৷ স্তবকরি বলে প্রভু শুনহ অচ্যুত,  চন্দ্র-সূর্য তপস্যায় সবে ভয়যুত ৷ অমরে আশ্বাস দিয়া করিয়া অভয় , রবি শশী নিকটে গেলেন বিশ্বময় ৷ তপস্যা হইল পূর্ণ কহে নারায়ন ৷ অতঃপর বর মাগি লহ দুইজন ৷ শ্রীকৃষ্ণে দেখিয়া দোঁহে করিল প্রণতি ,  কৃতাঞ্জলি অষ্টাঙ্গ লোটয়ে পড়ি ক্ষিতি ৷

           মনের মানস তবে কহে দুইজন , যদি প্রভু করিলেন কৃপাবলোকন ৷ শ্রীমতি যেমন তোমা  হৃদিপরে ধরে , সেই মতো প্রেম প্রভু কর দোঁহা- কারে ৷ সতত লইব তব অঙ্গ সমীরন, এই বর কৃপা কর দেব নিরঞ্জন ৷ এতেক শুনিয়া তবে কমলার পতি , প্রসন্ন হইয়া কহে প্রভাকর প্রতি ৷ শুন ভানু তপস্যা করহ সম্ভরণ, এখন আমারে না পাইবে কদাচন ৷ দ্বাপরের সন্ধি যুগে অবতার হব , ব্রজ বৃন্দাবনে বহু বিহার করিব ৷ রাধা আদি এই ষোল সহস্র রমনী,  জন্মিবে ব্রজেতে হয়ে গোপের নন্দিনী ৷ তাহা সবা লয়ে যবে বনে বিহরিব, তখন তোমারে আমি কন্ঠেতে ধরিব ৷ বৃন্দাবনে অপ্রকট নবগুঞ্জা হবে, গুঞ্জলতা হয়ে তুমি কুঞ্জ ঘেরি রবে ৷ পদ্মরাগ মণি বর্ণ হইবে তোমার,  সেই গুঞ্জা লয়ে আমি বনাইব হার ৷ গুঞ্জামালা হয়ে তুমি হইবে স্ত্রীজাতি, কন্ঠেতে ধরিব তোমা শুন দিনপতি ৷ রাধার কি প্রেম ইচ্ছা করহ তপন, তোমা দেখি লুব্ধ হবে রাধিকার মন ৷ ত্রিভুবনে যতেক আছয়ে বধূচয়, নাগ নর গন্ধর্ব্ব কিন্নর সুরব্যয় ৷ তোমা দেখি সর্বজন মোহিত হইবে, বিপিনে সবার অঙ্গ মদনে জারিবে ৷ এক অংশে সূর্য্য তুমি হইবে উদয়, এক অংশে বৃন্দাবনে হবে গুঞ্জাময় ৷ কৃষ্ণ অবতারে মাত্র করিব ধারণ, তদন্তরে মোর আর নহিবে ভাজন ৷ ব্রজগোপী মনোবাঞ্ছা পুরাব যখন, তোমার মানস পুর্ণ হইবে তখন ৷ শুনি সূর্য্য আনন্দেতে আপনা পাসরে, বর লভি গেল তবে অমর নগরে ৷ এক অংশ গগনেতে করয়ে উদয়, এক অংশ বৃন্দাবনে গুঞ্জালতা হয় ৷ সেই গুঞ্জা লয়ে প্রভু গাঁথিলেন হার, গলেতে ধারণ কৈল ত্রিভুবন সার ৷

         চন্দ্রেরে চাহিয়া তবে বলে বিশ্বময়, আর না তপস্যা কর কশ্যপ তনয় ৷ বৃন্দাবনে কাম্যবনে মথুরা মন্ডলে, তথায় যাইয়া জন্ম লহ শিখী কূলে ৷ স্ত্রী অংশ না হবে তুমি পুরুষ হইবে, শিখীপুচ্ছ উপরেতে বিরাজ করিবে ৷ চন্দ্রের আকার হবে সুনির্ম্মল অতি, অধঃ উর্দ্ধ বেষ্টিত যে অরুণ আকৃতি ৷ সূর্য হতে উচ্চপদ দিলাম তোমাকে, সেই পুচ্ছ লয়ে আমি ধরিব মস্তকে ৷ রত্নময় মুকুট যে শোভিবে মস্তকে, তাহার উপরে আমি ধরিব তোমাকে ৷ মস্তকে মোহন চূড়া তব নাম হবে, ত্রিভুবন মোহিত যে অপাঙ্গে হেরিবে ৷ যোগীন্দ্র মুনিন্দ্র যে ফনিন্দ্র ইন্দ্রজিৎ, দেবাসুরে নাগ নরে হইবে মুর্চ্ছিত ৷ স্থাবর জঙ্গম নদ নদী সরোবর, পশুপক্ষী আদি যে হেরিবে পুচ্ছবর ৷ তব রূপে মগ্ন হয়ে যত বধূচয়, সর্ব্বত্যাগী হইবে ত্যজিবে লজ্জা ভয় ৷ ব্রজ মন্ডলেতে কৃষ্ণ অবতার হব, তব পুচ্ছ চূড়া করি মস্তকে ধরিব ৷ কৃষ্ণ অবতারে মাত্র করিব ধারণ, আর অন্য অবতারে করিব বর্জ্জন ৷ একাংশে উদয় চন্দ্র করিবে গগনে, এক অংশে শিখিপুচ্ছ হবে বৃন্দাবনে ৷ শুনিয়া ত সুধাকর আনন্দ হইল, শিখিপুচ্ছ গ্রহকলা তখন জন্মিল ৷  সেইপুচ্ছ লয়ে প্রভু মদনমোহন, মুকুট অগ্রেতে হরি করিল ধারণ ৷ গুঞ্জামালা শিখিপুচ্ছ কহিলাম কথন বাঁশরী নূপুর তত্ত্ব করহ শ্রবণ ৷৷

            বংশী ও নূপুরের তত্ত্ব কথা — মুরলী বলিয়া নাম আর যেই বেনু ৷ পূর্বে কহিলাম যাহা শঙ্করের ধনু ৷৷ অষ্টাঙ্গুলি হয় বেনু শোনহ মুনি ৷ দ্বাদশ অঙ্গুলি হয় শোভন মুরলী ৷৷ আছে বাজাই- বার যে সময় নির্ণয় ৷ শুন শুন কহি তাহা নারদ সুজন ৷৷ গোষ্ঠেতে গমন কালে চড়াইতে ধেনু ৷ সখা গণ মধ্যে প্রভু বাজাইল বেনু ৷৷ যশোদা রন্ধনকালে ভক্ষণ সময় ৷ তখন মুরলী ধ্বনি করে রসময় ৷৷ কামিনী মোহিল যবে কামিনী প্রয়াসী ৷ তখন বাজান প্রভু বিনোদিয়া বাঁশি ৷৷ বাঁশী রবে কুলবধু ত্যজে লজ্জা ভয় ৷ অষ্টাদশাঙ্গুলি বাঁশী শুন মহাশয় ৷৷ বেণু মুরলীর সঙ্গ না হয় বাঁশরী ৷ বাঁশী পূর্ব্ব তত্ত্ব শুন কহিব বিস্তারি ৷৷

        সমর্থারতিতে রাধা ত্রিভুবন জিনি ৷ যার প্রেমে অধীন হইল চক্রপাণি ৷৷ নিরন্তর গোলকেতে রাধারে লইয়ে ৷ সখী সম্বোধনে থাকে ক্রীড়াযুক্ত হয়ে ৷৷ সদা রাধা তুষ্টি প্রেম আলিঙ্গন দানে ৷ মন মগ্ন থাকে রাধা কৃষ্ণ সুধা পানে ৷৷ রাধার সৌভাগ্য প্রেম দেখি সরস্বতী ৷ বিরহেতে বিষ্ণুপ্রিয়া খেদান্বিত অতি ৷৷ আপনাকে ধিক্ মানি বৈকুণ্ঠ ত্যজিল ৷ ক্ষীর সিন্ধু তীরে গিয়া তপ আরম্ভিল ৷৷ করয়ে কঠোর তপ শুনহে মুনি ৷ দেবমানে শতেক বৎসর মানি ৷৷ তপস্যাতে রত যদি সে বাকবাদিনী ৷ ত্রিভুবনে বাক্যহত হল যত প্রাণী ৷৷ ব্রজ ধ্বজ বায়ব্য বাস্তব বিধি যত ৷ বেদ বিধি পুরাণাদি তাল মান হত ৷৷ সকলে হইল বোবা প্রমাদ ঘটিল ৷ ত্রিভুবনে তপ জপ সব ভঙ্গ হৈল ৷৷ দেখিয়া দৈত্যারি তবে কৈল আগমন ৷ সারদা সম্মুখে দাঁড়াইল সনাতন ৷৷ অনেক প্রকারে তপ ভঙ্গ যে নহিল ৷ পাঞ্চজন্য শঙ্খ নাদ শ্রীবিষ্ণু করিল ৷৷ শঙ্খ রবে সারদার ধ্যান ভঙ্গ হয় ৷ সাক্ষাতে নাথেরে দেখি প্রণাম করয় ৷৷ গদগদ স্বরে তবে বলয়ে বচন ৷ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ কর কামিনী মোহন ৷৷ রাধার প্রেমের প্রেমী কর ভগবান ৷ অধর-অমৃত তব সদা করি পান ৷৷ আর কিছু নাহি চাহি শুন প্রান হরি ৷ ওই করপল্লব যেন সদা দেহে ধরি ৷৷ মানস বুঝিয়া বিষ্ণু বলিলা তখন ৷ কৃষ্ণ অবতারে হব নন্দের  নন্দন ৷৷ অপ্রকট ব্রজলীলা ব্রজগোপী সনে ৷ তাতে তোমা বাঁশী করি করিব ধারণে ৷৷ অধর- অমৃত হেতু করিলে মানস ৷ অবিরত পান যে করিবে সুধা রস ৷৷ অগ্রে রস ভোগ তুমি সতত করিবে ৷ তব অবশেষ ভাগ রাধাদি পাইবে ৷৷ তপ ত্যজি এখন  নিবস স্বর্গপুরে ৷ বাক্যহীন কন্ঠে গিয়া বৈস জীবাধারে ৷৷ এক অংশে বৈকুন্ঠে থাকিবে নিত্য সুখী ৷ আর অংশে বেনুবৃক্ষ গিয়া হবে বিধুমুখী ৷৷ বৃন্দাবনে যমুনা কুলেতে মধুবনে ৷ বেনুবৃক্ষ হয়ে জন্ম লইবে সেখানে ৷৷ যমুনা বারিতে সদা মূল ধৌত হবে ৷ সেই বৃক্ষ বেড়ি নানা পুষ্প বিকশিবে ৷৷ সৌরভেতে আমোদিত হবে তব তল ৷ ব্রম্মাদি দেবতা বাঞ্ছা করিবে সে স্থল ৷৷ অবতার হব যবে নন্দের ভবনে ৷ গোপাঙ্গনা সহ বিহরিব বৃন্দাবনে ৷৷ তাহে তব পর্ব্ব লয়ে করিব বাঁশরী ৷ সেই বাঁশী স্বরেতে মজিবে যত নারী ৷৷ স্ত্রীজাতি হইবে মোর, তৃপ্ত হবে মন ৷ প্রিয়া তুল্যা করি তোমা করিব ধারণ ৷৷ সদা করে করে তোমা করিব মর্দ্দন ৷ নিরন্তর আমার পাইবে আলিঙ্গন ৷৷ তোমার সুস্বরে হবে ব্রহ্মাদি মোহিত ৷ কাম ঘোরে কাহার না থাকিবে সম্বিত ৷৷ রাধা আদি অঙ্গনা শুনিয়া তব ধ্বনি ৷ উম্মত্তা হইয়া সবে লুটিবে ধরণী ৷৷ কূল শীল লাজ ভয় সকল মজাবে ৷ নিস্কামী যে জন তারে সকামী করিবে ৷৷ শুনিয়া সারদা তবে প্রফুল্ল হইল ৷ বিষ্ণুর চরন ধরি প্রণতি করিল ৷৷ বর লভি বিধুমুখী বৈকুন্ঠে চলিল ৷ দৃষ্টি মাত্র চরাচরে বাক্যস্ফূর্ত্তি হৈল ৷৷ কতদিন পরে দেবী অংশ নিয়োজিল ৷ মধুবনে আসি বেনুবৃক্ষ জনমিল ৷৷ হইল প্রবল বৃক্ষ যমুনার তীরে ৷ নিরন্তর মূল তার ধৌত হয় নীরে ৷৷ বৃন্দাবন বিহারী আনিয়া পর্ব্ব তার ৷ করিলা মোহন বাঁশী সংসারের সার ৷৷ অষ্টাদশ অঙ্গুলি যে বাঁশরী নির্ম্মাণ ৷ সে অন্ডকটাহ ভেদে যাহার নিশান ৷৷ কেবল শ্রীকৃষ্ণরূপে করে ধরে বাঁশী ৷ অন্য অবতারে ইহা নহে অভিলাষী ৷৷ জগতের চিন্তামণি যেই নারায়ণ ৷ যাহার যে বাঞ্ছা পূর্ণ করেন তখন ৷৷ বাঁশী উপাখ্যান করিলে শ্রবণ ৷ নুপুরের কথা এবে শুন দিয়া মন ৷৷

            স্বয়ম্ভূব মনুপুত্র চন্দ্রকান্ত মনু ৷ সারদার তপে তার মগ্ন হল তনু ৷৷ সরস্বতী তপ দেখি চিন্তিত হৃদয় ৷ দুগ্ধ সমুদ্রেতে সেই তপস্যা করয় ৷৷ বিষম তাহার তপ হাজার বৎসর ৷ স্বর্গ মর্ত্য পাতাল কাঁপিল চরাচর ৷৷ তপস্যাতে স্থির নহে অনন্তের শির ৷ ঘন ঘন ভূমিকম্প পৃথিবী অস্থির ৷৷ ব্যস্ত হয়ে বসুন্ধরা ব্রহ্মলোকে গেল ৷ বিধিমতে পদ্মাসনে প্রণতি করিল ৷৷ গাভীমূর্ত্তি ধরি তবে সেই ত ধরণী ৷ ব্রহ্মা সহ তপ করে যথা চক্রপাণি ৷৷ পিতামহ পৃথিবীর তপ অনিবার ৷ জানিয়া বিদায় করে সংসারের সার ৷৷ যাহ যাহ আর নাহি করহ স্তবন ৷ অচিরেতে তব ভার করিব মোচন ৷৷ পৃথিবীরে পদ্মাসনে বিদায় করিয়া ৷ চন্দ্রকান্ত মনু কাছে উত্তরিল গিয়া ৷৷ উৎকট তপস্যা করে মনু বংশধর ৷ নহিল নহিবে হেন তপস্যা দুষ্কর ৷৷ বহু যত্ন কৈল প্রভু ধ্যান ভাঙ্গিবারে ৷ তপস্যা না টুটে তার না ভেদে অন্তরে ৷৷ তবে মনে যুক্তি করি ভক্তবৎসল ৷ শঙ্খধ্বনি  বেদধ্বনি একত্রে করিল ৷৷ দুই শব্দ বিপুলে ত্রিপুর চমৎকার ৷ শুনি ধ্যান ভঙ্গ হৈল মনুর কুমার ৷৷ সম্মুখে জগৎময়ে দেখিয়া তখন ৷ কৃতাঞ্জলি করি বহু করিল স্তবন ৷৷  প্রসন্ন হইয়া তবে কহে গদাধর ৷ তপস্যা ত্যজিয়া মনোনীত চাহ বর ৷৷ চন্দ্রকান্ত বলে, যদি হৈলে কৃপাবান ৷ পাদপদ্ম যুগলে সতত দেহ স্থান ৷৷ বড় ভক্ত চন্দ্রকান্ত জানি নারায়ন ৷ তপস্যাতে কৈল সেহ পাষণ্ড দলন ৷৷ যুগল চরণ যদি বাঞ্ছা সে করিল ৷ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ তব শ্রীবিষ্ণু বলিল ৷৷ শুন শুন মনু আর না কর স্তবন ৷ মঞ্জীর হইয়া তুমি যাহ বৃন্দাবন ৷৷ যমুনা পুলিনে হ্রদ পদ্ম বিকশিত ৷ স্বর্ণখনি আছে তায় অতি সুশোভিত ৷৷ সেই খনি মধ্যে তুমি অতি গোপনেতে ৷ রতন নুপুর হয়ে রহগে ত্বরিতে ৷৷ কৃষ্ণ অবতারে আমি ভ্রমিব কানুন ৷ তোমা লয়ে পদযুগে করিব ধারণ ৷৷ জলক্রীড়া হেতু মোরা জলে যাব যবে ৷ সেই ক্ষণে তুমি মোর চরণে লাগিবে ৷৷ না চলিতে পদে তুমি আপনি বাজিবে ৷ তোমার ধ্বনিতে ত্রিভুবন মুগ্ধ হবে ৷৷ তোমার সৌভাগ্য সীমা কেহ না জানিবে ৷ ব্রহ্মাদি দেবতা তব অদৃষ্ট  বাঞ্ছিবে ৷৷ তব ভাগ্য বাঞ্ছা করি পুরুষ প্রকৃতি ৷ ত্রিভুবনে খেদাগুনে (দুঃখের আগুনে) না পাবে নিষ্কৃতি ৷৷ চূরা গুঞ্জামালা আর বাঁশরী ভূষণে পরস্পর তব ভাগ্য ইচ্ছিবেক মনে ৷৷ এই কহিলাম নুপুরের বিবরণ ৷ সকলের শ্রেষ্ঠ তারে কৈল নারায়ন ৷৷ প্রভুর অভয় পদে রতন নূপুর ৷ প্রেমে পুলকিত  হয়ে বাজয়ে মধুর ৷৷ পদামৃত পান করে হইয়া আহ্লাদ ৷ পূর্ণ সরোবরে যেন ফুটে কোকনদ ৷৷ চরণ পঙ্কজে মধু তায় মধুকর ৷ হয়ে মধু পান করে নুপুর প্রখর ৷৷ মধুপানে মত্ত হয়ে চরণ পংকজে ৷ না চলিতে চরণ আপনি সেই বাজে ৷৷ ত্রিভুবন মূর্ছা হয় শুনি তার নাদ ৷ বিরহী জনের হয় অতি পরমাদ ৷৷ গুঞ্জামালা আর যে মোহন বংশীবরে ৷ নূপুরের সৌভাগ্য সতত বাঞ্ছা করে ৷৷ মস্তকে মোহন চূড়া  খেদান্বিত অতি ৷ সদা ইচ্ছা করে সেই নুপুরের গতি ৷৷ চরণের নুপুর দর্শন উপক্রমে ৷ মস্তকে থাকিয়া চূড়া  সদা হেলে বামে ৷৷ গুঞ্জামালা চূড়াবাঁশী নুপুর  কথন ৷ এই কহিলাম অপূর্ব বিবরণ ৷৷ কৃষ্ণ অবতারে মাত্র এ চারি ভূষণ ৷ দেখিয়া মূর্ছিত হল দেবাঙ্গনাগণ ৷৷ শ্রীকৃষ্ণ চরিত্র এই সুধার সাগর ৷ পুরান প্রমাণ কথা শুনে সাধু নর ৷৷

                   " জয় রাধে কৃষ্ণ "

বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২

অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা ৷ অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের নিয়ম কি ? অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতের কি ফল ?

 

 

     অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা = একদা ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির শতানীক মুনির নিকট ধর্মকথা শ্রবণ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, হে মহর্ষি প্রবর ৷ আপনার মুখে ইতোপূর্বে জলদানের মাহাত্ম্য শ্রবণ করিয়াছি, অধুনা পুনরায় উহা সবিস্তারে শ্রবণ করিতে বাসনা জন্মিয়াছে অতএব কৃপা পুরঃসর কীর্তন করুন ৷

           শতানীক বলিলেন পুরাকালে কর্কশভাষী ক্রোধী, নিষ্ঠুর,  ধর্ম-কর্ম ত্যাগী এক ব্রাহ্মণ ছিল ৷ একদা এক ব্রাহ্মণ ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে তার দ্বারে গিয়ে কিছু অন্ন আর জল প্রার্থনা করেন ৷ তাতে নিষ্ঠুর সেই ব্রাহ্মণ অত্যন্ত রেগে বললেন যাও যাও এখানে ও সব কিছু হবে না, তুমি এখনি এখান হতে দূর হয়ে যাও৷  আমার ঘরে ও সব কিছু নেই ৷ এই কথা শুনে সেই ক্ষুধার্থ ব্রাহ্মণ চিন্তা করতে লাগলেন তাইতো কি করি, কোথায় যাই ৷

       এমন সময় সেখানে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণের স্ত্রী সুমতি এসে হাজির হল ৷ সুমতি ছিল সতী-সাধ্বী আর ধর্ম পরায়ণা ৷ সে স্বামীকে বলল প্রভু ৷ ক্ষুধা তৃষ্ণার্ত অতিথি আসিয়া যদি তোমার গৃহ হইতে বিমুখ হইয়া প্রস্থান করে, তাহার বিষন্ন মুখ দেখিয়া যদি তোমার প্রাণে বেদনা অনুভূত না হয়, তাহলে এই ধন সম্পদ আর সংসার ধর্মের কি দরকার ? এই বলে সুমতি সেই ক্ষুধা কাতর ব্রাহ্মণকে বলল আপনি এই আসনে বসুন, আমি আপনাকে জল দিচ্ছি ৷ এই কথা বলে সেই সতীনারী ব্রাহ্মণকে পরিষ্কার শীতল জল দিল ৷ সেই দিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া ৷ তিথি মাহাত্ম্যে সেই জলদান অক্ষয় হয়ে গেল ৷ হে ধর্মরাজ বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথিটিই অক্ষয় তৃতীয়া ৷ এই দিন যে কর্মের অনুষ্ঠান করা হয় তাই অক্ষয় হয়ে যাবে ৷ এই তিথিতে জল দান করলে অন্তকালে বিষ্ণুলোকে তার চিরবাস হয় ৷

           এই ঘটনার পর ব্রাহ্মণের কালপূর্ণ হলো ৷ তখন যমদুতেরা এসে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণকে বেঁধে যমরাজের কাছে নিয়ে গেল ৷ তখন তৃষ্ণায় সেই ব্রাহ্মণের কন্ঠতালু শুকিয়ে গেছে ৷ তার উপর যমদুতদের উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে, সেই ব্রাহ্মণ বললো-হে ধর্মরাজ,  আমার প্রতি কি আদেশ হয় ? আমি ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়েছি  ৷

           যমরাজ তখন দুতগণকে বললেন একে তোমরা ত্যাগ কর ৷ এই ব্যক্তি খুব পুণ্যবান ৷ এর পত্নী বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়ায়একজন তৃষ্ণায় কাতর ব্রাহ্মণকে জলদান করেছিল ৷ এই কথা বলে ধর্মরাজ যম সেই ব্রাহ্মণকে বললেন-হে ব্রাহ্মণ তুমি গৃহে ফিরে যাও ৷ তোমার পত্নী বৈশাখের অক্ষয় তৃতীয়াতে জল দান করেছিল বলেই তোমার নরকবাস হলো না ৷ এই তিথীতে যে যা পুণ্য কাজ করে তা অক্ষয় হয়ে থাকে ৷ তখন ব্রাহ্মণ নরক মুক্ত হয়ে পরজন্মে পত্নীসহ জনার্দনের আরাধনা করে ব্রতের অনুষ্ঠান দ্বারা বৈকুণ্ঠে গমন করলেন ৷

           

               ব্রতের নিয়ম = গোটা কতক যব, একটি ভোজ্য, একটি তালপাতার পাখা, একখানি নতুন কাপড়, জলপূর্ণ একটি কলসি, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই ব্রত করিতে হয় ৷ যব দিয়া প্রথমে লক্ষী নারায়নের পূজা করিয়া ব্রাহ্মণকে ভোজ্য, জলপূর্ণ কলসী,  তালপাতার পাখা, গামছা বা নতুন কাপড় দান করিতে হয় ৷ পর পর আট বছর এই ব্রত পালন করিয়া উদযাপন করিবে ৷ উদযাপন বৎসরে প্রত্যেক জিনিস আটটি হিসাবে ব্রাহ্মণকে দান করিয়া সামর্থ মত দক্ষিণা দিবে ৷ ঐদিন যবের ছাতু খাইয়া দিন-রাত্রি কাটাইতে হয় ৷


              ব্রতের দ্রব্য = সিন্দুর, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগব্য, তিল, হরিতকী, ফুল, দূর্বা, তুলসী, বিল্বপত্র, ধুপ, দীপ, ধুনা, আসনাঙ্গুরীয় ২, মধুপর্ক বাটি ২, দধি, মধু, চিনি, ঘৃত, পূজার বস্ত্র ১ , শাড়ি ১ , নৈবেদ্য ২, কুচা নৈবেদ্য ১, সভোজ্য জলপূর্ণ ঘট ১, বস্ত্র ১, পাখা ১, দক্ষিণা সাধ্যমত ৷


            ব্রতের ফল = এই ব্রত আমাদের দেশে চির প্রচলিত ৷ এই ব্রতের ফলে ইহলোকে সর্বপ্রকার সুখের অধিকারী হইয়া মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠে বাস হয় ৷ স্ত্রী পুরুষ উভয়েরই এই ব্রত পালনের অধিকার আছে ৷

                                " শুভ অক্ষয় তৃতীয়া "

বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূর অষ্টোত্তর শতনাম ৷ ইহা পঠনে শ্রবনে কি ফল হয় ?


 

         কর মন গোরাপদ সার ৷  ভাবিয়া দেখহ মন সকলি অসার ৷৷               ধনপুত্র পরিবার সব মায়ারঙ্গ ৷   কি সুখ লাগিয়া বল কর তার সঙ্গ ৷৷          সব ছাড়ি গৌরহরি নামে কর মতি ৷  মহাসুখ পাবে যাবে সকল বিপত্তি ৷৷      কর্ম্মী জ্ঞানী সঙ্গ ছাড়ি সাধু সঙ্গে থাক ৷ কাঁদিয়া সদা গৌর বলে ডাক  ৷৷        সাধুসঙ্গে নিত্য কর গৌরলীলা গান ৷  তাঁর পদদ্বয় হৃদে সদা কর ধ্যান ৷৷      গোরাপদ ছাড়ি আন পদ নাহি ভজ ৷ নৈষ্টিক হইয়া মন গোরাপ্রেমে মজ ৷৷    যেই গোরা সেই কৃষ্ণ দৃঢ় করি জান ৷ এই সে পরমতত্ত্ব ইথে নাহি আন ৷৷       শ্রীগৌরাঙ্গপাদপদ্ম করিয়া স্মরণ ৷ গৌরাঙ্গের অষ্টোত্তর শতনাম             করিলাম রচন ৷৷

  

জয় জয় গৌরহরি শচীর নন্দন ৷ শ্রীচৈতন্য বিশ্বম্ভর পতিত - পাবন ৷৷               জয় মহাপ্রভু গৌরচন্দ্র দয়াময় ৷ অধমতারণ নাথ ভকত আশ্রয় ৷৷             জীবের জীবন গোরা করুণাসাগর ৷ জগন্নাথ মিশ্র সুত গৌরাঙ্গ সুন্দর ৷৷       প্রেমময় প্রেমদাতা জগতের গুরু ৷ শ্রীগৌর গোপালদেব বাঞ্ছাকল্পতরু ৷৷ নিত্যানন্দ ঠাকুরের মহানন্দ দাতা ৷ সর্ব্বাভীষ্ট পূর্ণকারী সর্ব্ব চিত্তজ্ঞাতা ৷৷   শ্রীগদাধরের প্রাণ অখিলের পতি ৷ লক্ষ্মীর সর্ব্বস্ব ধন অগতির গতি  ৷৷      শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ার নাথ নিত্যানন্দময় ৷ সর্ব্ব গুণনিধি সর্ব্ব রসের আলয় ৷৷       জগদানন্দের প্রিয় নবদ্বীপচন্দ্র ৷ অদ্বৈত আরাধ্য কৃষ্ণ পুরুষ স্বতন্ত্র ৷৷         বংশীর বল্লভ নবদ্বীপ সু-নাগর ৷ ভুবন বিজয়ী সর্ব্বজন মুগ্ধকর ৷৷            রসিকেন্দ্র চুড়ামণি রসিক সুঠাম ৷ ভক্তাধীন ভক্তপ্রিয় সর্ব্বানন্দ ধাম ৷৷      স্বরূপের সুখদাতা রূপের জীবন ৷ শ্রীসনাতনের নাথ নিত্য সনাতন ৷৷ শ্রীজীববৎসল প্রভূ ভকতবৎসল ৷ ভট্ট গোসাঞির প্রিয় দুর্ব্বলের বল ৷৷         শ্রীরঘুনাথের নাথ শ্রীবাসের বাস ৷ ভগবান্ ভক্তরূপ অনন্ত প্রকাশ ৷৷             লোকনাথ লোকাশ্রয় ভকতরঞ্জন ৷ শ্রীরঘুনাথ দাসের হৃদয়ের ধন ৷৷          অভিরাম ঠাকুরের সখা সর্বপাতা ৷ চিন্তামনি চিন্তানীয় হরিনাম দাতা ৷        পরমেশ পরাৎপর দুঃখবিমোহন ৷ জগাই মাধাই আদি-পাপীউদ্ধারণ ৷       রসরাজ মূর্ত্তি রামানন্দ বিমোহন ৷ সার্ব্বভৌম পণ্ডিতের গর্ব্ব বিনাশন ৷৷    অমোঘের প্রাণদাতা দুর্জ্জয় দলন ৷ পূর্ণকাম নির্ম্মলাত্মা লজ্জা নিবারণ ৷৷ পরমাত্মা সারাৎসার বৈষ্ণব জীবন ৷ সুখময় সুখদাতা ভুবন-ভাবন ৷৷         বিশ্বরূপ বিশ্বনাথ বিশ্ব বিমোহন ৷ শ্রীগৌরগোবিন্দ ভক্তচিত্ত সুরঞ্জন ৷৷        নয়নের অভিরাম ভাবুক রমণ ৷ ভক্ত-চিত্ত-চোর ভক্তচিত্ত বিনোদন ৷৷            নদীয়া বিহারী হরি রমণী মোহন ৷ দ্বিজকুলচন্দ্র দ্বিজকুল পূজ্যতম ৷৷            সুকবি শ্রীনিধি দক্ষ নয়নরঞ্জন ৷ বারেক আমার হৃদে দেহ শ্রীচরণ ৷৷            ভাবুক সন্ন্যাসী সব জীব নিস্তারক ৷ ভাবুকজনার সুখ দিতে সুনায়ক ৷৷ প্রতাপরুদ্রের অভিলাস পূর্ণকারী ৷ স্বরূপাদি ভক্তের সদা আজ্ঞাকারী ৷৷            পূর্ণ অবতার সার করুণানিদান ৷ পরম উদাস প্রভু মোরে কর ত্রাণ ৷৷             অনন্ত প্রভুর নাম অনন্ত মহিমা ৷ অনন্তাদি বেদে যাঁর দিতে নারে সীমা ৷৷   গৌরাঙ্গ মধুর নাম কর মন সার ৷ যাহা বিনে কলিযুগে গতি নাই আর ৷৷           যেই নাম সেই গোরা জানিহ নিশ্চয় ৷ নামের সহিত প্রভু সতত আছয় ৷৷         গৌর নাম হরিনাম একই যে হয় ৷ ভাগবত বাক্য এই মিথ্যা কভু নয় ৷৷             কর কর ওহে মন নাম সংকীর্তন ৷ পাপ তাপ দূরে যাবে পাবে প্রেমধন ৷৷        গৌর নাম কৃষ্ণ নাম অতি সুমধুর ৷ সদা আস্বাদয়ে যেই সে বড় চতুর ৷৷            শিব আদি যেই নাম সদা করে গান ৷ সে নামে বঞ্চিত হলে কিসে হবে ত্রাণ ৷৷


        এই শত অষ্ট নাম যে করে পঠন ৷ অনায়াসে পায় সেই চৈতন্য চরণ ৷৷  শত অষ্ট নাম যেই করয়ে শ্রবণ ৷ তার প্রতি সদা তুষ্ট শচীর নন্দন ৷৷          শ্রীজাহ্নবী রামপদ করিয়া শরণ ৷ শত অষ্ট নাম গায় এ শচী নন্দন ৷৷


                             " নিতাই গৌর সীতানাথ হরি হরি বল "


বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২

ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সহস্র নাম কি কি ? ইহা শ্রবনে বা পাঠে কি ফল হয় ?


       

          গরুড় পুরানে ভগবান হরিকে রুদ্র কহিলেন, হে প্রভূ জনার্দ্দন — মনুষ্য কোন মন্ত্র জপ করিলে ঘোর সংসার সাগর হইতে মুক্তি পাইতে পারে  ? সেই পরম জপ্য মন্ত্র আমার নিকট কীর্ত্তন করুন ৷ হরি বলিলেন, পরমব্রহ্ম, পরমাত্মা নিত্য, পরমেশ্বর বিষ্ণুকে সহস্র নাম দ্বারা স্তব করিলে মনুষ্য ভব সাগর হইতে পার পাইতে পারে ৷ এই স্তব পাঠে সর্ব্বপাপ বিনষ্ট হয় ৷ পবিত্র ও পরমজপ্য এই সহস্র নাম স্তব বলিতেছি, হে বৃষধ্বজ-তুমি অবহিত চিত্তে শ্রবন কর = 

               বাসুদেব, মহাবিষ্ণু, বামন, বাসব, বসু, বালচন্দ্রনিভ, বাল, বলভদ্র, বলাধিপ, বলিবন্ধন- কৃৎবেধা, বরেন্য, বেদবিৎ, কবি, বেদকর্ত্তা, বেদরূপ, বেদ্য, বেদপরিপ্লুত, বেদাঙ্গবেত্তা, বেদেশ, বলাধার, বলার্দ্দন, অবিকার, বরেশ, বরদ, বরুনাধিপ, বীরহা, বৃহৎ, বীর, বন্দিত, পরমেশ্বর, আত্মা, পরমাত্মা, প্রত্যগাত্মা, বিয়ৎ, পর, পদ্মনাভ, পদ্মনিধি, পদ্মহস্ত, গদাধর, পরম, পরভূত, পুরুষোত্তম, ঈশ্বর, পদ্মজঙ্ঘ, পুন্ডরীক, পদ্মমালাধর, প্রিয়, পদ্মাক্ষ, পদ্মগর্ভ, পর্জ্জণ্য, পদ্মসংস্থিত, অপার, পরমার্থ, পরাৎপর, প্রভূ, পন্ডিত, পন্ডিতপবিত্র, পাপমর্দ্দক, শুদ্ধ, প্রকাশরূপ, পবিত্র, পরিরক্ষক, পিপাসাবর্জ্জিত, পাদ্য, পুরুষ, প্রকৃতি, প্রধান, পৃথিবীপদ্ম, পদ্মনাভপ্রিয়প্রদ, সর্ব্বেশ, সর্ব্বগ, সর্ব্ব, সর্ব্ববিদ, সর্ব্বদ, পর, সর্ব্বজগদ্ধাম, সর্ব্বদর্শী, সর্ব্বভৃৎ, সর্ব্বানুগ্রহকৃৎ, দেব, সর্ব্বভূতরিদিস্থিত, সর্ব্বপ, সর্ব্বপূজ্য, সর্ব্বদেবনমস্কৃত, সর্ব্বজগন্মুল, সকল, নিস্কল, অনল, সর্ব্বগোপ্তা, সর্ব্বনিষ্ঠ, সর্ব্বকারনকারন, সর্ব্বধ্যেয়, সর্ব্বমিত্র, সর্ব্বদেবস্বরূপধ্বক, সর্ব্বাধ্যক্ষ, সুরাধ্যক্ষ, সুরাসুরনমস্কৃত, দুষ্টঘাতক, অসুরান্তক, সত্যপাল,সন্নাভ, সিদ্ধেশ, সিদ্ধবন্দিত, সিদ্ধসাধ্য, সিদ্ধসিদ্ধ, সিদ্ধসিদ্ধরিদীশ্বর,জগচ্ছরন্য, শ্রেয়, ক্ষেম, শুভকৃৎ, শোভন, সৌম্য, সত্য, সত্যপরাক্রম, সত্যস্থ, সত্যসঙ্কল্প, সত্যবিৎ, সত্যদ, ধর্ম্ম, ধর্ম্মী, কর্ম্মী, সর্ব্বকর্ম্মবিবজ্জিত, কর্ম্মকর্ত্তা, কর্ম্ম, ক্রিয়া, কার্য্য, শ্রীপতি, নৃপতি, শ্রীমান, সর্ব্বপতিবর্জ্জিত, দেবপতি, বৃষ্ণিপতি, হিরন্যগর্ভপতি, ত্রিপুরান্তপতি, পশুপতি,বসুপতি, ইন্দ্রপতি, বরুনপতি, বনস্পতিপতি, অনিলপতি, অনলপতি, যমপতি, কুবেরপতি, নক্ষত্রপতি, ওষধিপতি, বৃক্ষপতি, নাগপতি, অর্কপতি, দক্ষপতি, সুকৃতপতি, নৃপপতি, গন্ধর্ব্বপতি, অনুপতি, উত্তম, পর্ব্বতপতি, নদীপতি, দেবপতি, শ্রেষ্ঠ, কপিলপতি, লতাপতি, বীরুধপতি, মুনিপতি, সূর্য্যপতি, চন্দ্রপতি, শুক্রপতি, গ্রহপতি, রাক্ষসপতি, কিন্নরপতি, দ্বিজপতি, সরিৎপতি, সমুদ্রপতি, সরোবরপতি, ভূতপতি, বেতালপতি, কুষ্মান্ডপতি, পক্ষিপতি, পশুপতি, মহাত্মা, মঙ্গল, মেয়, মন্দর, মন্দরেশ্বর, মেরু, মাতা, প্রমান, মাধব, মনোবর্জ্জিত, মালাধর, মহাদেব, মহাদেবপুজিত, মহাশান্ত, মহাভাগ, মধুসুদন, মহাবীর্য্য, মহাপ্রাণ, মার্কন্ডেয়প্রবন্দিত, মায়াদ, মায়াবন্দ, মায়াবিবর্জ্জিত, মুনিস্তুত, মুনি, মৈত্র, মহানাস, মহাহনু, মহাবাহু, মহাদন্ত, মরনবিবর্জ্জিত, মহাবক্র, মহাত্মা, মহাকায়, মহোদর, মহাপাদ, মহাগ্রীব, মহামানী, মহামনাঃ, মহামতি, মহাকীর্ত্তি, মহারূপ, মহাসুর, মধু, মাধব, মহাদেব, মহেশ্বর, মখেজ্য, মখরূপী, মাননীয়, মখেশ্বর, মহাবাত, মহাভাগ, মহেশ, অতীতমানুষ, মানব, মনু, মানব প্রিয়ঙ্কর, মৃগ, মৃগপূজ্য, মৃগপতি, বুধপতি, বৃহস্পতিপতি, শনৈশ্চরপতি, রাহুপতি, কেতুপতি, লক্ষন, লক্ষ্মণ, লম্বোষ্ঠ, ললিত, নানালঙ্কারসংযুক্ত, নানাচন্দন- চর্চ্চিত, নানারসোজ্জলদ্বক্ত্র, নানাপুস্পোপশোভিত, রাম, রমাপতি, সভার্য্য, পরমেশ্বর, রত্নদ, রত্নহর্ত্তা, রূপী, রূপবিবর্জ্জিত, মহারূপ, উগ্ররূপ, সৌম্যরূপ, নীলমেঘনিভ, শুদ্ধ, কালমেঘনিভ, ধুম্রবর্ণ, পীতবর্ণ, নানারূপ, অবর্ণক, বিরূপ, রূপদ, শুক্লবর্ণ, সর্ব্ববর্ণ, মহাযোগী, যজ্ঞ, যজ্ঞকৃৎ, সুবর্ণো, বর্ণবান, সুবর্ণাস্য, সুবর্ণা, বয়ব, সর্ব্ববর্ণ, সুবর্ণ, স্বর্ণমেখল, সুবর্ণপ্রদাতা, সুবর্ণাংশ, সুবর্ণপ্রিয়, সুবার্নাঢ্য, সুপর্ণা, মহাপর্ণ, সুপর্ণকারণ, বৈনতেয়, আদিত্য, আদি, আদিকর, শিব, মহৎকারণ, পুরাণকারন, বুদ্ধিকারণ, মনঃকারণ, চিত্তকারণ, অহঙ্কারকারণ, ভূতকারণ, বিভাবসুকারণ, আকাশকারণ, পৃথিবী- কারণ, অন্তকারণ, প্রকৃতিকারণ, দেহকারণ, চক্ষুঃকারণ, শ্রোত্রকারণ, ত্বককারণ, জিহ্বাকারণ, ঘ্রাণকারণ, হস্তদ্বয়কারণ, পাদদ্বয়কারণ, বাক্য - কারণ, পায়ুকারণ, ইন্দ্রকারণ, কুবেরকারণ, যম- কারণ, ঈশানকারণ, যক্ষকারণ, রাক্ষসকারণ, ভূষণকারণ, ধর্ম্মকারণ, জন্তুকারণ, বসুকারণ, পরমকারণ, মনুকারণ, পক্ষিকারণ, মুনিকারন, শ্রেষ্ঠকারণ, যোগীকারণ, সিদ্ধগনকারণ, যক্ষগন- কারণ, কিন্নরগনকারণ, গন্ধর্ব্বগণকারণ, নদকারণ, সমুদ্রকারণ, বৃক্ষগনকারণ, বীরুধ- কারণ, লোককারণ, পাতালকারণ, দেবকারণ, সর্পগনকারণ, মঙ্গলকারণ, পশুগনকারণ, সর্ব্ব- কারণ, দেহাত্মা, ইন্দ্রিয়াত্মা, আত্মাবুদ্ধি, মন-আত্মা, অহঙ্কারাত্মা, চেতআত্মা, জাগ্রদাত্মা, স্বপ্নাত্মা, মহাত্মা, পরাত্মা, প্রাধানাত্মা, পরমাত্মা, আকা- শাত্মা, জলাত্মা, পৃথিব্যাত্মা, পরমাত্মা, রসাত্মা, গন্ধাত্মা, পরমাত্মা, রূপাত্মা, পরাত্মা, শব্দাত্মা, বাগাত্মা, স্পর্শাত্মা, পুরুষাত্মা, শ্রোত্রাত্মা, ত্বগাত্মা, জিহ্বাত্মা, ঘ্রাণত্মা, হস্তাত্মা, পাদাত্মা, উপস্থাত্মা, পায্বাত্মা, ইন্দ্রাত্মা, ব্রহ্মাত্মা, রুদ্রাত্মা, মনআত্মা, দক্ষাত্মা, সত্যাত্মা, ঈশাত্মা, পরমাত্মা, রৌদ্রাত্মা, মোক্ষবিদ, যতি, যত্নবান, যত্ন, চর্ম্মী, খড়্গী, অনুরান্তক, হ্রীপ্রবর্ত্তনশীল, যতিহিতরত, যতিরূপী, যোগী, যোগিধ্যেয়, হরি, শিতি, সংবিৎ, মেধা, কাল, উস্মা, বর্ষা, মতি, সংবৎসর, মোক্ষকর, মোহ- প্রধ্বংসক, দুষ্টমোহকর্ত্তা, মান্ডব্য, বড়বামুখ, সম্বর্ত্তক, কালকর্ত্তা, গৌতম, ভৃগু, অঙ্গিরাঃ, অত্রি, বসিষ্ঠ, পুলহ, পুলস্ত্য, কুৎস, যাজ্ঞবল্ক্য, দেবল, ব্যাস, পরাশর, শর্ম্মদ, গাঙ্গেয়, ঋষিকেশ, বৃহচ্ছ্রবা, কেশব, ক্লেশহন্তা, সুকর্ণ, কর্ণ বর্জিত, নারায়ণ, মহাভাগ, প্রানপতি, অপানপতি, ব্যানপতি, উদানপতি, সমানপতি, শব্দপতি, স্পর্শপতি, রূপপতি, ক্ষপতি, আদ্য, খড়্গপানি, হলায়ধ, চক্রপানি, কুন্ডলী, শ্রীবৎসাঙ্ক, প্রকৃতি, কৌস্তুভগ্রীব, পীতাম্বরধর, সুমুখ, দুর্ম্মুখ, মুখবিবর্জ্জিত, অনন্ত, অনন্তরূপ, সুনখ, সুরসুন্দর, সুকলাপ, বিভু, জিষ্ণু, ভ্রাজিষ্ণু, ইষুধী, হিরন্যকশিপুহন্তা, হিরন্যাক্ষ বিমর্দ্দক, পুতনানিহন্তা, ভাস্বরান্তবিনাশন, কেশিদলন, মুষ্টিক বিমদ্দক, কংসদানবভেত্তা, চানুরপ্রমর্দ্দক, অরিষ্টনিহন্তা, অক্রুরপ্রিয়, অক্রুর, ক্রুররূপ, অক্রুরপ্রিয়বন্দিত, ভগহা, ভগবান, ভানু, ভাগবত, উদ্ধব, উদ্ধবেশ, উদ্ধবচিন্তিত, চক্রধৃক, চঞ্চল, চলাচলবিবজ্জিত, অহঙ্কার, মতি, চিত্ত, গগন, পৃথিবী, জল, বায়ু, চক্ষুঃ, শ্রোত্র, জিহ্বা, ঘ্রান, বাক, পাণি, পাদ, জঘন, পায়ু, উপস্থ, শঙ্কর, খর্ব্ব, খান্তিদ, ক্ষান্তিকৃৎ, নর, ভক্তপ্রিয়, ভর্ত্তা, ভক্তিমান, ভক্তিবর্দ্ধন, ভক্তস্তুত, ভক্তপর,কীর্ত্তিদ, কীর্ত্তিবর্দ্ধন, কীর্ত্তি, দীপ্তি, ক্ষমঃ, কান্তি, ভক্তি, দয়া, দান, দাতা, কর্ত্তা, দেবদেবপ্রিয়, শুচি, শুচিমান, সুখদ, মোক্ষ, কাম, অর্থ, সহস্রপাৎ, সহস্রশীর্ষা, বৈদ্য, মোক্ষদ্বার, প্রজাদ্বার, সহস্রান্ত, সহস্রকর, শুক্র, সুকিরীটী, সুগ্রীব, কৌস্তভ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ, হয়গ্রীব, শূকর, মৎস্য, পরশুরাম, প্রহ্লাদ, বলি, শরণ্য, নিত্য, বুদ্ধ, মুক্ত, শরীরভৃৎ, খরদূষণহন্তা, রাবনপ্রমর্দ্দন, সীতাপতি, বর্দ্ধিষ্ণু, ভরত, কুম্ভনিহন্তা, ইন্দ্রজিন্নিহন্তা, কুম্ভকর্ণ- প্রমর্দ্দন, নরান্তকান্তক, দেবান্তকবিনাশন, দুষ্টাসুরনিহন্তা, শম্বরারি, নরকনিহন্তা, ত্রিশীর্ষবিনাশন, যমলা- র্জ্জুনভেত্তা, তপোহিতকর, বাদিত্র, বাদ্য, বুদ্ধ, বরপ্রদ, সার, সাবপ্রিয়, সৌর, কালহন্তা, নিকৃন্তন, অগস্তি, দেবল, নারদ, নারদপ্রিয়, প্রান, অপান, ব্যান, রজঃ, সত্ত্ব, তমঃ, শরৎ, উদান, সমান, ভেষজ, ভিষক, কূটস্থ, স্বচ্ছরূপ, , সর্ব্বদেহ- বিবর্জ্জিত, চক্ষুরিন্দ্রিয়হীন, বাগিন্দ্রিয়বিহীন, পাদদ্বয়বিবর্জ্জিত, পায়ুবিহীন, উপস্থবিহীন, মহাতপোবিবর্জ্জিত, প্রবোধবিহীন, বুদ্ধিবিবর্জ্জিত, চেতোবিহীন, প্রাণবিবর্জ্জিত, অপানবিহীন, ব্যান-বিবর্জ্জিত, উদানবিহীন, সমানবিবর্জ্জিত, আকাশ- বিহীন, বায়ুপরিবর্জ্জিত, অগ্নিবিহীন, উদক-  বিবর্জ্জিত, পৃথিবীবিহীন, শব্দবিবর্জ্জিত, স্পর্শ- বিহীন, সর্ব্বরূপবিবর্জ্জিত, রাগবিগত, অঘপরি- বর্জ্জিত, শোকরহিত, বচোবর্জ্জিত, রজোবর্জ্জিত, ষড়বিকাররহিত, কামবর্জ্জিত, ক্রোধপরিবর্জ্জিত, লোভবিগত, দম্ভবিবর্জ্জিত, সুসূক্ষ্ম, স্থুলাৎস্থুলতর, বিশারদ, বলাধ্যক্ষ, সর্ব্বক্ষোভক, সর্ব্বাধ্যক্ষ, অর্ভক, প্রকৃতিক্ষোভক,মহৎক্ষোভক, ভূতক্ষোভক, বুদ্ধিক্ষোভক, ইন্দ্রিয়ক্ষোভক, বিষয়ক্ষোভক, ব্রহ্ম- ক্ষোভক, রুদ্রক্ষোভক, চক্ষুরাদ্যগম্য, শ্রোত্রাগম্য, ত্বগগম্য, কূর্ম্ম, জিহ্বাগ্রাহ্য, ঘ্রাণেন্দ্রিয়াগম্য, বাগ- গ্রাহ্য, হস্তদ্বয়াগম্য, পাদাগম্য, মনোহগ্রাহ্য, বুদ্ধ্য- গ্রাহ্য, হরি, অহংবুদ্ধিগ্রাহ্য, চেতোগ্রাহ্য, শঙ্খপাণি, অব্যয়, গদাপাণি, শার্ঙ্গপাণি, কৃষ্ণ, জ্ঞানমুর্ত্তি, পরন্তপ, তপস্বী, জ্ঞানগম্য, জ্ঞানী, জ্ঞানবিদ, জ্ঞেয়, জ্ঞেয়হীন, জ্ঞপ্তি, চৈতন্যরূপধৃক, ভাব, ভাব্য, ভবকর, ভাবন, ভবনাশন, গোবিন্দ, গোপতি,  গোপ, সর্ব্বগোপীসুখপ্রদ, গোপাল, গোমতি, গোধর, উপেন্দ্র, নৃসিংহ, শৌরি, জনার্দ্দন, আরণের, বৃহদ্ভানু, বৃহদ্দীপ্ত, দামোদর, ত্রিকাল, কালজ্ঞ, কালবর্জ্জিত, ত্রিসন্ধ্যা, দ্বাপর, ত্রেতা, প্রজাদ্বার, ত্রিবিক্রম, বিক্রম, দন্ডহস্ত, একদন্ডী, ত্রিদন্ডধৃক, সাম, ভেদ, উপায়, সামরূপী, সামগ, সামবেদ, অথর্ব্ব, সুকৃত, সুখরূপধৃক, অথর্ব্ববেদবিদ, অথর্ব্বাচার্য্য, ঋগ্রুপী, ঋগ্বেদ, ঋগ্বেদ প্রতিষ্ঠিত, যজুর্ব্বেত্তা, যজুর্ব্বেদ, যজুর্ব্বেদবিদ, একপাৎ, বহুপাৎ, সুপাৎ, সহস্রপাৎ,চতুস্পাৎ, দ্বিপাৎ, স্মৃতি, ন্যায়, যম, যমী, , সন্ন্যাসী, সন্ন্যাস, চতুরাশ্রম, ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ, ভিক্ষুক, ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র, বর্ণ, শীলদ, শীলসম্পন্ন, দুঃশীল পরিবর্জ্জিত, মোক্ষ, অধ্যাত্ম- সমাবিষ্ট, স্তুতি, স্তোতা, পূজক, পূজ্য, বাক্ কারণ, বাচ্য, বাচক, বেত্তা, ব্যাকরণ, বাক্য, বাক্যবিৎ, বাক্যগম্য, তীর্থবাসী, তীর্থ, তীথী, তীর্থবিৎ, তীর্থাদিভূত, সাংখ্য, নিরুক্ত, অধিদৈবত, প্রনব, প্রণবেশ, প্রনব প্রবন্দিত, প্রনবলক্ষ্য, গায়ত্রী, গদাধর, শালগ্রামনিবাসী, শালগ্রাম, জলশায়ী, যোগশায়ী, শেষশায়ী, কুশেশয়, মহীভর্ত্তা, কার্যকারন, পৃথিবীধর, প্রজাপতি, শাশ্বত, কাম্য, কাময়িতা, বিরাট্ , পুষা, সম্রাট, স্বর্গ, পথস্থ, সারথি, রথ, ধনী, ধনপ্রদ, ধন্য, যাদবহিতেরত, অর্জ্জুনপ্রিয়, অজ্জুন, ভীমপরাক্রম, দুর্ব্বিসহ, সর্ব্বশাস্রবিশারদ, সারস্বত, মহাভীস্ম, পারিজাতহর, অমৃতপ্রদাতা, ক্ষীরোদ, ক্ষীর, ইন্দ্রাত্মজ, ইন্দ্রাত্মজ-গোপ্তা, গোবর্দ্ধনধর, কংসনাশন, হস্তিপ, হস্তিনাশন, শিপিবিষ্ট, প্রসন্ন, সর্ব্বলোকার্ত্তিনাশন, মুদ্রা, মুদ্রাকর, সর্ব্বমুদ্রাবিবর্জ্জিত, দেহী, দেহস্থিত, দেহনিয়ামক, শ্রোতা, শ্রোত্রনিয়ন্তা, শ্রোতব্য, শ্রবন, ত্বক স্থিত, স্পর্শয়িতা, স্পৃশ্য, স্পর্শন, চক্ষুঃস্থ, রূপদ্রষ্টা, চক্ষুনিয়ন্তা, দৃশ্য, জিহ্বাস্থ, রসজ্ঞ, নিয়ামক, ঘ্রানস্থ, ঘ্রাণকৃৎ, জ্ঞাতা, ঘ্রাণেন্দ্রিয়নিয়ামক, বাকস্থ, বক্তা, বক্তব্য, বচন, বাঙ্ নিয়ামক, প্রাণিস্থ, শিল্পকৃৎ, শিল্পহস্তদ্বয়নিয়ামক, পদব্য, গন্তা, গন্তব্য, গমন, পাদদ্বয়- নিয়ন্তা, পাদ্যভাক, বিসর্গকৃত, বিসর্গনিয়ন্তা, উপস্থস্থ, সুন, উপস্থনিয়ন্তা, আনন্দকর, শত্রুঘ্ন, কার্ত্তবীর্য্য, দত্তাত্রেয়, অলর্কহিত, কার্ত্তবীর্য্যনিকৃন্তন, কাল- নেমি, মহানেমি, মেঘ, মেঘপতি, অন্নপ্রদ, অন্নরূপী, অন্নাদ, অন্নপ্রবর্ত্তক, ধূমকৃৎ, ধূমরূপ, দেবকীপুত্র, উত্তম, দেবকীনন্দন, নন্দ, রোহিনীপ্রিয়, বসুদেব- প্রিয়, বসুদেবসুত, দুন্দুভি, হংসরূপ, হাসরূপ, পুস্পহাস, অট্টহাস, অট্রহাসপ্রিয়, সর্ব্বাধ্যক্ষ, ক্ষর, অক্ষর, অচ্যুত, সত্যেশ, সত্যাপ্রিয়, বর, রুক্ষ্মিণীপতি, রুক্ষ্মিণীবল্লভ, গোপীবল্লভ, পুণ্যশ্লোক, বিশ্রুত, বৃষাকপি, যম, গুহ্য, মঙ্গল, বুধ, রাহু, কেতু, গ্রহ, গ্রাহ, গজেন্দ্রমুখমেলক, গ্রাহবিনিহন্তা, গ্রামণী, রক্ষক, কিন্নর, সিদ্ধ, ছন্দঃ, স্বচ্ছন্দ, বিশ্বরূপ, বিশালাক্ষ, দৈত্যসুদন, অনন্তরূপ, ভূতস্থ, দেবদানবসংস্থিত, সুষুপ্তিস্থ, সুষুপ্তি, স্থান, স্থানান্ত, জগৎস্থ, জাগর্ত্তা, স্থান, জাগরিত, স্বপ্নস্থ, স্বপ্নবিৎ, স্বপ্ন, স্থানস্থ, সুস্থ, জাগ্রৎস্বপ্নসুষুপ্তিবিহীন, চতুর্থক, বিজ্ঞান, চৈত্ররূপ, জীব, জীবয়িতা, ভূবণাধিপতি, ভূবননিয়ামক, পাতালবাসী, পাতাল, সর্ব্বজ্বরবিনাশন, পরমানন্দরূপী, ধর্ম্মপ্রবর্ত্তক, সুলভ, দুর্লভ, প্রানায়ামপর. প্রত্যাহার, ধারক, প্রত্যাহারকর, প্রভা, কান্তি, অর্চ্চিঃ, শুদ্ধ, স্ফটিকসন্নিভ, অগ্রাহ্য, গৌর, সর্ব্ব, শুচি, অতিষ্টুত, বষট্ কার, বষট, বৌষট, স্বধা, স্বাহা, রতি, পক্তা, নন্দয়িতা, ভোক্তা, বোদ্ধা, ভাবয়িতা, জ্ঞানাত্মা, উহাত্মা, ভূমা, সর্ব্বেশ্বরেশ্বর, নদী, নন্দী, নন্দীশ, ভারত, তরুনাশন, চিদ্রুপ, শ্রীপতি, চক্রবর্ত্তি-রাজা, সর্ব্বদেবেশ, দ্বারকাসংস্থিত, পুস্কর, পুস্করাধ্যক্ষ, পুস্করদ্বীপ, ভরত, জনক, জণ্য, সর্ব্বাকারবিবর্জ্জিত, নিরাকার, নির্নিমিত্ত, নিরাতঙ্ক, নিরাশ্রয় ৷৷

             হে বৃষধ্বজ ! তোমার নিকট দেবদেব, জগদীশ্বর বিষ্ণুর সর্ব্ব- পাপবিনাশন সহস্রনাম, কীর্ত্তিত হইল ৷ এই সহস্রনাম পাঠ করিলে , ব্রাহ্মন বিষ্ণুত্ব, ক্ষত্রিয় জয়, বৈশ্য ধন এবং শুদ্র সুখ লাভ করে  ও বিষ্ণুভক্তি সমন্বিত হয় ৷৷ 

                             " জয় বিষ্ণু "

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২

রাধা কুন্ড ও শ্যাম কুন্ডের আবির্ভাব বা উৎপত্তি কিভাবে ? এই দুই কুন্ডে স্নান করলে কি ফল হয় বা এদের মাহাত্ম্য কি ?


 

             বৃষরূপি অরিষ্টাসুর বধের পরে ভগবান শ্রীশ্যামসুন্দর যখন গোপাঙ্গনাগনের সঙ্গে মিলিত হলেন তখন তাঁরা রহস্যপূর্ব্বক বললেন তোমার সঙ্গে আজ আমরা মিলিতে ইচ্ছা করি না ৷

       শ্রীকৃষ্ণ বললেন— হে গোপাঙ্গনাগণ ৷ কেন তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হইতে ইচ্ছা কর না ?

         শ্রীরাধা ঠাকুরাণী বললেন— হে দামোদর ৷ হে পুতনা ঘাতন ৷ তুমি বৃষাসুর বধ করিয়াছ এই হেতু ৷

         কৃষ্ণ বললেন— সে তো মহা অসুর ৷

         রাধারানী বললেন— অসুর হলেও বৃষের আকৃতী  যেমন বৃত্রাসুর অসুর হলেও তার বধে ইন্দ্রের ব্রাহ্মন হত্যা পাপ হয়েছিল ৷ তাইজন্য তোমার গো-হত্যা পাপ হয়েছে ৷

    কৃষ্ণ বললেন-- এখন এই পাপ থেকে উদ্ধারের উপায় কি করব ?

    রাধা বললেন-- ত্রিভূবনের সর্বতীর্থে স্নান করলে পাপ যাবে ৷

    কৃষ্ণ বললেন-- তাহলে আমি তীর্থ স্নান করতে চললাম ৷

     রাধা বললেন-- আমাদের সামনে স্নান করতে হবে ৷

      কৃষ্ণ তখন দক্ষিন চরণের পদাঘাতে এক কুন্ড খনন করলেন এবং সমস্ত তীর্থগণকে তথায় অহবান করলেন, প্রভূর স্মরণ মাত্র সমস্ত তীর্থ আগমন করলেন ৷ তথা স্ব স্ব নাম উচ্চারণ পূর্ব্বক ঐ কুন্ডে প্রবেশ করতে লাগলেন ৷ কৃষ্ণ তখন গোপাঙ্গনাগণকে তাহা সাক্ষাত ভাবে দেখালেন ৷ 

         অনন্তর শ্রীকৃষ্ণ সেই কুন্ডজলে স্নান করবার পর গোপাঙ্গনাগণকে বললেন— হে ব্রজদেবীগণ ! তোমরাও এই পবিত্র তীর্থ জলে স্নান কর ৷ শ্রীকৃষ্ণের এরূপ নর্মালাপ শুনে গোপীগণ বললেন তোমার দেহস্থিত গো হত্যা পাপ উহাতে প্রবেশ করেছে অতএব ঐ জল আমরা স্পর্শ করব না ৷ আমরা স্বয়ং কুন্ড খনন করে তাতে স্নান করব ৷

    অতঃপর শ্রীরাসেশ্বরী শ্রীরাধা ঠাকুরানী সখীগণ সঙ্গে বিবিধ মন্ত্রনা করবার পর স্বয়ং শ্রীচরণ আঘাতে এক কুন্ড নির্মাণ করলেন এবং ঐ কুন্ড স্বর্গ গঙ্গা মন্দাকিনীর জল দ্বারা পূর্ণ করতে মনস্থ করলেন ৷ শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের মনোভাব বুঝে বললেন- হে ব্রজদেবীগণ ৷ আমার কুন্ডের পবিত্র জলে ঐ কুন্ড পূর্ণ কর ৷ গোপীগণ বললেন— না না না তোমার কুন্ডের জল আমরা স্পর্শ করব না ৷ উহাতে গোহত্যা পাপ রয়েছে ৷ শ্রীরাধা ঠাকুরানী বলেন-- আমার ত শতকোটি গোপী আছে, স্বর্গ-গঙ্গা থেকে এক এক কলসী জল এনে এ কুন্ড পূর্ণ করব, তথাপি তোমার কুন্ডজল স্পর্শ করব না ৷ এতে আমাদের যশ পৃথিবীতে ঘোষিত হবে ৷ 

     শ্রীরাসেশ্বরীর এ উক্তি শ্রবণে শ্রীকৃষ্ণ তৎকালে তীর্থগণকে ইঙ্গিত করলেন ৷ প্রভূর সে ইঙ্গিতে তীর্থগণ আপন আপন দেবী মূর্ত্তি প্রকট করলেন এবং সকলেই বিনীতভাবে করজোড়ে শ্রীরাসেশ্বরীর স্তব করতে লাগলেন— 

       হে কৃষ্ণপ্রেয়সী মুখ্যা ! হে শ্রীরাস রাসেশ্বরী ! তোমার মহামহিমা ব্রহ্মা, শিব ও নারদাদি বুঝতে পারে না ৷ হে দেবি ! তোমার শ্রীচরণ ধূলি আমাদের শিরোভূষণ হউক ৷ আমাদের প্রার্থনা নিত্যকাল তোমার শ্রীচরণতলে স্থান পাই ৷ হে শ্রীরাধে ! তোমার শ্রীচরণ আঘাতে নির্ম্মিত পবিত্র কুন্ডে আমরা স্থান লাভ করিতে পারি, এ আশারূপী তরু পল্লবীত হউক ৷

        তীর্থগণের এরূপ কাতর প্রার্থনায়, শ্রীরাধা ঠাকুরাণী তাদের সে বাসনা পূর্ণ করলেন, তৎক্ষনাৎ তীর্থগণ শ্যামকুন্ডের তীরভূমি ভেদ করে রাধাকুন্ডে প্রবেশ করলেন ৷

       অতঃপর শ্রীকৃষ্ণ বললেন— হে রাসেশ্বরী ! আমার কুন্ড হতে তোমার কুন্ডের মহিমা অধিক ৷ তুমি যেমন আমার প্রিয় তেমনি তোমার কুন্ডও আমার পরম প্রিয় ৷ আমি তোমা হতে তোমার কুন্ডকে ভেদ দর্শন করি না ৷ তোমার নামে এ কুন্ড 'শ্রীরাধাকুন্ড' নামে চিরকাল খ্যাতি লাভ করবে ৷ 

        ভগবান নিত্য শ্রীরাধাকুন্ড ও শ্যামকুন্ডের মনোহর তটভূমিতে বিহার করে থাকেন ৷

        কুন্ড মাহাত্ম্য =  আদি বরাহ পুরাণে কথিত হয়েছে - রাজসূয় ও অশ্বমেধাদি মহা মহা যজ্ঞ সকল অনুষ্ঠানে যে ফল পাওয়া যায়, তদপেক্ষা শতগুণ ফল অরিষ্টকুন্ড বা শ্যামকুন্ড ও শ্রীরাধাকুন্ড স্নানে লাভ হয়ে থাকে ৷ ইহাতে কোন সন্দেহ নাই ৷ 

        পদ্মপুরাণে বর্নিত আছে -- শ্রীহরির প্রিয় রাধাকুন্ড, রমণীয় শ্রীগোবর্দ্দন পর্ব্বতের মধ্যে বিরাজিত ৷ কার্ত্তিক মাসের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে শ্রীরাধাকুন্ডে স্নান করলে , লোক রাধাকুন্ড বিহারী শ্রীহরির প্রিয় ভক্ত হতে পারে ৷ কারন তাহাতে শ্রীহরির অত্যন্ত তোষণ হয় ৷ রাধা যেরূপ শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়, শ্রীরাধা কুন্ডও তদ্রূপ প্রিয় ৷ কেননা সকল গোপীগণ মধ্যে একা রাধাই শ্রীহরির অতিপ্রিয় ৷ কার্তিক মাসে শ্রীরাধাকুন্ডে স্নান করে জনার্দ্দনকে পূজা করা কর্ত্তব্য ৷ জনার্দ্দন উত্থান একাদশীতে পূজিত হলে যেরূপ প্রীত হন, এ দিনের পূজাতেও সেরূপ প্রীত হন ৷ 


                       ৷৷   " জয় রাধে জয় কৃষ্ণ "

                  " জয় রাধা কুন্ড জয় শ্যাম কুন্ড " ৷৷

রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২

দীক্ষা কি ? দীক্ষা কাকে বলে ? দীক্ষা নিলে কি হয় ? দীক্ষা গ্রহন না করলে কি হয় ? দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কি ? দীক্ষা গ্রহনে আবশ্যকতা কোথায় ? এবং দীক্ষার মাহাত্ম্য কি ?

 

   

        দীক্ষা = যে কার্য পাপ ক্ষয় করিয়া দিব্য জ্ঞান প্রকাশ করে তাহাই দীক্ষা ৷ স্বকর্ণে শ্রী গুরুদেব কর্ত্তৃক ইষ্টমন্ত্র দানের নাম দীক্ষা ৷ শ্রী গুরুদেবের নিকট হতে যথাবিধি মন্ত্রোপদেশ গ্রহন করার নামই দীক্ষা ৷

       প্রকৃত পক্ষে দীক্ষার অর্থ বর্ন বা শব্দ বিশেষ শ্রবন করা নহে ৷ বর্ন বা বর্নগুলি শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্ম বলিয়া পরিকীর্তিত আছে ৷ সেই শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্মই বর্ণ ৷ সেই বর্ণই ভগবানের নাম ৷ নাম ও নামী অভেদ; কিছুই প্রভেদ নাই ৷ এইভাবে যেই নাম বা মন্ত্র গ্রহন করা হয় তাহাই দীক্ষা ৷ যিনি নামে এবং মন্ত্র ও মন্ত্রের অভীষ্ট দেবতাকে এক ভাবেন, তিনিই প্রকৃত দীক্ষিত ৷ দৃঢ় বিশ্বাস বা ভক্তিই মূল ৷" দীক্ষাকালে ভক্তে করে আত্মসমর্পন, সেই কালে কৃষ্ণ তারে করে আত্মসম ৷ "

               আট থেকে বার বৎসরের মধ্যে দীক্ষা গ্রহন করিতে হয় ৷ দীক্ষা গ্রহন করিয়া সাংসারিক জীবনে ও ব্রহ্মচর্য পালন করিয়া জ্ঞান ও ভক্তির দ্বারা গুরুতত্ত্ব কৃষ্ণতত্ত্ব বুঝিতে হইবে ৷ সঠিক পথ ধরিয়া গুরু নির্দেশ বা সৎগুরুর দাসত্ব পালন করিলে সহজেই কৃপা লাভ হয় ৷ গুরুদেবের দাসত্ব পালন না করিলে কিছুই হবে না ৷

              দীক্ষার প্রয়োজনিয়তা = শাস্ত্রে বলে অদীক্ষিত ব্যক্তির অন্ন বিষ্ঠার সমান ; জল মুত্রতূল্য ৷ তাহারা শ্রাদ্ধাদি কার্য যাহা কিছু করে তাহা সমস্তই বৃথা অর্থাৎ নিস্ফল হয় ৷ দীক্ষা গ্রহন না করিলে কোন কার্য করিবার অধিকার জন্মে না ৷ সেইজন্য জপ, তপ, তন্ত্র, মন্ত্র, নিয়ম ব্রত, তীর্থ ভ্রমন, উপবাস, ভগবানের জন্য শারিরিক যে কোন কষ্টই কোন ফল ফলিবে না ৷

                অদীক্ষিত ব্যক্তি যদি মারা যান তাহলে সেই ব্যক্তি পিশাচ যোনিতে জন্ম হইয়া রৌরব নরকে বাস করিতে হবে ৷ যাহারা বিষ্ণু দীক্ষা প্রাপ্ত না হইয়া জনার্দ্দনের পূজা করিবার অধিকারী না হয় তাহারাই পশু বলিয়া অভিহিত হয় ৷

               যে জন গুরুকরন বিনা কেবল শাস্ত্র দেখিয়া মন্ত্র গ্রহন করে এবং আনুমানিক বুদ্ধি কৌশলে ভগবানকে পাইতে চায় ৷ সেই দুরাত্মা সহস্র মন্বন্তরে ও নিস্কৃতি লাভ করিতে পারিবে না ৷

           দীক্ষা মাহাত্ম্য = স্কন্ধপুরানে লিখিত আছে যে,--যাহারা সর্ব্বদুঃখহারিনী হরি দীক্ষা লাভ করিয়াছেন, ভূমন্ডলে সেই সকল পুরুষই তপস্বী; কর্ম্মনিষ্ঠ এবং তাহারাই শ্রেষ্ঠ ৷ তত্ত্ব সাগরে লিখিত আছে যে -- যেমন রস বিধান দ্বারা কাংস্য ও কাঞ্চনতা প্রাপ্ত হয় , অর্থাৎ যথা বিধানে পারদের যোগে কাংস্য ও সুবর্ণতা লাভ করে; সেইরূপ দীক্ষাবিধি দ্বারা নরগনের ও দ্বিজত্ব উৎপন্ন হয় ৷

                           " হরেকৃষ্ণ "

রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

কলিকালের মানুষ অল্পপুন্যফলে কিভাবে উদ্ধার পাবে ? কে বৈষ্ণব ? বৈষ্ণবের লক্ষন কি ? বৈষ্ণবের মাহাত্ম্য কি ? কৃষ্ণকথা শ্রবনে পাপ ও পূন্য কিভাবে হয় ?

 


         পদ্মপুরানে মুনিপুরুষ জৈমিনি সর্ব্বার্থ পারদর্শী সত্যবতীসুত গুরুদেব বেদব্যাসকে দন্ডবৎ প্রনিপাত পূর্ব্বক বলিলেন, গুরুদেব- কলিকালে নরগন অল্পায়ু হইবে ; সুতরাং অল্প পুন্যফলে কিরূপে তাহাদের মোক্ষলাভ হইতে পারিবে, তাহা আমাকে বলুন ? 

           ব্যাসদেব বলিলেন- হে বিপ্র- সাধুসঙ্গ বা বৈষ্ণব সঙ্গ গুনে শাস্ত্রশ্রবণ, তাহা হইতে হরিভক্তি, হরিভক্তি হইতে জ্ঞান ও জ্ঞান হইতে বিষ্ণুভক্তি বা কৃষ্ণভক্তি হইয়া সদ্গতি লাভ ঘটিয়া থাকে ৷

         ভূতলে পাপী জনের নিকট বৈষ্ণবী কথা প্রীতিকর হয় না , জানিবে তাদৃশ্য ব্যক্তি দ্বিজ হইলে ও পাপীগনের মধ্যে প্রধান পাপী ৷ বৈষ্ণব জন কৃষ্ণকথা শুনিয়া আনন্দিত হইয়া থাকেন ; কিন্তু সেই কথা যে ব্যক্তি অসত্য বলিয়া উল্লেখ করে, জানিবে সেই ব্যক্তি ও পাপিগনের মধ্যে প্রধান ৷ যেখানে কৃষ্ণকথা হয় জগন্নাথ কৃষ্ণ কদাচ সেই স্থান পরিত্যাগ করে না , যে নরাধম কৃষ্ণ কথারম্ভে বিঘ্নোৎপাদন করে, শত মন্বন্তরে ও তাহার নরক হইতে নিস্কৃতি লাভ ঘটে না , যাহারা পুরানকথা, কৃষ্ণকথা শুনিয়া নিন্দা বা উপহাস করে, বহুক্লেশকর নরক সকল তাহাদের নিকটস্থ হইয়া থাকে ৷

           যে ব্যক্তি কৃষ্ণ চরিত শুনিবার বাসনা করে, তাহার জন্মান্তরার্জ্জিত পাপ তৎক্ষনাৎ বিনষ্ট হইয়া থাকে ৷ যে নর ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণ চরিত শ্রবন করে, না জানি তাহার সেই শ্রবন ফলে কি অপূর্ব্ব গতিই লাভ হইয়া থাকে ৷ ব্রহ্মহত্যাদি পাপ সুরাপান বা স্তেয়, অকালমরন পাপ , সকলই কৃষ্ণকথা শ্রবনে বিলয় প্রাপ্ত হয় ৷ যে মানব প্রথমে পাপ করিয়া পরে পাপ নিবারক সৎকর্ম্মের অনুস্ঠান করে , অগ্নিদগ্ধ তুলারাশির ন্যায় তাহার সকল পাপই নষ্ট হইয়া যায় ৷ হে বিপ্র! যাহার গৃহে কৃষ্ণচরিতময় গ্রন্থ থাকে, যমকিঙ্করগন তাহার গৃহপ্রান্তে ও আসিতে পারে না ৷

     জৈমিনি কহিলেন গুরু! কাহারা বৈষ্ণব ? বৈষ্ণবের লক্ষন কি ? বৈষ্ণবের মাহাত্ম্যই বা কি - আপনি কীর্ত্তন করুন ৷

          ব্যাস বলিলেন - হে দ্বিজ, যাহাদের হিংসা নাই, দম্ভ নাই, কাম-ক্রোধ বা লোভ - মোহ নাই, জানিবে তাহারাই প্রকৃত বৈষ্ণবজন ৷ যাহারা পিতৃভক্ত, দয়াযুক্ত, সর্ব্বপ্রানীর হিতে রত, মাৎসর্য্যহীন, সত্যভাষী, বিপ্রভক্তিরত, পরদার- বিমুখ ও একাদশীব্রত নিষ্ঠ, সর্ব্বদা হরিনাম গান করেন, তুলসীমালা ধারন করেন, হরিপাদোদকে সিক্ত হন, যাহাদের উভয় কর্ণে ও মস্তকে কখনও কখনও উত্তম তুলসীপত্র পরিদৃষ্ট হয়, যাহারা পাষন্ড সঙ্গ করেন না, ব্রাহ্মনে যাহাদের দ্বেষ নাই, যাহারা তুলসী তরু সেক করেন, হরিপূজা করেন, তুলসী দ্বারা হরির অর্চ্চনা করেন, অতিথি পূজা করেন, কন্যা দান করেন, বিষ্ণু বা কৃষ্ণ বা গৌর লীলা শ্রবন করেন, হরি গৃহ মার্জ্জন করেন,  দীনজনে দয়াপরবশ হন, পরস্ব ও ব্রাহ্মন দ্রব্য বিষবৎ অবলোকন করেন, যাহারা হরিনৈবেদ্য ভক্ষন করেন, যাহারা বেদানুরক্ত, তুলসীবন পালক, কৃষ্ণাষ্টমী, রাধাষ্টমী ইত্যাদি ব্রতেরত, শ্রদ্ধার সহিত শ্রীকৃষ্ণাগ্রে দীপ দান করেন, কখনও পরের নিন্দা করে না-- জানিবে তাহারাই যথার্থ বৈষ্ণব জন ৷

         ব্যাস বলিলেন-হে দ্বিজ ! যে পাপী নর ভক্তি ভরে মস্তকে বৈষ্ণব-পাদোদক ধারন করিয়া সেবন করে তাহার আর তীর্ফস্নান প্রয়োজন হয় না,   অকাল মৃত্যু হয় না, সর্ব্বব্যাধি হইতে  মুক্তিলাভ হয় ৷  যে নর ক্ষনকাল বা ক্ষনার্দ্ধকালও বৈষ্ণব সঙ্গ বা সাধুসঙ্গ করে, তাহার ব্রহ্মহত্যাদি যাবতীয় সকল পাপই নষ্ট হইয়া থাকে ৷ যে কোন কুলেই হউক, একজন মাত্র বৈষ্ণব জন্ম গ্রহন করিলেই সেই কুল পাপযুক্ত থাকিলেও তৎক্ষনাৎ মোক্ষগামী  হইয়া থাকে ৷

          যে সকল নরোত্তম শ্রদ্ধার সহিত উপরোক্ত কথা শ্রবন করে, তাহারা সর্ব্বপাপ হইতে মুক্ত হইয়া শ্রী হরির পরমপদে উপনীত হইয়া থাকে ৷

                          " হরেকৃষ্ণ "

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২

কোন কোন ফুল কৃষ্ণ সেবার উপযোগী ? কোন পুস্প প্রদানে কি ফল হয় ?

 

 

       যাহার চরন কমল দ্বয়ে পুস্প প্রদান মাত্রই কুমনা ব্যক্তি ও সুমতি প্রাপ্ত হয়, সেই শ্রীচৈতন্য দেবকে ভজনা করি ৷   

       বনজাত, নগরজাত কিংবা নিজ বাগিচা জাত, অপর্য্যুষিত(যাহা বাসি নহে), অচ্ছিন্ন, সিক্ত, কীটাদিবর্জ্জিত এবং পবিত্র পুস্প দ্বারা শ্রীহরির পূজা করিবে ৷                                       

         যে সকল পুস্পের বর্ণ, রস ও গন্ধ আছে, সেই সকল পুস্পই সুপ্রশস্ত ৷

       দেশভেদে ও কালভেদে যে নানা প্রকার পুস্প জন্মে তাহা সুন্দর গন্ধ ও বর্ণ থাকিলেই নিবেদন করিবে ৷

      হে ধার্ম্মিকগণ-- রক্তবর্ণ পুস্প ও শ্মশানজাত, অকালজাত ও গন্ধহীন পুস্প কখনই নিবেদন করিবে না ৷

     চম্পক ভিন্ন অন্য পুস্পের কলিকা দ্বারা বিষ্ণুর পূজা করিবে না ৷ শুস্কপত্র, পুস্প বা ফল দ্বারা ও বিষ্ণু পূজা করিবে না ৷

       পদ্ম, উৎপল, তুলসী, বকপুস্প, বকুল পুস্প, বিল্বপত্র ও গঙ্গাজল বাসি হইলে দোষ হয় না ৷

       স্বেত বা রক্ত করবীর পুস্প, আকন্দ(অর্ক), ধুতূরা(ধুস্তুর), ঝাঁটি, শ্বেত অপরাজিতা পুস্প বিষ্ণুকে নিবেদন করিবে না ৷

         যে সকল পুস্পের পাপড়ী শীর্ণ বা পরস্পর সংলগ্ন, যে সকল পুস্প অপবিত্র, যে সকল পুস্প প্রস্ফুটিত হয় নাই, যে সকল পুস্প দুর্গন্ধ বিশিষ্ট বা তীক্ষ্ণগন্ধি বা অম্লগন্ধি সে সমস্ত পুস্প বর্জ্জন করিবে ৷

        শাখাদি ভগ্ন করিয়া, বৃক্ষ উৎপাটন করিয়া ও বৃক্ষে আরোহন করিয়া যে পুস্প আহরন করা হয় !সে সমস্ত অসুরের গ্রহন যোগ্য ৷ অশুচি সংস্পৃষ্ট, অধৌত, আঘ্রাত, অধোবস্ত্রে স্থাপিত ও ক্রীত পুস্প পরিত্যাগ করিবে ৷

         মধ্যাহ্ন কালে স্নান করিয়া যে পুস্প চয়ন করা হইবে তদ্দ্বারা বিষ্ণুপূজা, দেবপূজা, পিতৃগন পূজা, ঋষি পূজা করিবে না ৷   উহা কেউ গ্রহন করে না ৷

        পুস্প মধ্যে মালতীই প্রধান ৷ মালতী পুস্প দ্বারা যে গরুড়ধ্বজ হরির অর্চ্চনা করেন তিনি জন্ম, দুঃখ, জরা ও ব্যাধি হইতে বিমুক্ত হইয়া সেই দুর্ল্লভ স্থান প্রাপ্ত হন ৷

              যে সকল ব্যক্তি বর্ষা ঋতুতে দেবদেব নীরদবরনকে কদম্ব পুস্প দ্বারা পূজা করেন, তাহাদিগেরই জন্ম সার্থক ৷

          মল্লিকা, মালতী, জাতী, যুথী, কেতকী, অশোক, চম্পক, পুন্নাগ, নাগ, বকুল, কদম্ব, পদ্ম ও উৎপল জাতীয় পুস্প দ্বারা ভক্তি সহকারে প্রত্যহ হরির উপাসনা করিলে মানব নিস্পাপ হইয়া হরিকে লাভ করিতে পারে ৷  

               ( হরিভক্তি বিলাস গ্রন্থ হইতে সংগৃহীত )

                            " হরেকৃষ্ণ "

                                          

মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২

দোল বা হোলি উৎসব কেন করা হয় ? হোলির উৎপত্তি কোথায় ? দোল উৎসবের বিধি কি ?

 


         হিন্দু ধর্ম মতে দোল উৎসব বা হোলি উৎসবের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য আছে ৷ ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে দোল উৎসবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধারানী সহ গোপীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন ৷ আবার কলির করুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভূ এই পুন্য তিথিতেই নবদ্বীপে অবতীর্ন হইয়াছিলেন ৷

          পুরান কথা -- পুরান অনুসারে দৈত্যরাজ হিরন্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ভগবান হরির পরম ভক্ত ছিল ৷ তাই হরি বিদ্বেষী হিরন্যকশিপু তার পুত্রকে মারার জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় হিরন্যকশিপু তার বোন হোলিকার কাছে প্রহ্লাদকে মারার দ্বায়িত্ব দিলেন ৷ হোলিকার একটা গুন ছিল সে আগুনে প্রবেশ করলেও তার শরীর পুড়ে না ৷ তাই প্রহ্লাদকে হত্যা করার জন্য অহংকার করে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলেন ৷ প্রহ্লাদ ভগবান হরিকে স্বরন করার ফলে প্রহ্লাদ বেচে গেলেন কিন্তু হোলিকা দগ্ধ হয়ে মারা যান ৷ সেই দিন ফাল্গুন মাসের পূর্নিমা তিথিতে হোলিকা নামের অশুভের বিনাশ  হওয়াতে হোলি উৎসব পালন করা হয় ৷                                                              এই দোল পূর্নিমা তিথি হইতে রাধাকৃষ্ণকে দক্ষিন মুখ করিয়া দোলা দ্বারা দোলন করিতে হয় ৷ গরুড় পুরান অনুযায়ী কলিকালে দক্ষিন মুখী করিয়া রাধা সহ জনার্দ্দনকে পূজা করত একমাস দোলন করাইতে হয় ৷                                                       সেই দোলন বা সেই উৎসব দর্শন করিলে সহস্র সহস্র পাপ হইতে মুক্তি লাভ হয় ৷ শত কর্ম্ম বিসর্জন করিয়াও দোল দিনে উৎসব করা কর্ত্তব্য ৷ দোলারূঢ় রাধাকৃষ্ণকে দর্শন করিলে তাহারা সুরগন কর্ত্তৃক পুজিত হইয়া বৈকুন্ঠ ধামে হরি সহ বিহার করেন ৷                                                                  ব্রতীজন প্রাতঃক্রিয়া সমাধা করিয়া নিত্যপূজা করনান্তে দোল উৎসব করিবে ৷ দোল  যাত্রার্থ বিশেষ প্রকারে নৈবেদ্য প্রভৃতি প্রদান পূর্ব্বক বৈষ্ণবগনের সন্মান করত নৃত্যগীতাদি করাইতে হয় ৷ নিরাজন পূর্ব্বক হরি গাত্রোপরি বিচিত্র গন্ধানুলেপ- চুর্ন সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রক্ষেপ করিবে ৷ এইরূপে প্রার্থনা, নমস্কার নিরাজন করিয়া প্রসাদ বিতরন করিবে ৷ সক্ষম হইলে একমাস এই উৎসব করিবে ৷

                          " হরেকৃষ্ণ "                           

সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২

রাম নবমী কবে কখন কিভাবে পালন করতে হয় ? এবং এর মাহাত্ম্য কি ?

 


      চৈত্রের শুক্লা নবমী তিথিতে একমাত্র পরমব্রহ্ম রঘুকুল ধুরন্ধর রাম আবির্ভূত হইয়াছিলেন ৷ সেই দিনকেই বলা হয় রামনবমী ৷ সুতরাং তদ্দিনে উপবাস ব্রতাদির অনুষ্ঠান কর্ত্তব্য ৷ঐ তিথি পুনর্ব্বসুযুক্ত হইলে নিখিল কামফল প্রদাত্রী হইয়া থাকেন ৷ মধ্যাহ্ন সময়ে পুনর্ব্বসুর যোগ হইলে, ঐ তিথি মহা পূণ্যস্বরূপা হন ৷ হরিপরায়ন ব্যক্তিরা অষ্টমী বিদ্ধা নবমী বর্জ্জন পূর্ব্বক শুদ্ধা নবমীতে উপবাসী থাকিয়া দশমীতে পারনা করিবেন ৷

    রাম নবমীর মাহাত্ম্য -- শ্রীরামনবমী কোটি সূর্য্য- গ্রহন অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ৷ শ্রীরাম নবমী দিবসে ভক্তি সহকারে রামের উদ্দেশে যে কোন কর্ম্ম করা যায় তাই ভববন্ধন ছেদনের হেতু হয় ৷ অতদ্রিত হইয়া রামনবমীতে উপবাসী থাকিলে সেই ব্যক্তিকে আর জননী জঠরে প্রবেশ করতে হয় না এবং তিনি নিঃসন্দেহে রঘুনাথের প্রিয়পাত্র হন ৷ সুতরাং রাম নবমী ব্রতানুষ্ঠান পূর্ব্বক নিখিল পাতক হইতে বিমুক্ত হইয়া সনাতন ব্রহ্ম রঘুবরকে লাভ করা সকল ব্যক্তির পক্ষেই উচিত ৷ ভক্তি সহকারে রামনবমী ব্রতে উপবাসী থাকিলেই কৃতকৃত্য হইয়া নিখিল পাতক হইতে পরিত্রান পাইতে পারে ৷


                       " জয় শ্রীরাম "

                     " জয় সীতারাম "


শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০২২

ভগবানকে অগুর, চন্দন, কর্পূর ও তুলসী কাষ্ট ইত্যাদি গন্ধ লেপন করার নিয়ম কি ? এবং কোন গন্ধ লেপন করলে কি ফল হয় ?


       গন্ধ = চন্দন, অগুরু, কর্পূর, কস্তূরী, কুঙ্কুম ইত্যাদি সমস্তের নামই গন্ধ ৷ দুই ভাগ কস্তূরী, চার ভাগ চন্দন, তিন ভাগ কুঙ্কুম, এক ভাগ কর্পূর একত্র করলে তাকে গন্ধ বলা যায় ৷ উহা সমস্ত দেবগনের প্রিয় ৷ চন্দন বিশুদ্ধ, চন্দন হইতে অগুরু , অগুরু হইতে কৃষ্ণাগুরু, কৃষ্ণাগুরু হইতে কুঙ্কুম অধিক পবিত্র ৷ যেরূপ শালিতন্ডুলের নৈবেদ্য হরির প্রিতিকর তুলসী চন্দনও সেইরূপ ৷ তুলসী কাষ্ঠ ঘর্ষন পূর্ব্বক যদি শ্রীরামের শিরোদেশে প্রধান করা যায়, কর্পূর, অগুরু, কস্তূরী ও কুঙ্কুমও তৎসদৃশ হয় না ৷ ইহা অগস্তসংহিতায় লিখিত ৷ স্কন্ধ পুরানের মতে,শঙ্খে চন্দন গ্রহনপূর্ব্বক দেবদেব জনার্দ্দনের
দেহে লেপন করিলে পরমাত্মা শতবর্ষ যাবৎ পরম সন্তোষ অনুভব করিয়া থাকেন ৷ সমস্ত দ্রব্য একত্র করত হরির অঙ্গে মর্দ্দন করিলে মূখ্য অশ্বমেধ যজ্ঞফল লাভ হয় ৷ মৃগমদ কস্তূরীযোগে শ্রীমূর্ত্তীর কেশপাশের সৌগন্ধ্য  বর্ধন করিলে সর্ব্বকামদ যজ্ঞফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ৷ 
           তুলসীকাষ্ঠ চন্দন =গরুড় পুরানে লিখিত আছে,  যিনি কলিকালে মহাবিষ্ণুকে তুলসীকাষ্ঠ চন্দন অর্পন পূর্ব্বক মালতীকূসুম দ্বারা পূজা করেন
তাকে পুনরায় আর সংসারবন্ধনে বন্দীভূত হইতে হয় না ৷ শ্রীহরিকে তুলসী কাষ্ঠের চন্দন প্রদান করিলে সেই চন্দন অর্চ্চকের পূর্ব্বশতজন্মসঞ্চিত
পাতক নিঃশেষে দগ্ধ করিয়া ফেলে ৷ দেহবিসর্জ্জন
কালে যাহার শরীরে তুলসী চন্দন লিপ্ত থাকে, সে ব্যক্তি নিজে হরিসারূপ্য প্রাপ্ত হইয়া হরিকে লাভ করিয়া থাকে ৷ কলিযুগে যে ব্যক্তি ভগবদ্ভক্ত হইয়া নিরন্তর হরিকে তুলসীকাষ্ঠ চন্দন প্রদান না করে, সে কদাচ ভগবানের ভক্ত হইতে পারে না ৷ প্রহ্লাদ  সংহিতায় লিখিত আছে, যে ব্যক্তি শ্রীহরিকে  তুলসী কাষ্ঠের চন্দন প্রদান করেন, তৎসদৃশ বৈষ্ণব ধরাতলে লোকমধ্যে আর নাই ৷ তুলসীকাষ্ঠ 
চন্দন সেবন করিলে, বিশেষতঃ মরন সময়ে দেহে লেপন করিলে, পাপী হইলেও তাহার মুক্তি লাভ হয় ৷ যিনি শ্রাদ্ধকালে পিতৃগনের উদ্দেশে তুলসী কাষ্ঠ চন্দন অর্পন করেন, তদীয় পিতৃকুল শতবর্ষ যাবৎ সন্তুষ্ট থাকেন ৷ বিষ্ণুধর্ম্মোত্তরে লিখিত আছে যে, দেহ তুলসী কাষ্ঠচন্দনে অনুলিপ্ত করত হরির অর্চ্চনা করিলে একদিবসের অর্চ্চনাতেই শতবর্ষকৃত অর্চ্চনার ফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ৷ 
 
                           "হরেকৃষ্ণ"

রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শিবরাত্রি ব্রত কথা ও শিবরাত্রির মাহাত্ম্য কি ?



          

           শিবরাত্রি ব্রত কথা -- বৈষ্ণব সম্বন্ধে শিবরাত্রি ব্রতের কোন প্রয়োজন নাই সত্য, তথাপি শ্রীহরির প্রীত্যর্থে সদত এই ব্রতানুষ্ঠান বৈষ্ণবগনেরও কর্ত্তব্য ৷ ফাল্গুনী কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী তিথীতেই এই ব্রত করিবে ৷ পদ্মপুরানে লিখিত আছে , কি সূর্য উপাসক, কি বৈষ্ণব, কি অন্য দেবোপাসক, যে কেহ হউন না শিবরাত্রি বিমুখ হইলে তৎকৃত পূজা ফলবতী হয় না ৷ এই ব্রতে অবহেলা করিলে কি দোষ ঘটে তাহা মুনিদের প্রতি শ্রীহরি বলিয়াছেন৷ -- হরি পরায়ন ব্যাক্তির বৈকুন্ঠ গতি হয় সত্যি কিন্তু শিবদেষী না হইলে ঐ বিষ্ণুধাম প্রাপ্তি হয় ৷ শিবের নিন্দা করিয়া আমার অর্চ্চনা করিলে ও দশ হাজার সংখ্য নরকে গমন করিতে হয় ৷ হরি বলিয়াছেন আমার ভক্ত শিব দ্বেষী বা শিব ভক্ত আমার দ্বেষী হইলে চন্দ্র সূর্য স্থিতিকাল পর্যন্ত নরকে পচতে হয় ৷ আরও বলিয়াছেন যিনি শিব তিনিই আমি এবং যে আমি সেই শিব ৷ আকাশ ও বায়ুর মত আমাদেরও অভেদ বুঝিবে ৷

      শিবরাত্রি ব্রত কাল নির্নয় ও ব্রতবিধি --- মাঘ ও ফাল্গুন মাসের মধ্যবর্ত্তী কৃষ্ণা চতুর্দ্দশীই শিবরাত্রি বলিয়া প্রথিত ৷ এই তিথি নিখিল যজ্ঞ অপেক্ষা প্রধান ৷ ধরাতলে স্থাবর বা চরে যত শিবলিঙ্গ আছে , এই চতুর্দ্দশী তিথির নিশা- যোগে দেবদেব মহাদেব সেই সমুদয়ে অধিষ্ঠিত হন ৷ এইজন্য ঐ চতুর্দ্দশী তিথিকে শিবরাত্রি বলা হয় ৷ পূর্বদিন সংযম থাকিয়া চতুর্দ্দশী দিন উপবাস করিতে হয় ৷ তবে ত্রয়োদশী বিদ্ধা চতুর্দ্দশী অবশ্যই পরিত্যাগ করিবে ৷যদিও পরের দিন অমাবস্যাযোগ হয় তবুও অমাবস্যা সংযুক্ত চতুর্দ্দশী ব্রত পালনই কর্তব্য ৷ শিবরাত্রি ব্রতে উপবাস, রাত্রিকালে শিবপূজা ও জাগরন এই তিনটি অনুষ্ঠান করাই কর্তব্য ৷

       ব্রতী ব্যক্তি পবিত্রভাবে সন্ধ্যাকালে শিবমন্দিরে গিয়া আচমন পূর্ব্বক শিবসন্মূখে সঙ্কল্প করিবে, তৎপরে পূজায় প্রবৃত্ত হইতে হয় ৷ পঞ্চাক্ষর (নমঃ শিবায়) মন্ত্রে ক্ষীরাদি দ্বারা ও বিশুদ্ধ বারিধারা দ্বারা মহাদেবকে স্নান করাইবে ৷ বিধানে গন্ধ, পূস্প, বেলপাতা, তিল ইত্যাদি দ্বারা অর্চ্চনা শেষ করিয়া ধূপদীপ অর্পণ পূর্ব্বক শঙ্খে করিয়া অর্ঘ্য প্রদান করিবে ৷ পরে আচার্য্যেকে অর্চ্চনা ও দক্ষিনা অর্পণ করিবে এবং বিধানে জাগরন পূর্ব্বক প্রাতে পারন করিতে হয় ৷

         শিবরাত্রির মাহাত্ম্য ---- লিঙ্গপূজা ও জাগরনাদি করাতে পাপরূপ ব্যাধও পরিত্রাণ পাইয়াছিল ৷ জনৈক চন্ডাল শিবরাত্রি অজ্ঞাত থাকিয়াও অনাদিলিঙ্গের পূজা, উপবাস ও জাগরনফলে নিষ্কলুষ হইয়া শিবের পারিষদ ভক্ত হইয়া ছিলেন ৷ চতুর্দ্দশিতে উপবাসি হইয়া হরপূজা করিয়া নিশাজাগরন করিলে আর পুনর্জ্জন্ম হয় না ৷ বৈষ্ণব হইয়া শিবরাত্রি ব্রত করিলে শিবের কৃপায় শ্রীহরির প্রতি প্রেমভক্তি বর্দ্ধিত হইয়া থাকে ৷ 

                                        " ওঁ নমঃ শিবায় "

মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

তুলসী পাতা খেলে কি হয় ? তুলসী পাতা ভক্ষনের মাহাত্ম্য কি ?

 

   

  যমরাজ যে ব্যক্তির বদনে, মস্তকে ও কর্নে তুলসীদল নিরীক্ষন করেন, তদীয় পাপ মার্জ্জনা করিয়া থাকেন ৷ শতচান্দ্রায়ন না করিলেও ত্রিসন্ধ্যা তুলসীদল ভক্ষন দ্বারা তদপেক্ষা অধিকতর দেহশোধন হয় ৷ তুলদল ভক্ষন করিলে দেহাবসানে পাতকীর ও শুভগতি প্রাপ্তি হয় এবং চন্ডালেরও দেহস্থ পাপ একবারে ভস্মীভূত হইয়া যায় ৷ শুক্ল ও কৃষ্ণবর্ণ গঙ্গা যমুনার জল যেমন নিখিল পাপ দূর করে, তদ্রুপ তুলসীদল ভক্ষন দ্বারাও অখিল কামনা পূর্ণ হয় ৷ প্রবল অগ্নি দ্বারা কাননাদি দাহের ন্যায় তুলসীদল ভক্ষন দ্বারা অখিল পাপ ভস্মীভূত হইয়া থাকে ৷ প্রত্যহ হরিভক্তিতে নিরত থাকিলে  যেরূপ পাপ ধ্বংস হয় তদ্রুপ তুলসীদল ভক্ষন করিলেও অর্জিত সমস্ত পাতক নষ্ট হইয়া থাকে ৷ যাবৎ মানবের বদনে ও শীর্ষে তুলসীদল বিরাজিত না হয়, তাবৎ তদীয় দেহে পাতক বিদ্যমান থাকে ৷ অমৃত হইতে সমুদ্ভুতা ধাত্রী, হরিপ্রিয়া তুলসী, এই উভয়কে স্মরন, কীর্তন, চিন্তন ও ভক্ষন করিলে উহারা নিখিল কামদায়িনী হইয়া থাকেন ৷ ভগববান যমকে বলিয়াছেন যে ব্যক্তি কোন কালে কিছুমাত্র পুণ্যসঞ্চয় করে নাই, অথচ নিখিল মহাপাপে লিপ্ত, তুলসীপত্র ভক্ষন করিলে তাহারও মুক্তি লাভ হয় ৷ ব্যাধ স্বীয় দেহে তুলসীদল ভক্ষন করিয়া প্রান পরিহারান্তে নি:সন্দেহ মদীয় লোকে গমন করিয়াছে ৷  পবিত্রা দ্বাদশী তিথীতে উপবাসী থাকিয়া পারনদিনে তুলসীদল ভক্ষন করিলে অষ্টসংখ্য অশ্বমেধানুষ্ঠানের ফল হইয়া থাকে এবং তুলসীর পতিত দল ও বিগলিত সলিল পবিত্র করে আর তুলসীমূলগত মৃত্তিকা ভালতটে লগ্ন হইলে নিখিল পাপ বিদূরিত হইয়া যায় ৷ তুলসীদলের মাহাত্ম্য এবংবিধ হইলেও বৈষ্ণবেরা শ্রী হরিকে প্রদান না করিয়া উহা কদাচ গ্রহন করিবেন না ৷  

                                  "জয় বৃন্দাজী"

বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

গুরুদেবের মাহাত্ম্য কি ও গুরুর পদাশ্রয় বর্নন

 

     

       ভগবান বলিয়াছেন, প্রথমত: গুরুদেবের অর্চ্চনা করিয়া পরে আমার পূজা করিলে সিদ্ধি  লাভ হয়, অন্যথা পূজা ফলবতী হয় না ৷ নারদও বলিয়াছেন যে, গুরুদেবের সমীপে বিদ্যমান থাকিতে যে ব্যক্তি প্রথমে অপরের পূজা করে, সে দূর্গতি প্রাপ্ত হয় এবং তদীয় পূজাও কোন ফল লাভ হয় না ৷ ভগবানের প্রতি যাহার পরমা ভক্তি আছে এবং ভগবানের প্রতি যেরূপ, গুরুদেবের প্রতিও যাহার সেইরূপ ভক্তি, সেই মহাত্মাই পঞ্চম পুরুষার্থ কৃষ্ণপ্রেম বোধগম্য করিতে পারেন ৷ তাই গুরুর পদাশ্রয় বর্ননে বলছে---

       আশ্রয় করিয়া বন্দি শ্রীগুরুর চরন

            যাহা হইতে মিলে ভাই কৃষ্ণ প্রেমধন ৷

       জীবের নিস্তার লাগি নন্দসুত হরি

                ভূবনে প্রকাশ হন গুরু রূপ ধরি ৷

      মহিমায় গুরু কৃষ্ণ এককরি জান

                গুরু আজ্ঞা হ্নদে ধরি সত্য করি মান ৷

      সত্যজ্ঞানে গুরুবাক্যে যাহার বিশ্বাস 

               অবশ্য তাহার হয় বৃন্দাবনে বাস ৷ 

      গুরু বলি স্বীকার করে যদি পরিত্যাগ করে

          সে অধম অনন্ত নরক ভোগ যে করে ৷

     গুরুদেব মূর্খ হউক হউক বা বিদ্বান

          শিষ্য তাতে ভাবিবেক যেন জনার্দ্দন ৷

    গুরুদেব করে যদি বেশ্যায় গমন 

           তথাপি জানিবে তারে পতিতপাবন ৷

      গুরুকে মনুষ্য জ্ঞান না কর কখন

             গুরু নিন্দা কভূ কর্নে না কর শ্রবন ৷

     গুরু নিন্দুকের মুখ কভু না হেরিবে

             যথা হয় গুরু নিন্দা তথা না যাইবে ৷

     গুরু মাতা গুরু পিতা গুরু হন পতি

            গুরু বিনে এ সংসারে নাহি আর গতি ৷

     কৃষ্ণ রুষ্ট হলে গুরু রাখিবারে পারে 

             গুরু রুষ্ট হলে কৃষ্ণ রাখিবারে নারে ৷

      গুরু পাদপদ্মে রহে যার নিষ্ঠা ভক্তি 

             জগৎ তারিতে সেই ধরে মহাশক্তি ৷

     হেন গুরুর পাদপদ্ম করহ বন্দনা

             যাহা হৈতে ঘুচে ভাই সকল যন্ত্রনা ৷

       আমার মত পাপী গুরু নাহি এ সংসারে

             তুমি পতিতপাবন গুরু কৃপা কর মোরে ৷

       গুরু পাদপদ্ম নিত্য যে করে বন্দন

              শিরে ধরি বন্দি আমি তাহার চরন ৷৷

                         "জয় গুরুদেব"

     

       

            




শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

হিন্দু বিবাহ কত প্রকারে হয় ? হিন্দু বিবাহ কয় প্রকার কি কি ? ইহাদের ব্যখ্যা কি ?


হিন্দু বিবাহ মতে আট প্রকারের বিবাহ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে ৷ 
যেমন ১: ব্রাহ্ম  ২: দৈব  ৩: আর্য  ৪: প্রাজাপত্য  ৫: আসুর ৬: গান্ধর্ব্ব  
৭: রাক্ষস ৮: পৈশাচ ৷ 

(১) ব্রাহ্ম  - কন্যাকে মূল্যবান বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করিয়া এবং অলংকারাদি
 দ্বারা সন্মানিত করিয়া, বিদ্যা ও সদাচার সম্পন্ন বরকে স্বয়ং আমন্ত্রন করিয়া যে কন্যাদান তাকে ব্রাহ্ম বিবাহ বলে ৷

(২) দৈব -  জ্যোতিষ্টোমাদি যজ্ঞের পর সেই যজ্ঞে কর্ম্মকর্তা পুরোহিতকে সালংকৃতা কন্যাদানকে দৈব বিবাহ বলে ? 

(৩) আর্য - যাগাদি অবশ্য কর্ত্তব্য ধর্ম্মের নিমিত্ত বরের নিকট হইতে গো বলী বর্দ্দ এক যুগ বা দুই যুগই হউক, গ্রহন করিয়া তাহাকে যে বিধিবৎ কন্যাদান - তাহাকে আর্য বিবাহ বলে ৷

(৪) প্রাজাপত্য  - "তোমরা উভয়ে গার্হস্থ্য ধর্ম্মের আচরন কর" এই অনুরোধ করিয়া যথাবিধি অলংকারাদি দ্বারা অর্চ্চনা পূর্ব্বক বরকে যে কন্যা দান, তাকে প্রাজাপত্য বিবাহ বলে ৷

(৫) আসুর -  শাস্ত্র মতে নয়, পরন্ত্ত স্বেচ্ছা মতে কন্যার পিতা ও কন্যাকে ধন দিয়া যে কন্যা গ্রহন তাকে আসুর বিবাহ বলে ৷

(৬) গান্ধর্ব্ব -  কন্যা ও বর উভয়ের পরস্পর অনুরাগ বশত যে মিলন হয় তাহাকে গান্ধর্ব্ব বিবাহ বলে ৷

(৭) রাক্ষস -  কন্যা পক্ষীয় লোক দিগকে হনন করিয়া, ছেদন করিয়া, তাহাদিগকে গৃহ ভেদ করিয়া "হা হতোস্মি" বলিয়া রোরুদ্যমানা কন্যাকে
হরন করিয়া যে বিবাহ তাহাকে রাক্ষস বিবাহ বলে ৷

(৮) পৈশাচ -  নিদ্রায় অভিভূতা, মধ্যপানে বিহ্বলা বা উন্মত্তা স্ত্রীলোকে অভিগমনকে পৈশাচ বিবাহ বলে ৷

**  ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য ও প্রাজাপত্য এই চারি প্রকার বিবাহ সর্ব্ববর্ণ পক্ষে প্রশস্ত এবং ধর্ম্মজনক ৷

** আসুর, গান্ধর্ব্ব ও রাক্ষস বিবাহ কেবল ক্ষত্রিয় পক্ষে প্রশস্ত এবং
ভোগজনক ৷

** পৈশাচ বিবাহ ভোগ জনক এবং সকল বিবাহ হইতে অত্যন্ত অধম ও
নিক্রিষ্ঠ ৷
                                    "হরে কৃষ্ণ" 

মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শ্রীমতি রাধারানীর বিবাহ উদ্যোগ কিভাবে হয়েছিল ? এবং রাধাকৃষ্ণের নামের মহিমার বর লাভ কিভাবে হল ?

 


শ্রীমতী রাধারানীকে বিবাহ যোগ্য সময় মনে করিয়া পিতা বৃষভানু রাজা সকল রাজ্যে রাজ্যে বিবাহ যোগ্য বর অন্বেষন করিতে দূত প্রেরন করিলেন ৷ সমগ্র দেশ দেশান্তর ভ্রমন করিয়া দূত এসে বলল - কোশল দেশ নিবাসি মাল্যক নামে এক গোপরাজ ও তাহার পত্নী জটিলা আছেন ৷ তাদের চার পুত্র মদন, দূর্ম্মদ, দম ও আয়ান ৷ এবং তিন কন্যা যশোদা, কুটিলা ও প্রভাকরী ৷ মাল্যকের পুত্র মদন মিত্রদক্ষ গোপের কন্যা অলম্ভুষাকে, দূর্ম্মদ বসুসেন গোপের কন্যা সুদেবীকে ও দম যামুন গোপের কন্যা গন্ধবতীকে বিবাহ করেন ৷ মাল্যকের কন্যা যশোদাকে ব্রজরাজ নন্দ, কুটিলাকে প্রদ্যুম্ন গোপ ও প্রভাকরীকে হেম নামক গোপের কাছে সম্প্রদান করেন ৷ সেই মাল্যকের কনিস্ঠ পুত্র আয়ানই আপনার কন্যা যোগ্য উত্তম বর ৷ তখন বৃষভানু রাজা পরিবারের সকলকে জানাইয়া বিবাহের আয়োজন করিতে লাগালেন ৷ শ্রীমতি রাধিকা এই কথা শ্রবন করিয়া অতিশয় ভয়, চিন্তিত ও বিষন্ন চিত্তা হইয়া পড়িলেন এবং ভাবতে লাগিলেন আমার প্রানের পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণকে কিভাবে এই বিবাহের কথা বলা যায় ৷ তখন রাধা আপনার সখীগনকে আহবান করিয়া কাত্যায়নী ব্রতের ছলে শ্রীকৃষ্ণ আরাধনার ইচ্ছায় কালিন্দী তীরে উপস্থিত হইলেন ৷ শ্রীরাধিকা পরম নিয়মে অবস্থিতা হইয়া জগতের নাথ শ্রীকৃষ্ণকে পতিভাবে লাভ করিবার নিমিত্ত আরাধনা করিতে লাগিলেন ৷ অত্যন্ত কঠোর আরাধনার ফলে, শ্রীপতি ভগবান কৃষ্ণ তাহার সম্মুখে আবির্ভূত হইলেন ৷ প্রেমগর্ভ সুমধুর রসপূর্ণ গম্ভীর বাক্যে হাসিতে হাসিতে শ্রীহরি শ্রীরাধাকে কহিতে লাগিলেন- হে সুরেশ্বরী তুমি তপস্যার বিরাম কর ৷ উগ্রতপ দ্বারা আমাকে ও ত্রিলোককে তাপযুক্ত করিহ না ৷ আমি তোমার ক্রীত দাসের ন্যায় বাধ্য হইলাম ৷ এখন আমার নিকট বর চাও ৷ অতি বিনয় পূর্বক মানসোপচারে প্রনাম এবং পূজা করিয়া শ্রীমতি শ্রীকৃষ্ণকে কহিলেন - হে ভগবন্ আমি অত্যন্ত ভীত , আমি তোমার দাসী ৷আমার পিতা আয়ান গোপের কাছে আমাকে সম্প্রদান করিতে সম্মত হইয়াছে ৷ আমি তৎপরায়না, তুমি ভিন্ন অন্য ক্ষুদ্র মানবে আমাকে বিবাহ করিতে যোগ্য নয় ৷ অনুগ্রহপূর্ব্বক তুমি আমাকে বিবাহ কর ৷ নচেৎ আমি বৃহৎ শিলা কন্ঠে বর্দ্বন করিয়া অগাধ সমুদ্রে নিপতিত হইয়া প্রান ত্যাগ করিব ৷ এই কথা শুনিয়া শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে আপনার কোলে বসাইয়া স্বীয় পীতাম্বরের অঞ্চল দ্বারা নয়ন যুগল মার্জনা করিয়া সুমধুর বাক্যে আশ্বাস করিলেন ৷ তুমি যে আয়ান কর্ত্তৃক পরিনীতা হইবার ভয় করিতেছ সে আয়ান আমারী অংশ , সে ক্ষুদ্র মানব নহে ৷ শ্রীমতী কহিলেন সে তোমার আত্মজ হয় হউক তথাপি সে আমার পানি গ্রহন করিলে আমি তোমার সাক্ষাতেই প্রানত্যাগ করিব ৷ ভগবান বলিলেন হে রাধে পূর্ব্ব বাক্য কদাচ মিথ্যা হইবে না ৷ তবে তোমার মনের উত্তাপ যে উপায়ে নাশ হয় তাহা আমি বলিতেছি শ্রবন কর ৷ আমার মাতুল আয়ান, তাহার বিবাহ দর্শনার্থে মাতা যশোদার সহিত আমি মাতুল গৃহে গমন করিব, মাতার ক্রোড় হইতে বিবাহের সময় মাতুলের অংকগত হইব ৷ শঠতা দ্বারা আয়ানকে তখন পুরুষত্ব হইতে নপুংসক করিব ৷ যেহেতু আমি আয়ানের কোলে অবস্থান করিব সেহেতু বিবাহের উপকরন তোমা হইতে আমিই গ্রহন করিব ৷ তখন তোমার আমার মনোবাসনা সিদ্ধ হইবে ৷ আমাদের গোপন রহস্য লোকে না জানিয়া তোমাকে আয়ানের পত্নী বলিয়া জানিবে ৷  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে বলিলেন হে রাধে আমি তোমার প্রতি প্রীতিযুক্ত হইয়া আরও একটি বর প্রদান করিতেছি এই যে- আমার নাম চিন্তক জনেরা তোমার রাধানাম পূর্বে সংযুক্ত করিয়া সর্ব্বদা কৃষ্ণনাম স্বরন করিবে ৷ যে সকল জ্ঞানবান ব্যাক্তি অগ্রে রাধানাম পরে কৃষ্ণনাম নিত্য স্বরন করিবে সে পরম মোক্ষ লাভ করিবে ৷ যে ব্যাক্তি ত্রিসন্ধ্যা রাধাকৃষ্ণ যুগল নাম জপ করে সে গোহত্যা, ব্রহ্মহত্যা, স্ত্রীহত্যা, শিশু হত্যা, বিশ্বাস ঘাতকাদি সমস্ত পাপ তাহার বিনাশ হইবে ৷ সুরাপান, শুক্র বিক্রয় কারক, অগম্যা স্ত্রী গমন কর্ত্তা, শূদ্রাদির স্ত্রী সম্ভোগ কৃত ব্রাহ্মন ও স্বর্নাপহারী ব্যক্তি রাধাকৃষ্ণ যুগল নাম উচ্চারনের ফলে পাপে মুক্ত হইয়া পরামুক্তি লাভ করিবে ৷ আর যদিও মোহ প্রযুক্ত বা ব্যাঙ্গোক্তি ক্রমে পরিহাস ছলে কেহ আমার নাম অগ্রে উচ্চারন করত পরে তোমার রাধা নাম স্বরন করে তাহলে সে ভ্রুনহত্যা, ব্রহ্মহত্যা জনিত সমস্ত পাপে পাতকী হইতে হইবে এবং কোটি জন্মকৃত পূন্যরাশি তৎক্ষন মাত্রে বিনস্ট হইবে ৷ এইরূপ মধুরালাপ দ্বারা জনার্দ্দন শ্রীকৃষ্ণ নিজ প্রিয়া রাধাকে বিস্তর আশ্বাস করিয়া প্রেমভাবে স্বীয় পরিধৃত কনক কৌপিনাঞ্চলে তাহার গাত্র মার্জনা করিতে করিতে ক্ষনমাত্রে অন্তর্দ্ধান হইলেন ৷ 
"হরেকৃষ্ণ"

সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২

অধিবাসের পদাবলী কীর্তন ৷ পদাবলী কীর্তন দ্বারা অধিবাস ৷

   


 ও  একদিন পহুঁ আসি  অদ্বৈত মন্দিরে বসি

                      বলিলেন শচীর কুমারে ৷

         নিত্যানন্দ করি সঙ্গে  অদ্বৈত বসিয়া রঙ্গে 

                       মহোৎসবের করিলা বিচার ৷৷

       শুনিয়া আনন্দে আসি   সীতা ঠাকুরানী হাসি 

                        কহিলেন মধুর বচন রে ৷

       তা শুনি আনন্দ মনে   মহোৎসবের বিধানে

                      কহে কিছু শচীর নন্দন রে ৷৷

     শোন ঠাকুরানী সীতা    বৈষ্ণব আনিয়ে হেথা

                      আমন্রন করিয়া যতনে ৷

       যেবা গায় যে বাজায়    আমন্রন করি তায়

                      পৃথক পৃথক জনে জনে ৷৷

        এত বলি গোরা রায়  আজ্ঞা দিলা সবাকায়

                     বৈষ্ণব করহ আমন্রনে ৷

           খোল করতাল লৈয়া    অগুর চন্দন দিয়া

                      পূর্নঘট করহ স্হাপন রে ৷৷

        আরোপন করি কলা  তাহে বান্ধ ফুলমালা

                       কীর্তন মন্ডলী কুতুহলে ৷

            সুমাল্য চন্দন গুয়া    ঘৃত মধু দধি দিয়া

                      খোল মঙ্গল সন্ধ্যাকালে ৷৷

       শুনিয়া প্রভুর কথা প্রীতে বিধি কৈল যথা

                    নানা উপহার গন্ধবাসে রে ৷

             সবে হরি হরি বলে    খোল মঙ্গল করে

                    পরমেশ্বর দাস রসে ভাসে রে ৷৷ 

        

      নানা দ্রব্য আয়োজন   করি করে আমন্রন                        কৃপা করি কর আগমন রে ৷

      তোমরা বৈষ্ণবগন   মোর এই নিবেদন

                 দৃস্টি করি কর সমাপন রে ৷৷

        করি এত নিবেদন   আনিল মহান্তগন

                  কীর্তনের করি অধিবাস ৷

       বৈষ্ণবের আগমন   গৃহে নাম সংকীর্তন

                 কালি হবে কীর্তন বিলাস ৷৷


         আগে রম্ভা আরোপন   পূর্নঘট স্থাপন

                  আম্র পল্লব সারি সারি ৷

         দ্বিজ বেদধ্বনি পড়ে   নারীগন জয় কারে

                  আর সবে বলে হরি হরি ৷৷

         দধি ঘৃত মঙ্গল   করি সবে উতরোল

                  করয়ে আনন্দ পরকাশ ৷

        আনিয়া বৈষ্ণবগন    দিয়া মালা চন্দন

                   কীর্তন মঙ্গল অধিবাস ৷৷

        সবার আনন্দ মন   বৈষ্ণবের আগমন

                  কালি হবে চৈতন্য কীর্তন রে ৷

         শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম   শ্রী নিত্যানন্দ রাম

                 গুন গায় বৃন্দাবন দাস রে ৷৷



                    জয় জয় নবদ্বীপ মাঝ ৷

    গৌরাঙ্গ আদেশ পাঞা   ঠাকুর অদ্বৈত যাঞা

                   করে খোল মঙ্গলের সাজ ৷৷

        আনিয়া বৈষ্ণব সব    হরিবল কলরব

                মহোৎসবের করে অধিবাস ৷

       আপনে নিতাই ধন   দেই মালা চন্দন    

               করে প্রিয় বৈষ্ণব সম্ভাষ ৷৷

    গোবিন্দ মৃদঙ্গ লইয়া বাজায় তাতা থৈয়া থৈয়া

              করতালে অদ্বৈত চপল রে ৷

   হরিদাস করে গান   শ্রীবাস ধরয়ে তান 

             নাচে গোরা কীর্তন মঙ্গল রে ৷৷

    চৌদিকে বৈষ্ণবগন   হরিবলে ঘনে ঘন

         কালি হবে কীর্তন মহোৎসব রে ৷

     আজি খোল মঙ্গলী   রাখিয়ে আনন্দ করি

            বংশী বলে দেহ জয় রব রে ৷

                     "হরে কৃষ্ণ"

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২

বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আবির্ভাব তিথি কখন কবে ?


 বসন্ত পঞ্চমী বড় মধুর তিথি ৷ এই দিনে প্রকৃতি নুতন মাধুরী লইয়া জীবের মনরঞ্জন করে এবং প্রানে অপ্রাকৃত নব নব ভাবের সঞ্চার করিয়া দেয় ৷ এই জন্য এই তিথিকে শ্রীপঞ্চমী বলা হয় ৷ এ হেন মধুময়ী তিথিতে পরম প্রেমমূর্ত্তী শ্রী শ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া জগতে অবতীর্ন হন ৷ এই দিনে সকল বিদ্যার অধিস্ঠাত্রী পরমজ্ঞানস্বরূপিনী দেবী সরস্বতীর পূজা হইয়া থাকে ৷ শ্রীশ্রী সরস্বতী দেবী জীবের অজ্ঞানতমঃ নাশ করিয়া জ্ঞানলোক প্রদান করেন ৷ ইহার কৃপায় জ্ঞানচক্ষুঃ উন্মীলিত হইলে শ্রী ভগবান কি বস্তু , জীব তাহা জানিতে সমর্থ হয়, এবং তাহার পরই জীবের ভক্তি ও প্রেমের উদ্রেক হয়, তখন মানব পঞ্চম পুরুষার্থ প্রেম পাইয়া ধন্য হইয়া যায় ৷ তাই এই তিথী জীবের নিকট পরম শুভ তিথি এই দিনের স্মরনে পর্যন্ত প্রানে অপার ১১আনন্দের সঞ্চার হয় ৷                              ১৪১৭ শকে অর্থাৎ ১৪৯৫ খ্রীস্টাব্দে দেবী জন্ম গ্রহন করেন ৷ ইহার পিতার নাম সনাতন মিশ্র, মাতার নাম মহামায়া ৷ দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া যখন ভুমিষ্ঠ হন তখন শ্রী গৌরাঙ্গের বয়স ১০ বৎসর ৷ হরিবল  হরেকৃষ্ণ  ৷

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বংশী, নূপুর, গুঞ্জামালা, শিখিপুচ্ছ — এরা কৃষ্ণ অঙ্গের ভূষন কিভাবে হইল ? এরা পূর্ব্বজন্মে কে কে ছিলেন ? কি পূণ্যের ফলে এরা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গের ভূষন হইল ?

              একদিন নারদ মুনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন , অন্যান্য সকল ভক্ত হতে কি কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিখিপুচ্ছ, গুঞ্জামালা,  ন...